“আমার মা সেরা মা”


অথর
ছোট গল্প ডেক্স   সাহিত্য আসর
প্রকাশিত :৫ মে ২০১৯, ১:০৬ অপরাহ্ণ
“আমার মা সেরা মা”

” মাগো, তোমার কথা আজো ভীষণ মনে পড়ে
মনেই হয় না, তুমি নেই আজ একুশ বছর ধরে।”
কেমন আছো ? তুমি ভালো আছো তো ?? কী হল তোমার, কোন কথা বলছো না কেন ??? কথা বলো মা। জানি মা, আজ যতই ডাকি না কেন আমার কোন ডাকই তুমি শুনবে না। আমার কোন প্রশ্নের উত্তর তুমি আর কোন দিন দিবে না। তবুও তোমাকে আজ আমি বলবো। অনেক কথা তোমাকে বলতে হবে। মনের মাঝে অনেক কথা জমা হয়ে আছে তোমাকে বলার জন্য। AMAR IT. তোমাকে দুটো কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে।তাই কথা বলব,প্রানভরে কথা বলব তোমার সনে।
জানো মা…!

আগামী ১২ই মে’ মাতৃদিবস’।

বিশ্বজুড়ে মায়েদের প্রচুর ভালবাসা আর উপহার দেওয়া হয়। আর হ্যাঁ, ফেসবুক জুড়ে দেখা যায় ‘আই লাভ ইউ মম’-এর আদিখ্যেতা। সঙ্গে অবশ্যই সেলফি। ওহ্! তুমি তো আবার ‘সেলফি’ কি জান না! জানার কথাও নয়। এ শব্দ তো মাত্র কয়েক বছর আগে অক্সফোর্ড ডিকশনারি-তে স্থান পেয়েছে। আর তুমি তো সেই কবেই…না ফেরার দেশে চলে গেলে,,,।তবে, হলফ করে বলতে পারি মা, তুমি আজ থাকলে, পাল্টে যেতে তুমিও। বিয়েবাড়ির সাজে, গয়না পরিহিতা তুমি, পাক্কা আমাকে বলতে— ‘‘একটা ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট কর তো। দেখি কে কী বলে।’

শুনেছো মা!

‘মাদার্স ডে’। যেন এই একটা দিনই মায়ের। এও আবার হয় নাকি! তুমি তো সকল সৃষ্টির উৎস। তা

হলে, মাত্র ২৪ঘণ্টা শুধু তোমার? আসলে তা নয়।
ব্যাপারটা বোধহয় এরকম— ওই একটা দিন তোমাকে ‘স্পেশাল ফিল’ করানো। সকালে উঠে হাসিমাখা মুখে ফুলের তোড়া বা সামান্য কোনও উপহার, সারাক্ষণ হাতে মোবাইল, কানে ইয়ারপ্লাগ, কম্পিউটার স্ক্রিনে চোখ-রাখা সন্তানের থেকে এইটুকুই তোমার কাছে অনেক।

তোমার চাহিদা তো খুবই সামান্য— আমি সুস্থ থাকি, শান্তিতে থাকি, অনেক বড় হই, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হই। তার বদলে একটা দিন সকালে উঠে ছোট্ট একটা ‘উইশ’ করা, কী এমন শক্ত কাজ! মা তুমিতো আমার জীবনের রঙধনু। তোমার হরেক রঙ। কখনও তুমি মমতাময়ী মা, কখনও পথনির্দেশক, বিপদের আশ্রয় আর কখনওবা সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। একই সঙ্গে তোমার নানান রূপ ও রঙ। আর

সেই রঙের আলোকছটা একেকজনের কাছে একেক রকম। মা তুমি শুধু আমার কাছে প্রিয় শব্দই নও-প্রিয় বচন, প্রিয় অনুভূতি, প্রিয় ব্যক্তি, প্রিয় দেখাশুনা, প্রিয় রান্না এবং প্রিয় আদর। যতগুলো প্রিয় আছে তার সব প্রিয়ই শুধুমাত্র তোমাকে কেন্দ্র করেই।

মা, তোমায় কত দিন দেখি না? সাঁঝ ঘনালে উঠানের তারে কাপড় তুলতে, আর বকা ঝকা করতে আর কোন দিন দেখি না। উনুন জ্বলে লাড়কি পুড়ে, সেই স্ফুলিঙ্গে তোমার সুবর্ণ মুখ আর দেখিতে পাইনা মা। ভাতের হাঁড়ির মাড় পড়ে উনুন নিভে যায়, আবার জ্বালাতে সে কি ধোঁয়া? উনুন ঘরটা ভরে যায়। খানিক বাদে
আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে চোখমুখে একচিলতে হাসি ফুটে উঠত। সেই অপূর্ব লাবণ্য

মাখা তোমার মুখ আর দেখতে পাই না মা।মা তুমিই আমার প্রথম স্পর্শ ,প্রথম পাওয়া ,প্রথম শব্দ ,প্রথম দেখা ।তুমি যে আমার ভালবাসার সিন্ধু।উত্তম বন্ধু,ব্যাথার ঔষধ, কষ্টের মাঝে সুখ,চাদের ঝিলিক, স্বর্গের মালিক।তুমি অন্যান্য মা থেকে একেবারে ভিন্ন-পৃথিবীর সমস্ত মা যদি মাটির তৈরি হয়,তবে আমি বলব,আমার মা নুরের তৈরি।তাই, বলতে ইচ্ছে হয়, ” আমার মা সেরা মা”.ভালবাসার ছোঁয়ায় একবার তোমাকে জড়িয়ে ধরে শুধু বলতে ইচ্ছে করে,মা আমি তোমায় অনেক অনেক ভালবাসি, একটু মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে মা ? সারা রাত ঘুম হয়নি।’

“আমার মা সেরা মা”
লেখাঃ মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান
সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি), শাহাবাজপুর ইউ,সি উচ্চ বিদ্যালয়।