এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি বাংলা দ্বিতীয় পত্র


অথর
জহিরুল ইসলাম   শিক্ষা বাতায়ন ডেক্স
প্রকাশিত :১৩ জানুয়ারি ২০২০, ১:০৮ অপরাহ্ণ
  • 20
    Shares
এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি বাংলা দ্বিতীয় পত্র

প্রিয় শিক্ষার্থী, আজ বাংলা দ্বিতীয় পত্র থেকে প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো

সর্বনামের পুরুষের সংজ্ঞা ও প্রকরণ

‘পুরুষ’ একটি পারিভাষিক শব্দ। বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়ারই পুরুষ আছে। বিশেষণ ও অব্যয়ের পুরুষ নাই। যে কাজ করে অর্থাৎ কর্তাই পুরুষ।

ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকার। যেমন :

১. উত্তম পুরুষ : স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।

২. মধ্যম পুরুষ : প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাকে, তোমাদের, তোমাদিগকে, আপনি, আপনারা, আপনার, আপনাদের প্রভৃতি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।

৩. নাম পুরুষ : অনুপস্থিত অথবা পরোক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণীই নাম পুরুষ। সে, তারা, তাহারা, তাদের, তাহাকে, তিনি,

তাকে, তারা, তাদের প্রভৃতি নাম পুরুষ। সব বিশেষ্য শব্দই নাম পুরুষ।

ব্যক্তিবাচক সর্বনামের রূপ

১. সাধারণ রূপ

উত্তম পুরুষ : আমি, আমরা, আমাকে, আমাদিগকে, আমার, আমাদের, কবিতায় : মোর, মোরা

মধ্যম পুরুষ : তুমি, তোমরা, তোমাকে, তোমাদিগকে, তোমার, তোমাদের

নাম পুরুষ : সে, তারা, তাহারা, তাকে, তাহাকে

২. সম্ভ্রমাত্মক রূপ

মধ্যম পুরুষ : আপনি, আপনারা, আপনাকে, আপনার, আপনাদের

নাম পুরুষ : তিনি, তারা, তাহারা, তাদের, তাহাদের, তাহাদিগকে, তাদেরকে, তাহাকে, তাকে, ইনি, এঁর, এঁরা, ইহাদের, এঁদের, ইহাকে এঁকে, উনি, ওঁর, ওঁরা, ওঁদের

৩. তুচ্ছার্থক বা ঘনিষ্ঠতাজ্ঞাপক রূপ

নাম পুরুষ : ইহা, ইহারা, এই, এ, এরা, উহা, উহারা, ও, ওরা, ওদের

সর্বনামের বিশিষ্ট প্রয়োগ

১. বিনয় প্রকাশ : বিনয় প্রকাশে উত্তম পুরুষের একবচনে দীন,

অধম, বান্দা, সেবক, দাস প্রভৃতি শব্দ ব্যবহৃত হয়। যেমন : ‘আজ্ঞা কর দাসে, শাস্তি নরাধমে’। ‘দীনের আরজ’।

২. ছন্দবদ্ধ কবিতা : ছন্দবদ্ধ কবিতায় সাধারণত ‘আমার’ স্থানে মম, ‘আমাদের’ স্থানে ‘মোদের’ এবং ‘আমরা’ স্থানে ‘মোরা’ ব্যবহৃত হয়। যেমন : কে বুঝিবে ব্যথা মম। ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা’। ক্ষুদ্র শিশু মোরা, করি তোমারি বন্দনা।

৩. উপাস্যের প্রতি ভক্তি : উপাস্যের প্রতি সাধারণত ‘আপনি’ স্থানে ‘তুমি’ প্রযুক্ত হয়। যেমন : (উপাস্যের প্রতি ভক্ত) প্রভু, তুমি রক্ষা কর এ দীনসেবককে।

৪. অভিনন্দনপত্র : অভিনন্দনপত্র রচনায়ও অনেক সময় সম্মানিত ব্যক্তিকে ‘তুমি’ সম্বোধন করা হয়।

