অনেক কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ


অথর
ক্রিকেট ডেক্স   ক্রীড়া অঙ্গন
প্রকাশিত :১০ জুলাই ২০১৯, ৮:২২ পূর্বাহ্ণ
অনেক কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ

দশটা দলের মধ্যে অষ্টম স্থানে থেকে শেষ করেছে বললে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযানকে যথাযথভাবে ধরা যাবে না। এবারের বিশ্বকাপ বহু কারণে বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আসরের লিগ পর্বের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেমিফাইনালের আশা জিইয়ে রেখেছিল। ভারত আর পাকিস্তানের কাছে হারার ফলে সে আশা শেষ হয়ে যায়। পয়েন্ট তালিকায় এক ধাক্কায় অনেকটা নেমেও যেতে হয় তাদের। তবে তার আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলকে হারিয়ে বাংলাদেশ প্রমাণ করে দিয়েছে, বিশ্ব ক্রিকেটের মহাসাগরে তারা আর চুনোপুঁটি নয়।

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত না হলে বা নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয় ছিনিয়ে নিতে পারলে ২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য অন্যরকম হতে পারত। ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও তারা লড়ে হেরেছে ঠিকই, কিন্তু প্রথম সারির দলগুলোর সঙ্গে তাদের ব্যবধান বেশ বোঝা গেছে। তবে বিশ্বকাপ ভবিষ্যতের তারকাদের চিনে নেওয়ার মঞ্চও বটে। সেদিক থেকে দেখলে এবারের টুর্নামেন্ট থেকে অনেক কিছু পেয়েছে বাংলাদেশ।

গত এক দশক ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাকিব আল হাসান অন্যতম ভরসার এক নাম। এই বিশ্বকাপ প্রকৃত অর্থেই সাকিবের বিশ্বকাপ। ঈর্ষণীয় ধারাবাহিকতার পরিচয় দিয়ে আটটা ম্যাচের ৭টায় তিনি ৫০-এর ওপর রান করেছেন। তাঁর সর্বনিম্ন স্কোর ৪১। বল হাতেও কম সফল নন, আটটা ম্যাচে পেয়েছেন ১১টা উইকেট। গুরুত্বপূর্ণ সব উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের দিকে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছেন একাধিকবার। বিশ্বের এক নাম্বার অলরাউন্ডার সাকিব নিঃসন্দেহে ২০১৯ বিশ্বকাপের প্লেয়ার অব দ্য

টুর্নামেন্ট খেতাবের একজন জোরালো দাবিদার।

তবে বাংলাদেশ এবার পুরোপুরি সাকিব-নির্ভর ছিল বললে অন্যায় হবে। উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিমও ৫০-এর ওপর গড়ে ধারাবাহিকভাবে রান পেয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে লিটন দাসের অপরাজিত ৯৪ ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
তবে এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আসল চমক বোধহয় পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। দু-দুবার পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন টুর্নামেন্টে। মোট উইকেটের সংখ্যা কুড়ি।

মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন তাঁকে যথার্থ সঙ্গত করে গেছেন এবং পুরস্কারস্বরূপ পেয়েছেন ১৩টা উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজ প্রায় প্রতি ম্যাচে বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদের রান নেওয়ার চেষ্টায় জল ঢেলেছেন। সবচেয়ে বড় কথা মুস্তাফিজুরের বয়স মাত্র ২৩, আর বাকিদের আরো কম। ২০১৯ বিশ্বকাপে আগামীদিনের বোলারদের পেয়ে গেছে বাংলাদেশ।

আর সবশেষে

বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কথা আলাদা করে না বললেই নয়। গোটা টুর্নামেন্টে স্টেডিয়ামের ভেতরে এবং বাইরে দলকে যেভাবে অবিরাম উৎসাহ জুগিয়ে গেছেন, তা চোখে পড়ার মতো।

