আগামীকাল ফাদার মারিনো রিগনের ২য় মৃত্যু বার্ষিকী


অথর
বায়জিদ হোসেন   মোংলা, বাগেরহাট, খুলনা
প্রকাশিত :১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ | পঠিত : 52 বার
  • 45
    Shares
আগামীকাল ফাদার মারিনো রিগনের ২য় মৃত্যু বার্ষিকী

ফাদার মারিনো রিগন এস এক্স এর দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আগামীকাল রবিবার দিনব্যাপী সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়, ফাদার মারিনো রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও মোংলা পোর্ট পৌরসভার যৌথ আয়োজনে নানা কর্মসুচি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ইতালির নাগরিক ফাদার রিগন ১৯২৫ সারের ৫ ফেব্রুয়ারি সেদেশের ভিচেঞ্চায় জন্মগ্রহন করেন। মাত্র ২৮ বছর বয়সে খৃষ্ট্রধর্ম প্রচারে ১৯৫৩ সালের ৭ জানুয়ারি তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকায় আসেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি গোপালগঞ্জের বানিয়ারচর গির্জায় ছিলেন। সে সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তাসহ অসুস্থ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় ও সেবা প্রদানের পাশাপশি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। দেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেশ স্বাধীনের পর তিনি মোংলার শেলাবুনিয়ায় স্থায়ী আবাস গড়ে তোলেন। ফাদার মারিনো রিগন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি অসুস্থ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় ও সেবা প্রদানের পাশাপশি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তাকে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ ২০০৯ সালে সরকার তাকে Friends of Liberation War Honour পদক প্রদান ও বাংলাদেশের সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেয়া হয়। ফাদার রিগন মোংলায় থাকা অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চলাচলের শক্তি হারিয়ে ফেললে ২০১৪ সালো ৭ ফেব্রুয়ারি তার ভাই-বোন এসে তাকে ইতালিতে নিয়ে যান। ইতালিতে মৃত্যু হলে তার লাশ বাগেরহাটের মোংলার সেন্ট পল্স গীর্জার পাশে সমাহিত করতে হবে এই শর্তে তিনি স্বজনদের সাথে ইটালি যেতে রাজী হন। গত বছরের ২০ অক্টোবর ইতালির ভিচেঞ্চায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধৃ ফাদার রিগন। দীর্ঘ সময়ে বাগেরহাটের মোংলায় অবস্থানকালে ফাদার মারিনো রিগন জেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ সেন্টপল্স উচ্চ বিদ্যালয়সহ ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সেন্টপল্স হাসপাতালসহ প্রতিষ্ঠা করেন। নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন সেন্ট পল্স সেলাই কেন্দ্র। যেখান থেকে নারীদের হাতে সেলাই করা নক্সীকাঁথা এখন বিদেশে রফতানি করা হয়। বাগেরহাটের আমজনতার হৃদয় জয় করে নেয়া ফাদার মারিনো রিগন একই সাথে মোংলায় বসে ইতালিয়ান ভাষায় অনুবাদ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলিসহ ৪০টি কাব্যগ্রন্থ, লালন সাঁইয়ের তিনশত পঞ্চাশটি গান, জসীম উদ্দীনের নক্সীকাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট ছাড়াও এদেশের খ্যাতিমান কবিদের অসংখ্য কবিতা।

0 Comment

No Comment.