তুমি : ঘনিষ্ঠজন, আপনজন বা সমবয়স্ক সাথীদের প্রতি ব্যবহার্য।

তুই : তুচ্ছার্থে

ব্যবহৃত হয় এবং ঘনিষ্ঠতা বোঝাতেও আমরা তাই ব্যবহার করি।

সর্বনামে বিশেষ দ্রষ্টব্য/জ্ঞাতব্য

১. চলিত ভাষা : চলিত ভাষায় যেসব স্থানে সর্বনাম বসে সেসব হলো :

ক) তুচ্ছার্থে : তাহা স্থানে তা যাহা স্থানে যা কাহা স্থানে কা ইহা স্থানে এ উহা স্থানে ও

খ) সম্ভ্রমার্থে (এগুলোর সঙ্গে একটি চন্দ্রবিন্দু সংযোজিত হয়) :

\হতাহা+দের=তাহাদের (সাধু)>তাদের (চলিত) (সম্ভ্রমার্থে) তাহা+দের=তাহাদের (সাধু)>তাদের (চলিত)

২. করণ কারক : করণ কারকে অনুসর্গ ব্যবহারের আগে মূল সর্বনাম শব্দের সঙ্গে র, এর বা কে বিভক্তি যোগ করে নিতে হয়। যেমন : তাহাকে দিয়া তাকে দিয়ে তাহার দ্বারা তার দ্বারা আমাকে দিয়ে

৩. ষষ্ঠী বিভক্তি : ষষ্ঠী বিভক্তি অর্থে ঈয়-প্রত্যয়যুক্ত সর্বনামজাত বিশেষণ শুধু তৎসম সর্বনামের ক্ষেত্রেই

ব্যবহৃত হয়। যেমন : মৎ+ঈয়=মদীয় ভবৎ+ঈয়=ভবদীয় তৎ+ঈয়=তদীয়

৪. ষষ্ঠী বিভক্তি : ‘কী’ সর্বনামটি কোনো কোনো কারকে ‘কিসে’ বা ‘কিসের’ (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত) রূপ গ্রহণ করে। যেমন :

কী+দ্বারা=কিসের দ্বারা কী+থেকে=কিসে থেকে কিসের থেকে

বিশেষণ পদের সংজ্ঞা

যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে। যেমন : চলন্ত গাড়ি : বিশেষ্যের বিশেষণ। করুণাময় তুমি : সর্বনামের বিশেষণ। দ্রম্নত চল : ক্রিয়া বিশেষণ

বিশেষণ পদের প্রকরণ

বিশেষণ দুই ভাগে বিভক্ত। যেমন :

১. নাম বিশেষণ : যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে তাকে নাম বিশেষণ বলে।

২. ভাব বিশেষণ : যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনামভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাই ভাব বিশেষণ।

নাম বিশেষণ

যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে তাকে নাম বিশেষণ বলে। যেমন :

বিশেষ্যের বিশেষণ : সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?

সর্বনামের বিশেষণ : সে রূপবান ও গুণবান।

নাম বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন :

ক) রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ

খ) গুণবাচক : চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া

গ) অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা

ঘ) সংখ্যাবাচক : হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা

ঙ) ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা

চ) পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনি জাহাজ, এক কেজি চাল, দুই কিলোমিটার রাস্তা

ছ) অংশবাচক : অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ

জ) উপাদানবাচক : বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি

ঝ) প্রশ্নবাচক : কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?

ঞ) নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ

ভাব বিশেষণ

যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনামভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাই ভাব বিশেষণ। ভাব বিশেষণ চার প্রকার। যেমন :

১. ক্রিয়া বিশেষণ : যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যেমন :

ক) ক্রিয়া সংঘটনের ভাব : ধীরে ধীরে বায়ু বয়।

খ) ক্রিয়া সংঘটনের কাল : পরে একবার এসো।

২. বিশেষণীয় বিশেষণ : যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে। যেমন :

ক) নাম বিশেষণের বিশেষণ : সামান্য একটু দুধ দাও। এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

খ) ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ : রকেট অতি দ্রম্নত চলে।