আইপিএম ফসল উৎপাদনে সফল নারী জাহানারা


অথর
ডোনেট বাংলাদেশ ডেক্স   কৃষি বার্তা
প্রকাশিত :২৯ মার্চ ২০১৯, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
  • 48
    Shares
আইপিএম ফসল উৎপাদনে সফল নারী জাহানারা

মোছাঃ জাহানারা বেগম এর বয়স ৩৫ বছর। তিনি পশ্চিম সমশ্চুড়া আইপিএম ক্লাবের একজন সদস্য। নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম সমশ্চুড়া আইপিএম স্কুলের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ২০০৪ সালে। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি ৭ম শ্রেণি পাশ। দারিদ্র্যের কারণে তিনি পড়াশুনায় বেশিদূর এগোতে না পারলেও আইপিএম প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর কৃষিক্ষেত্রে এগিয়েছেন অনেকদূর । বসতভিটায় সমন্বিত বাগান ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সবজি উৎপাদন, এডাব্লিউডি ও এসআরআই পদ্ধতি সহ অনেক আধুনিক পদ্ধতিতে ধান ও সবজি উৎপাদন করে তিনি এলাকার অনেকের অনুকরণযোগ্য এবং প্রশংসার পাত্রী হয়ে উঠেছেন। সেইসাথে সংসারে ফিরিয়ে এনেছেন সমৃদ্ধি ও দূর করেছেন আর্থিক অনটন।

আইপিএম স্কুলে প্রশিক্ষণ শেষে গৃহবধু জাহানারা নিয়মিত ভাবে কৃষি কাজে জড়িয়ে পড়েন। সমশ্চুড়া উচু এলাকা হওয়ায় সেচের পানির সংকটের কারণে তিনি সবজি চাষকেই প্রাধান্য দেন। তিনি তার বসত বাড়ির পার্শ্বে মাত্র ২০ শতাংশ জমি নিয়ে শুরু করেন মৌসুমী সবজির চাষাবাদ। এক্ষেত্রে তিনি প্রয়োগ করেন আইপিএম পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজী উৎপাদন প্রযুক্তি, সুষম সার বিশেষ করে গুটি ইউরিয়া ব্যবহার, ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার, সাশ্রয়ী সেচ পদ্ধতি সহ তার ট্রেনিং লব্ধ সকল জ্ঞান। এক্ষেত্রে তার স্বামী তাকে উৎসাহ ও সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদান করেন। প্রতি মৌসুমেই তার উৎপাদিত বেগুন, কুমড়াজাতীয় ফসল (করলা, ঝিঙ্গা, লাউ, চালকুমড়া ইত্যাদি), পুঁইশাক, পাটশাক প্রভৃতি স্থানীয় বাজার সহ আশেপাশের বাজারে বিক্রি শুরু হয়। আসে উল্লেখযোগ্য মুনাফা এবং ধীরে ধীরে পাল্টাতে থাকে তার জীবনমান। নতুন টিনের ঘর ওঠে এবং আসে বিদ্যুৎ ও আধুনিক জীবনযাত্রার সামগ্রী।

জাহানারার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার অনেক কৃষাণি কৃষি অফিসের সহযোগীতায় আইপিএম এবং আইএফএমসি প্রশিক্ষণ গ্রহন করে বিষমুক্ত নিরাপদ ফসল উৎপাদন শুরু করে। ২০১৬ সালে আইএফএমসি প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা কৃষি অফিস হতে ঐ এলাকায় একটি বিজনেস স্কুল স্থাপন করা হলে জাহানারা সহ মোট ২৫ জন কৃষাণি একত্রে বাজার সংযোগ বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরবর্তিতে জাহানারার নেতৃত্বে শুরু হয় সমকালীন চাষাবাদ। কয়েকজন মিলে একত্রে একই জাতীয় ফসল উৎপাদনের এক অভিনব প্রক্রিয়া যার ফলে বীজ প্রাপ্তি, চাষ, অন্তরবর্তীকালীন পরিচর্যা, ফসল সংগ্রহ ও বিপণন সহজতর হয়ে উঠে। বিপণন সহজতর করতে ও ন্যায্য দাম প্রাপ্তির কথা ভেবে তৈরী হয় ছোট ছোট কালেকশন পয়েন্ট। নির্দিষ্ট ফসলের কালেকশন পয়েন্টে নির্দিষ্ট দিনে জমা হয় গ্রুপকরে উৎপাদিত ফসল এবং এখান থেকেই আড়তদাররা ন্যায্য দামে কিনে নিয়ে যান আইপিএম পদ্ধতিতে উৎপাদিত নিরাপদ ফসল।

এখন পশ্চিম সমশ্চুড়া এলাকার অনেক কৃষক পরিবারের জীবন ও জীবিকার মান-এর উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। জাহানারার মত কৃষাণি এবং আইপিএম এর মত আধুনিক ও নিরাপদ প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসল উৎপাদন পদ্ধতি দ্রুততার সাথে ছড়িয়ে পড়ছে নালিতাবাড়ীর অন্যান্য ইউনিয়নে।

No Comment.