একদিকে যেমন বোলিংয়ে বেশ কিছু নতুন তারকার উদয় হয়েছে, অন্যদিকে ব্যাটিংয়ে কিন্তু ঘুরেফিরে সেই তিন-চারজনের ওপর নির্ভরশীলতা থেকেই গেছে। বাংলাদেশের চার মুখ্য ব্যাটসম্যান মুশফিকুর, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ ও তামিম ইকবাল প্রত্যেকেরই বয়স ৩০ পেরিয়ে গেছে। পরের বিশ্বকাপে এঁদের মধ্যে বেশিরভাগই হয়তো সেরা ফর্মে থাকবেন না। তাই ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে নতুন ব্যাটসম্যান তুলে আনার দিকে নজর দিতে হবে দলের কর্তাদের।

দীর্ঘদিন দলকে নেতৃত্ব দিলেও মাশরাফি মুর্তজার শেষ বিশ্বকাপটা ভালো গেল না। মাত্র একটা উইকেট পেয়েছেন গোটা টুর্নামেন্টে। হয়তো সব ধরনের

ক্রিকেট থেকে অবসরও নেবেন শিগগিরই।
কিন্তু মাশরাফির পর কে? পরবর্তী প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানই বা কে হবেন? লিটন দাস বা সৌম্য সরকার চাইলে দলের ব্যাটিংয়ে ভরসা হয়ে উঠতে পারেন। কিন্তু তাঁরা কি মানসিকভাবে প্রস্তুত?

বিশ্বকাপে ভরাডুবির কারণে স্টিভ রোডসকে বিদায় দেওয়ার পর নতুন কোচের সন্ধানেও রয়েছে বাংলাদেশ।
২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসার পর থেকে মুস্তাফিজকে এখন আর উঠতি তারকা বলা যায় না ঠিকই, তবে এই কবছরে অনেক পরিণত হয়েছেন তিনি। সিমের ব্যবহারে বৈচিত্র্যের জন্য কেউ কেউ তো ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি পেসার সিডনি বার্নসের সঙ্গেও তুলনা করেছেন তাঁর।

চোট-আঘাতের কারণে মাঝেমধ্যেই বাধা পড়েছে মুস্তাফিজুরের খেলায়। তবে ২০১৯ বিশ্বকাপে ২০ উইকেট নিয়ে নতুন রেকর্ড গড়া ছাড়াও তিনি প্রমাণ করেছেন যে ক্ষমতায় তিনি বড় দলের পেসারদের থেকে কোনো অংশে কম যান না। এখন তিনি দলের একজন সিনিয়র, তাই বাড়তি কিছু প্রত্যাশাও থাকবে তাঁর কাছ থেকে।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ফলাফল :
২ জুন : বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা, ওভাল, লন্ডন, বাংলাদেশ জেতে ২১ রানে
৫ জুন : বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড, ওভাল, লন্ডন, নিউজিল্যান্ড জেতে দুই উইকেটে
৮ জুন : বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড, কার্ডিফ ওয়েলস স্টেডিয়ম, কার্ডিফ, ইংল্যান্ড জেতে ১০৬ রানে
১১ জুন : বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা, কাউন্টি গ্রাউন্ড, ব্রিস্টল, ম্যাচ পরিত্যক্ত
১৭ জুন : বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ, কাউন্টি গ্রাউন্ড, টনটন, বাংলাদেশ জেতে সাত উইকেটে
২০ জুন : বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া, ট্রেন্টব্রিজ, নটিংহ্যাম, অস্ট্রেলিয়া জেতে ৪৮ রানে
২৪ জুন : বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান, হ্যাম্পশায়র বোল, সাউথহ্যাম্পটন, বাংলাদেশ যেতে ৬২ রানে
২ জুলাই: বাংলাদেশ ও ভারত, এজবাস্টন, বার্মিংহ্যাম, ভারত জেতে ২৮ রানে
৫ জুলাই : বাংলাদেশ ও পাকিস্তান, লর্ডস, লন্ডন, পাকিস্তান জেতে ৯৪ রানে