কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে হারিকেন!


অথর
বিলুপ্তির পথে নিউজ ডেক্স   ফিচার
প্রকাশিত :১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০৩ অপরাহ্ণ
  • 9
    Shares
কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে হারিকেন!

হারিকেনের টিমটিমে আলোয় কি এক নৈসর্গিক ছায়া। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী একটি নিদর্শন। কত গল্প, উপন্যাসে হারিকেনের উপমা ব্যবহার হয়েছে তার শেষ নেই। অনেক বাড়িতে সন্ধ্যায় হারিকেন জ্বালানোর আগে পৌঁছাতে না পারলে পিটুনি খেতে হয়েছে, এমনও শোনা গেছে। হারিকেন জ্বলা মানে পড়াশোনার সময় হয়ে গেছে। সে সময় পড়াশোনাসহ সব ধরনের প্রয়োজনেই ঘরে ঘরে হারিকেন জ্বলত। বর্তমানে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যাপক প্রসারে কমে গেছে হরিকেনের চল। এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশের মতো মাগুরাতেও কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে হারিকেন। বিদ্যুতের প্রসার, বিদ্যুৎ চলে গেলে বিভিন্ন ধরনের চার্জার বাতির ব্যবহারে হারিকেনের তেমন একটা প্রয়োজন হয় না। তাই হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী হারিকেন।তবে এখনও দেশের কিছু কিছু চরাঞ্চলসহ দুর্গম এলাকায়

কুপির পাশাপাশি হারিকেনের প্রচলন রয়েছে। তবে চার্জার বাতির অধিক ব্যবহারের কারণে সেটাও সংখ্যায় খুব কম। এক সময় এটা হারিয়ে জাদুঘরে চলে যাবে। তখন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো হারিকেন দেখতে জাদুঘরে যাবে। বইয়ের পাতায় খুঁজবে হারিকেনের ইতিহাস। একটা সময় ছিল যখন গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি বাড়িতে হারিকেন দেখা যেত। তখন হারিকেন মেরামত করতে উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে মিস্ত্রী বসতো। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত প্রতিটি বাজারে ছিল হারিকেন মেরামতোর অস্থায়ী দোকান। তারা বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে ঘুরে হারিকেন মেরামতের কাজ করতেন। এছাড়া অনেকে গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়েও হারিকেন মেরামত করতেন। কিন্তু এখন আর হারিকেনের ব্যবহার তেমন একটা না থাকার ফলে হারিকেন মিস্ত্রীদেরও আর দেখা যায়

না।মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর বিনোদপুর এলাকায় সুদেব কুমার সাহা দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশকে বলেন,রাতে পড়তে বসার আগে হারিকেন নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে টানা-টানি চলতো। হারিকেন নিয়ে কত গল্প শুনেছি। কিন্তু এখন ঘরে ঘরে পৌছে গেছে বিদ্যুৎ।তাছারা বাজারে বিভিন্ন ধরনের চার্জার এলইডি বাল্ব অনেক কম দামে পাওয়া যায়।যার কারনে এখন আর হারিকেনের প্রয়োজন হয় না। একই এলাকার সুকুমার সাহা(মেম্বর১৯৯০-২০০০) দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশকে বলেন, এক সময় হারিকেন নিয়ে ডাকপিয়নরা ছুটে চলতেন গ্রামের পর গ্রামে। বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সবাই রাতের বেলায় হারিকেন নিয়ে বের হতেন। হারিকেনের আলো গৃহস্থালির পাশাপাশি ব্যবহার হতো বিভিন্ন গ্রাম্য যানবাহনেও। কিন্তু আধুনিকায়নে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক বাতিতে বাজার ভরপুর। যার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে

এক সময়ের আলোর অন্যতম উৎস ঐতিহ্যবাহী হারিকেন। তিনি আরো বলেন একটা সময় আমাদের বাড়িতে সন্ধ্যার পরে অজিত সাহা (মাস্টার)১৫-২০ জন ছেলেমেয়েদের একসাথে প্রাইভেট পড়াই তো। যুগের পরিবর্তনে এখন আর সেই হারিকেন এর ব্যবহার দেখা যায় না। মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ভাবনপাড়া হারিকেন মেরামতকারী শ্যামল পুন্ডরী দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশকে বলেন, এক সময় বিভিন্ন এলাকার বাজারে ঘুরে ঘুরে আমার দাদু, বাবা নিজের হাতে অনেক হারিকেন মেরামত করেছলেন। কিন্তু এখন কারও ঘরে হেরিকেন থাকলেও তা কেউ ব্যবহার করে না। এর ফলে মেরামতের কাজও তেমন হয় না। যার কারণে বাপ দাদার পেশা ছেড়ে এখন অন্য পেশায় নিয়োজিত আছি।