কেমন আছেন তাঁদের স্ত্রীরা?


অথর
বিনোদন ডেক্স   সারা বিশ্ব
প্রকাশিত :৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২:৩৪ অপরাহ্ণ | পঠিত : 58 বার
কেমন আছেন তাঁদের স্ত্রীরা?

চলে গেছেন অনেক তারকা। সেইসব তারকাদের সঙ্গীনিদের খোঁজ আমরা তেমন রাখি না। তাদের জন্ম মৃত্যুদিনে হয়তো কেউ খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আড়ালেই রয়ে যান তাঁরা। বাংলাদেশের এমন কয়েকজন তারকার স্ত্রীদের খোঁজই দেওয়া হলো:

রাজ্জাকের স্ত্রী লক্ষী:

লক্ষীকুঞ্জের দোলনা আর নায়ক রাজের নিজ হাতে রোপন করা কামরাঙা গাছটি এখনো আছে। শুধু নেই মানুষটি। গোধুলি বেলায় বসে না চায়ের আড্ডা। গুলশান ২ এর ৫ নাম্বার রোডের ৩৬ নাম্বার বাড়ি ‘লক্ষীকুঞ্জ’ এখন নীরবই থাকে। নীরবতা ভাঙার মানুষটি নেই। এই বাড়িতেই আছেন নায়ক রাজের লক্ষী। তিনি বলেন,‘ বাড়ি যেভাবে আছে তেমনই রাখবে সন্তানরা। হিরোর বেডরুম এখনো সেভাবেই আছে। বাড়ির যাবতীয় সব ডেকরেশন

হিরো নিজের হাতে করেছেন। তাই এই বাড়ির যেখানেই যাই সেখানেই তার সঙ্গে আমার কথা হয়। দোলনা আর কামরাঙা গাছটি তার প্রিয় ছিল। ওখানেই বসে থাকতেন। আছরের নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত তিনি ওখানে বসতেন। চা খেতেন। আমার সঙ্গে গল্প করতেন। ছেলেরা যখন বাসায় থাকতো ওরাও টুল নিয়ে আমাদের পাশে বসে যেত।’

ছেলে সম্রাট জানান, ‘রাজ্জাকপত্নী ভালো আছেন। তবে বাড়িতে কোন উৎসব হয় না। যাকে ঘিরে সবকিছু ছিল। তিনি না থাকলে যা হয় আরকি। ’

সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা:

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের সর্বকালের অন্যতম সেরা নায়ক সালমান শাহর স্ত্রী সামিরাও সকলের কাছে বেশ পরিচিত মুখ।

বিশেষ করে এ প্রজন্ম সালমান শাহর স্ত্রীকে অনেকেই চেনেন সালমান শাহর মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক নারী হিসেবে। এর আইনী কোন ব্যাখ্যা অবশ্য কখনো প্রমাণ হয়নি। সালমান শাহর মা নানা সময়ে অভিযোগ করেছেন স্ত্রী সামিরা সালমান শাহর মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত। সালমান পরিবারের সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা ও সামিরার বর্তমান স্বামী মুস্তাক ওয়াইজ। তিনি সালমান শাহর বাল্যবন্ধুও। সালমান শাহর মৃত্যুর তিন বছর পরে মুস্তাক ওয়াইজ বিয়ে করেন সামিরাকে। জানা যায় থাইল্যান্ড নয়, সামিরা ও তার স্বামী বর্তমানে বাংলাদেশেই বসবাস করছেন। সামিরা-মুস্তাকের ঘরে দুই মেয়ে এক ছেলে রয়েছে। বর্তমানে তাদের নিয়ে সংসার করছেন তারা। শুটিং ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী

কর্মকর্তা মুস্তাক ওয়াইজ। বাংলাদেশে তার ব্যবসাও রয়েছে। তিনি একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত। সামিরা গৃহিনী হিসেবেই সময় কাটাচ্ছেন। দুই মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যান।

মান্নার স্ত্রী শেলী:

মান্নার স্ত্রী শেলী মান্না ভালো আছেন। তিনি বলেন,‘আমি চাকরি করছি। সংসার আছে, ছেলে আছে, মান্নারও অনেক কাজ বাকি আছে-সবগুলোই এক হাতে সামলাচ্ছি। আমি জানি, মান্না বেঁচে থাকলে কাজগুলো আমার করা লাগত না। সত্যি বলতে, উনি বেঁচে থাকাকালীন পৃথিবীতে কখনোই একা মনে হয়নি নিজেকে। এখন সত্যি বড্ড একা লাগে। আমি মান্নার স্মৃতি নিয়েই বেঁচে আছি। আমার পরিচয় হলো, আমি মান্নার স্ত্রী। আমাদের একটি ছেলে আছে, আমার একটা সোসাইটি আছে। মান্নার রেখে যাওয়া কাজগুলো করা আমার জন্য

অনেক বড় একটা দায়িত্ব।

তিনি বলেন,‘অনেকে স্বামীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয়বার বিয়ের চিন্তা করে। কিন্তু আমি বলি, বিয়েটায় কি সব? এর বাইরে জীবনের আর কোনো অধ্যায় নেই? একটা বিয়ে করলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। বিয়ে করলে আবার আরেকটা মানুষের দায়দায়িত্ব এসে পড়বে আমার কাঁধে। আমার স্বামীর সবকিছু মিশে যাবে। আমি চাই না। আমি বিয়ের পক্ষপাতি আমি নই। স্বামীর স্মৃতি নিয়েই বাঁচতে চাই।

