কমতে শুরু করেছে ভোগ্যপণ্যের দাম


অথর
অর্থনৈতিক ডেক্স   ব্যবসা বানিজ্য
প্রকাশিত :১৩ মে ২০১৯, ৮:০৮ পূর্বাহ্ণ
কমতে শুরু করেছে ভোগ্যপণ্যের দাম

রোজার তিনদিনের মাথায় কমতে শুরু করেছে ভোগ্যপণ্যের দাম। চিনি, ব্রয়লার মুরগি ও গরুর মাংসের দাম হ্রাস পেয়েছে। কমে গেছে বেগুনের দাম। ভোজ্যতেল, চাল, মশুর ডাল, পেঁয়াজ, ছোলা ও আটার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে উঠতে শুরু করেছে দেশীয় মধুফল। এছাড়া সরকার নিয়ন্ত্রিত সংস্থা টিসিবি ট্রাকসেলে ভোগ্যপণ্য বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। দ্রব্যমূল্য মনিটরিং টিম ও ভেজাল বিরোধী অভিযানের তৎপরতা থাকায় সতর্ক অসাধু ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, সাপ্তাহিক সরকারী ছুটি থাকায় শুক্রবার রাজধানীর বাজারগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। ইফতারিতে বেশি ব্যবহার হয় এমন সব পণ্যের চাহিদা চিল সবচেয়ে বেশি। তবে রোজা শুরুর আগে বেশির ভাগ ক্রেতা চাহিদার চেয়ে বেশি পণ্যসামগ্রী কিনে নেয়ায় চাল, ডাল, ছোলা, ভোজ্যতেল,

পেঁয়াজ ও আটার মতো পণ্যের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়নি। সিটি করপোরেশনের অভিযান অব্যাহত থাকায় কমে গেছে গরুর মাংসের দাম। তবে রাজধানীর কোন কোন বাজারে বেধে দেয়া দামের চেয়েও বেশি দামে মাংস বিক্রি করছে খুচরা ব্যবসায়ীরা। দাম কমে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৬ টাকা, কেজিতে ২০ টাকা কমে ব্রয়লার মুরগি ১৪০-১৫০ টাকা, গরুর মাংস ৫৩০-৫৫০, মানভেদে পেঁয়াজ ২৫-৩৫, মশুর ডাল ৫৫-১২০, ছোলা ৭০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি লিটার সয়াবিন ৭৮-৮৫, বোতল ৫ লিটার ৪৫০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। এছাড়া মোটা চাল ৩৬-৪২ এবং উন্নতমানের নাজির ও মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২-৬৪ টাকায়।

এছাড়া শাক-সবজির বাজারেও দ্রব্যমূল্য হ্রাস পেয়েছে। রোজার শুরুতে

প্রতিকেজি বেগুন ১০০ টাকা বিক্রি হলেও এখন তা কমে আগের মতো ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শসা, টমেটো ও অন্যান্য সবজির দাম একটু বাড়লেও দাম কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর কাপ্তান বাজার, কাওরান বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট, নিউমার্কেট, ফকিরাপুল বাজার এবং মিরপুর সিটি করপোরেশন বাজারের তথ্যমতে, নতুন করে আর জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। এছাড়া টিসিবি’র তথ্যও বলছে, রোজার শুরুতে পণ্যমূল্য বাড়ার যে প্রবণতা দেখা গেছে তা হ্রাস পেয়েছে। কাপ্তান বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছে, রোজার শুরুতে হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দ্রব্যমূল্য বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন বেশির ভাগপণ্যের দাম হ্রাস পেয়েছে।

ওই বাজারের মুদিপণ্যের ব্যবসায়ী আবদুল গনি মিয়া জনকণ্ঠকে বলেন, জিনিসপত্রের দাম

আরও কমবে। রোজার শুরুতে অনেকেই বেশি করে সারা মাসের বাজার করে নিয়ে গেছেন। এখন আর তারা বাজারে আসছে না। তিনি বলেন, দোকানে কয়েক বস্তা ছোলা মজুদ রয়েছে। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে কম। একই অবস্থা চিনির ক্ষেত্রে। রোজার শুরুতে যেভাবে চিনির কাটতি ছিল,এখন আর নেই।

জানা গেছে, এবার রোজার চাহিদার তুলনায় বেশি পণ্য দেশে আনা হয়েছে। মজুদকৃত পণ্য নিয়ে ব্যবসায়ীরা হিমশিম খাচ্ছেন। ঠিকমতো বিক্রি না হলে অনেক ব্যবসায়ীর লোকসান করার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে মজুদকৃত পণ্য আসছে বাজারে। বাজারভর্তি রয়েছে পেঁয়াজ, ছোলা, ভোজ্যতেল, মশুর ডাল ও চিনিতে। এছাড়া হাত বাড়ালেই মিলছে খেজুর। ট্রাকসেলে ভর্তুকি দিয়ে কম দামে পণ্যসামগ্রী বিক্রি করছে টিসিবি। এ কারণে

পণ্যমূল্য নিয়ে ভোক্তাদের সন্তুষ্টি রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পুরান ঢাকার লারমিনি স্ট্রীটের বাসিন্দা বশির উদ্দিন আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, রোজার শুরুতে বাজারের যে তেজ ছিল তা এখন নেই। বরং দাম কমে বাজারে স্বস্তি বিরাজ করছে। তিনি বলেন, দাম বাড়ার পেছনে ভোক্তারাও দায়ী। চাহিদার তুলনায় অনেকেই রোজার শুরুতে সারা মাসের বাজার কনে নেন। এতে পণ্যের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয় এবং জিনিসপত্রের দাম বাড়ে।

এদিকে, বাজারে কিছুটা চড়া মাছ-মাংসের দাম। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম হ্রাস পেয়েছে। সেই তুলনায় গরু ও খাসির মাংসের দাম কমেনি। দেশী গরু ৫২৫ এবং বোল্ডার গরুর মাংস ৫০০ টাকা নির্ধারিত মূল্য হলেও মাংস ব্যবসায়ীরা এটা মানছে না। এখনও অনেক মাংস ব্যবসায়ী নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে মাংস বিক্রি করছে। যদিও সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমান আদালত ইতোমধ্যে বেশিদামে মাংস বিক্রির দায়ে অনেককে জেল জরিমানা দিয়েছেন। এছাড়া মাছের বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও দাম তেমন কমছে না। মাংসের মতো মাছের বাজারেও সরকারী মনিটরিং বাড়ানো উচিত বলে ভোক্তারাদের অভিমত রয়েছে।