উপকূলীয় অঞ্চল কয়রায় প্রথম বাদাম চাষে সফলতা


অথর
অরবিন্দ কুমার ম-ল, কয়রা প্রতিনিধি   কৃষি বার্তা
প্রকাশিত :১৮ এপ্রিল ২০১৯, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
উপকূলীয় অঞ্চল কয়রায় প্রথম বাদাম চাষে সফলতা

উপকূলীয় জনপদ কয়রায় লবণাক্ত জমিতে এই প্রথম বাদাম চাষ করে সফলতা দেখিয়েছে উত্তর বেদকাশীর কৃষক শহিদুল ইসলাম। আর এটিকে কৃষি ক্ষেত্রে আমুল পরিবর্তনের ছোঁয়া বলে দেখছেন কয়রার প্রত্যন্ত এ জনপদের কৃষকরা। সরেজমিন কৃষি গবেষণা সুত্রে জানা গেছে, বাদাম একটি অর্থকরী ফসল। এটি অধিকাংশ মানুষের মুখরোচক খাবার। এ ছাড়াও এটি একটি উৎকৃষ্ট ভোজ্য তেল বীজ। এর বীজে ৪৮-৫০% তেল ও ২২-২৯% আমিষ রয়েছে। এ জন্য প্রত্যেক মানুষকে মাদাম খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের কৃষক মোঃ শাহিদুল ইসলাম ১ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তিনি জানান, তার এ সফলতার পিছনে বাংলাদেশ কৃষি

গবেষণা ইনস্টিটিউট এর সরেজমিন গবেষণা বিভাগ এমএলটি সাইট কয়রার বিশেষ অবদান রয়েছে। তাদের সার্বিক তত্তা¡বধানে উপকূলীয় এ এলাকায় কৃষি ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে বলেও জানান তিনি। গোপালগঞ্জ জেলায় বিএআরআই এর কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন ও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ-প্রতিবেশ উপযোগী গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করণের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ণ প্রকল্পের আর্থিক সহযোগীতায় স্থানীয় কৃষকরা বাদাম চাষের পাশাপাশি ধান, সূর্যমুখী, গম সহ কৃষি ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতা পাচ্ছে। তাদের এ ধরনের মহতী উদ্যোগে সাধুবাদ জানিয়েছে কয়রার সাধারন মানুষ

উত্তর বেদকাশীর কৃষক মোঃ শাহিদুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলে প্রথম বাদাম চাষ করতে আগ্রহী ছিলাম না। তার পরেও কৃষি গবেষণা বিভাগের পরামর্শে বাদাম চাষাবাদের জন্য আগ্রহী

হয়ে উঠি। চাষাবাদের পর সুন্দর গাছ দেখে ও গাছের গোড়ায় বাদাম দেখে অতি উৎসাহী হয়ে স্থানীয় আরও অনেক কৃষককে বামাদ চাষের জন্য পরামর্শ দিয়েছি। তিনি কৃষি গবেষণার কাছে বছরে ৩ বিঘা জমিতে বাদাম চাষের বীজ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। সরেজমিন গবেষণা বিভাগের এমএলটি সাইট কয়রার বৈজ্ঞানিক সহকারী মোঃ জাহিদ হাসান বলেন, বাদাম চাষের জন্য বেলে দোআঁশ মাটির প্রয়োজন সেই হিসাবে উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নকে বেছে নেই এবং এ বছর বাদামের ৩টি জাত বপণ করিয়েছি। এর ভিতর লবণাক্ত এলাকায় যে জাতটি বেশি ফলন হবে পরবর্তীতে সেটি বেশি করে বীজ দেওয়ার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানাবো। উত্তর বেদকাশী এলাকায় বাদাম বপণের পর সমস্ত জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পরও এত সুন্দর মাঠ দেখে অনেক কৃষক গবেষণা অফিসে এসে বাদাম চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছে। আগামীতে বেশী এলাকায় বাদাম চষের জন্য সহযোগীতা করা যায় সে ব্যাপারে সবার্ত্মক চেষ্টা করা হবে। তথ্যমতে বাংলাদেশে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়। বাদামের মোট উৎপাদন প্রায় ৪৭ হাজার মেট্রিক টন । এভাবে গবেষণার মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল জাতের ব্যবহার ও উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদের মাধ্যমে বাংলাদেশে চীনাবাদামের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে এ সকল গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিন গবেষণা বিভাগ খুলনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ হারুনর রশিদ বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার, তারই লক্ষ্যে কয়রায় অনেক জমি আমন ধান কাটার পর পড়ে থাকে বিধায় উত্তর বেদকাশীতে গবেষণা করা হচ্ছে বাদামের বিভিন্ন জাতের উপযোগীতা যাচাই করার জন্য। এ ছাড়াও চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে গম, সরিষা, তরমুজ, ভুট্টা ও সুর্যমুখির বিভিন্ন জাতের উপযোগীতা যাচাই করে গবেষণা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, চলতি মাসে ওল ও মুখি কচুর বিভিন্ন জাতের উপযোগীতা যাচাইয়ের জন্য রোপণ করা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান সরকারের ২০৪১ সালের রুপকল্প অনুযায়ী এক ফসলী জমিকে দুই ফসলী জমিতে এবং দুই ফসলী জমিকে তিন ফসলীতে নিয়ে আসতে পারি এর জন্য গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কয়রার অনেক কৃষককে বাদাম চাষে আগ্রহী হতে দেখে তিনি বেশ খুশী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

No Comment.