ঈদের আনন্দ,আমার ভাবনা


অথর
শিক্ষক নিউজ ডেক্স   খোলা মতামত
প্রকাশিত :১৫ মে ২০১৯, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
ঈদের আনন্দ,আমার ভাবনা

ঈদের আনন্দ খুশি ছড়িয়ে যাক সবখানে সবার মাঝে।।
ও মন রমজানের ঐ রোজা শেষে এলো খুশীর ঈদ।
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে
শোন আসমানি তাগিদ ‘। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই সাড়া জাগানো গান ঈদের দিনে মনে আনন্দ দোলা জাগাচ্ছে যুগ যুগ ধরে। কিন্তু বন্ধুরা আমাদের বিবেককে কতটা জাগাতে পেরেছে?
ঈদ কি? ঈদ হচ্ছে অনাবিল আনন্দ। ছোটবেলায় ঈদকে যেমন আনন্দ মনে হয়েছে, এখনো ঠিক তেমনিই আনন্দই রয়ে গেছে। ঈদ মানে আনন্দ। জীবনের মহান স্ফূর্তির দিন।এ আনন্দ, এ স্ফূর্তির কোনো তুলনাই নাই। শেষ রমজানে সন্ধ্যায় পশ্চিমাকাশে এক ফালি বাঁকা চাঁদ দেখার সাথে সাথেই ঈদের আনন্দ শুরু হয়ে যায়।

আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায় প্রত্যেক বাড়ির লোকজন। ধুম পড়ে যায় পাথেপ্রান্তরে লোকালয়ে হাট মাঠে। সেমাই চিনি কেনাকাটায় মাতোয়ারা হয়ে উঠে সবাই। চাঁদরাতের আনন্দে সবাই আনন্দিত হয়ে উঠে। পরের দিন ভোরবেলায় ঈদগাহে গিয়ে ছেলেবুড়ো সবাই মিলিত হই।আনন্দ মেলায় ঈদের মেলায়। ঈদের খুশিতে শামিল হওয়া মানে জীবনের উৎসবে যোগ দেওয়া। মুসলিম জাতির এই আনন্দ উৎসব অন্যান্য জাতির আনন্দ উৎসব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ঈদগাহে গিয়ে সর্বশক্তিমান আল্লাহতালার দরবারে সর্বাত্মক আত্মসমর্পন করার নামই ঈদ।
ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে সকলের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়ার নামই ঈদ। প্রাণে প্রাণে একাত্ম হয়ে যাওয়া, আন্তরের দরজা খুলে দিয়ে অন্যেরর অন্তরের সঙ্গে নিজে সপে দেওয়া, হিংসা নাই

বিদ্বেষ। নাই সব ভুলে যাওয়া তো ঈদের শিক্ষা। আত্মায় আত্মায় অন্তর্লীন হয়ে যাওয়া- এই -ই ঈদের তাগিদ।
ঈদের পর, ঈদগাহ থেকে ফিরে এসে আপনজনের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ানো। এ বাড়ি ও বাড়ি আত্মীয়জন,আপনজনদের সাথে কোলাকুলি করা, সালাম বিনিময় করা, গুরুজনদের কদমবুসি করা, ঈদসেলামি নেওয়া। ছোটদের আদর বুলিয়ে দেওয়া। ছোটবেলায় ঠিক এমনটা করে এসেছি বা দেখে এসেছি। এখনো ঠিকই কালচার চলমান রয়েছে।
দুনিয়ার সব আনন্দ স্থান কাল পাত্র ভেদে আলাদা বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। শুধু ঈদের উৎসব বা আনন্দ শাশ্বত। এই আনন্দ চিরকালীন এবং চির অমলিন।
আমাদের সামাজিক জীবন, জনজীবন ঈদের দিন এভাবেই আবর্তিত হয়। এটা হাজার বছরের রেওয়াজ।
এক কথায় বলা যেতে পারে, ঈদ উৎসব স্বতন্ত্র সংস্কৃতির অনন্য জীবন ধারায় অভিষিক্ত।
প্রতি বছর ঈদুল ফিতর আসে মাহে রমজানের এক মাস সিয়াম সাধনার পর। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম স্তম্ভ হলো সিয়াম বা রোজা। একজন মুমিন বান্দা সুবেহ সাদিক থেকে নিয়ে সূর্য অস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আসায় পানাহার ত্যাগ করে। এর মাধ্যমে তার আত্মা পরিশুদ্ধ হয় এবং ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়। তিনি বুঝতে পারেন প্রকৃত সুখ ভোগে নয় ত্যাগে।
এক মাস সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে ত্যাগের যে শিক্ষা আমরা গ্রহণ করি ঈদুল ফিতরের দিন আমাদের কাজে কর্মে তার প্রতিফলন ঘটবে। বছরের বাকি ১১ মাস এই শিক্ষার আলোকে চলবো এমনটাই হওয়া উচিত।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এ দেশের মুসলমানরা সিয়াম সাধনা করছে, উৎযাপন করছে ঈদুল ফিতর, অথচ সিয়াম ও ঈদের শিক্ষার আলো ভরে উঠছে না আমাদের প্রিয় মাতৃভুমি বাংলাদেশ। কবি কাজী নজরুল ইসলামের সে কথা মনে পড়ে যায়।
জীবনে যাদের হররোজ রোজা
ক্ষুুধায় আসে না নিদ,
মুমূর্ষু সেই কৃষকের ঘরে
এসেছে কি আজ ঈদ?
একটি বিন্দু দুধ নাহি পেয়ে
যে খোকা মরিল তার
উঠেছে ঈদের চাঁদ হয়ে
কি সে শিশুর -পূঁজরের হাড়?
জাতীয় কবির এই আকুতি এই মিনতি উপলব্ধি করে সবাইকে জানাতে হবে, দামি পোশাকের গর্বে মাটি কাঁপিয়ে হাঁটার আনন্দের সাথে ঈদের খুশির পবিত্রতার কোনো সম্পর্ক নেই।
উৎসবের মুলবাণী হচ্ছে মানুষে মানুষে ভালবাসা, সকলের মাঝে একতা ও শান্তি এবং ত্যাগের শিক্ষার আলোকে নিজেদের গঠন করার মধ্যেই প্রকৃত আনন্দ। ঈদের সত্যিকারের এই খুশি আমরা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার শপথ নিই।
গোটা রমজানের যে শিক্ষা ছিল -সেই শিক্ষার বাস্তবায়ন যেন আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ঘটে, সেই দিকে অনেক মনোযোগী হতে হবে।
ঈদ বয়ে আনুক সবার জীবনে খুশির জোয়ার। ঈদ হয়ে উঠুক আমাদের জন্য ভালোবাসার মিলনমেলা।
ঈদ মোবারক ওয়াস সালাম আল্লাহ হাফিজ।

মহিউদ্দিন ওসমানী
শিক্ষক ও সাংবাদিক।
সহ সম্পাদক
দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ

No Comment.