আড়াইহাজারে মিনি কক্সবাজার খ্যাত বিশনন্দি ফেরিঘাটে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়


অথর
জিয়াউর রহমান জেলা প্রতিনিধি   নারায়নগঞ্জ, ঢাকা
প্রকাশিত :১৫ এপ্রিল ২০১৯, ১২:০৪ অপরাহ্ণ
  • 85
    Shares
আড়াইহাজারে মিনি কক্সবাজার খ্যাত বিশনন্দি ফেরিঘাটে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়

বাংলা নববর্ষ-১৪২৬ উপলক্ষ্যে প্রাচ্যের ডান্ডি নারায়ণগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী আড়াইহাজার উপজেলায় আপনি ও স্বপরিবারে ভ্রমণ করতে পারেন মিনি কক্সবাজার খ্যাত বিশনন্দি ফেরিঘাটে। উৎসব-আনন্দ ও উচ্ছাসের সকল আয়োজন গিয়ে মিশেছিল একটি মোহনায়। সেই মোহনার নাম আড়াইহাজারের বিশনন্দি ফেরিঘাট। যে ফেরীঘাটটি বর্তমানে মিনি কক্সবাজার হিসেবে পরিচিত। মেঘনা নদীর বিশাল জলরাশি, মাতাল হাওয়া। মাথার উপর প্রখর সূর্য্যতাপ। কিছুই রুখতে পারেনি দর্শনার্থীদের বাধভাঙ্গা জোয়ারকে। দলে দলে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুনী, যুবক-যুবতী, প্রেমিক-প্রেমিকা ও কপোত-কপোতিরা হাজির হয়েছিল বিশনন্দি ফেরিঘাটের মেঘনা নদীর তীরে। মেঘনা নদীর তীরেই বালুভরাট করা প্রস্তাবিত কৃষি ইন্সটিটিউট এর বিশাল বালুকাপ্রান্তরে বসেছিল এক মিলন মেলা। আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিনি ট্রাক যোগে ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে তরুণদের দল বালুময় প্রান্তরে নাচগানে মেতে উঠে। কেউ নদীর তীরে সেলফি তোলায় ব্যস্ত ছিল। কেউবা নৌকাযোগে মেঘনা বক্ষে পাড়ি জমায়। কেউবা মেঘনার ওপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় গিয়েও আনন্দ উৎসবে যোগ দেয়। ফেরিঘাট ছিল লোকে লোকারণ্য।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নসিমন, ভটভটি, সিএনজি, মিনিট্রাক, মোটর সাইকেল ও প্রাইভেটকারযোগে তরুণ-তরুণীর দল বিশনন্দি ফেরিঘাটে হাজির হয়। সকাল থেকেই প্রখর রৌদ্রতাপ উপেক্ষা করে এখানে উচ্ছল তারুন্যের ঢল নামে। নতুন জামাকাপড় পরিহিত তরুণ-তরুণীর দল বৈশাখী গান গেয়ে আনন্দ উপভোগ করে। মুখে গাইতে না পারলেও অনেকে সাউন্ড সিস্টেমে হাইভলিয়ূমে বাজাতে থাকে। বাঙালীর হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ঢেউ ঢাকার রমনা বটমূলকে ছাড়িয়ে এখানে আড়াইহাজার উপজেলার মেঘনা নদীর তীরের মানুষগুলোর মধ্যে দোলা দিয়েছে। এই আনন্দের ঢেউ গিয়ে মিশেছে মেঘনা নদীবক্ষে। উচ্ছল প্রাণের ঢেউ কে রুখিতে পারে। কবির এমন পংতিমালাই মূর্ত হয়ে উঠেছিল বিশনন্দিতে।

স্থানীয় কয়েকজন তরুণের সাথে আলাপকালে তাঁরা জানান, পহেলা বৈশাখের অনেক আগে থেকেই আমাদের প্রস্তুতী ছিল। আমরা মেঘনা নদীর তীরের এই বালুময় প্রান্তরে পান্তা-ইলিশের আয়োজন করেছিলাম। আমাদের আয়োজন ছিল অল্প। আমরা এত সারা পাব ভাবতেও পারিনি। দেখুন সেই নরসিংদী, রূপগঞ্জ, ভূলতা, মাধবদীসহ আরো দূরবর্তী এলাকা থেকে তরুণদের দল এসে জড়ো হয়েছে মেঘনা তীরে।’ এ সময় নদীর তীরে চলছিল ব্যান্ড শো। হাইভলিয়ূমের বিটের আওয়াজে কানে তালা লাগার যোগার হয়। কারো কারো হাতে দেখা যাচ্ছিল নানা পানীয়। কিশোর-যুবকদের নাচানাচিতে নদীরে একটু পর পর বাতাসে যেন বালুর ঝড় বয়ে যাচ্ছিল। ডিসকো গানের শব্দে আশপাশের গ্রাম থেকেও কিশোর-তরুণরা এসে যোগ দিচ্ছিল বৈশাখী উৎসবে।

No Comment.