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন,‘যখন আমাদের বিয়ে হলো তখন তো ও তুমুল ব্যস্ত অভিনয়শিল্পী। অভিনয়েই প্রচুর সময় দিতে হত। আমিও চাকরি নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছি তখন। দিনভর যে যেই কাজই করি না কেন দিনশেষে দু’জন ছিলাম শুধুই দু’জনার। আমাদের ছোট্ট সংসারে সুখ আর প্রশান্তিটা ছিল।’

একমাত্র ছেলে সিয়াম বিদেশে পড়াশুনা করছেন। শেলী স্বামীর স্মৃতি আকড়ে সিনেমা প্রযোজনা করেছেন গেল বছর। তিনি এখনো চাকরি করেন বিমানে।

জসিমের স্ত্রী নাসরিন:

জসিমের তিন ছেলে। রাতুল, রাহুল, সামি। যার মধ্যে রাতুল ও সামি ‘Owned’ ব্যান্ডের বেজিস্ট ও ড্রামার (এই ব্যান্ডদল বর্তমানে অনেক ট্রেন্ডিং ব্যান্ড)। রাহুল ‘Trainwreck’ ব্যান্ডের গিটারিস্ট (এই ব্যান্ডের ড্রামারই পরে অর্থহীন ব্যান্ডে যোগ দিয়েছেন) আর সামি ‘Porahor’ এর ড্রামার। জসিমের প্রথম স্ত্রী ছিলেন ড্রিমগার্লখ্যাত নায়িকা সুচরিতা। পরে তিনি ঢাকার প্রথম সবাক ছবির নায়িকা পূর্ণিমা সেনগুপ্তার মেয়ে নাসরিনকে বিয়ে করেন। নাসরিনই মূলত জসিমের স্মৃতি আকড়ে আছেন। জসিমের ছেলে রাহুল জানান,‘ আম্মা ভালো আছেন। তিনিই আমাদের বড় করেছেন। বাবার অভাব কখনো বুঝতে দেননি।’

বাবার মৃত্যুর সময় রাহুলের বয়স ছিল পাঁচ কি ছয়। বাবার পথ ধরে একসময় অভিনয়ে নাম লেখানোর ইচ্ছা থাকলেও চলচ্চিত্রের ‘দুরবস্থার’ কারণে আর এ পথ মাড়াননি ছেলেরা।

মাত্র ৪৮ বছরে ওপারে পাড়ি জমানো এ অভিনেতার ছেলে বলেন, বাবার জন্য তাকেও মাঝে মধ্যে ‘মধুর বিড়ম্বনায়’ পড়তে হয়। ‘একবার এক পরিচিতজনের বিয়েতে মিরপুর গেলাম। আগে থেকেই খবর রটেছিল সেখানে জসিমের পরিবার যাচ্ছে। রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ ভরে যায় আমাদের দেখার জন্য। বাবার প্রতি মানুষের ভালোবাসা দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। বাবাকে সাধারণ মানুষরা এখনো অনেক বেশি ভালবাসে। বাসে উঠলে কোনভাবে যদি জানতে পারে আমি জসিমের ছেলে। টাকা দেয়ার সাধ্য থাকে না আমার। তারা নিবেই না। তাদের এক কথা আপনি বসের ছেলে।’ জানালেন তার আরেক ছেলে সামী।

আইয়ূব বাচ্চুর স্ত্রী চন্দনা:

স্ত্রী ফেরদৌস চন্দনা এবং দুই সন্তান রেখে গেছেন আইয়ূব বাচ্চু। ছেলে ফাইরুজ ও মেয়ে তাজওয়ার। তাদের একজন কানাডা ও অপরজন অস্ট্রেলিয়ায় পড়ছেন। আইয়ূব বাচ্চুর স্ত্রী এখন বেশিরভাগ সময় মেয়ের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াতেই থাকেন। বরিশালের পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিলবিলাসের মিয়া বাড়ির মেয়ে এই চন্দনা। যদিও চন্দনার পরিবার প্রায় অর্ধ্বশতক আগেই ঢাকায় প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। চন্দনার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব মিয়া পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লে. কর্ণেল ছিলেন। চন্দনাদের ঢাকায় বাসা ঢাকা কলেজের উল্টো দিকে পটুয়াখালীর আরেক কৃতি সন্তান প্রফেসর হাওলাদারের গলিতে। চন্দনারা তিন ভাই তিন বোন। ভাই শাকিল, শাহেদ ও বাবু। বোন মিতা, রিতা, চন্দনা। প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন আইয়ূব বাচ্চু। প্রেমটি চন্দনার পরিবার প্রথম দিকে মানেননি, কিন্তু পরিবর্তীতে বিয়েটি পারিবারিকভাবেই হয়েছিল।

আইয়ুব বাচ্চু ১৯৮৬ সালে যখন তার একক অ্যালবাম রক্ত গোলাপ রেকর্ডের জন্যে ঢাকায় আসে তখন সে তার এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিল। তার বন্ধুর বাসায় একটি আয়নায় ফেরদৌস চন্দনার ছবি লাগানো ছিল৷ বাচ্চু সেই ছবি দেখেই তার বন্ধুকে বলেছিল যে, ‘সে চন্দনাকে বিয়ে করতে চায়’। তার সাথে যখন চন্দনার দেখা হয় তখন তারা একজন আরেকজন খুবই পছন্দ করে ফেলে। পরে যখন চন্দনার পরিবারে সবাই বাচ্চুর ব্যাপারে জেনে যায়, তখন তারা তাকে বাচ্চুর সাথে দেখা করতে দিত না। বাচ্চু বলেছিলেন যে, তার ব্যান্ড এলআরবি এর প্রথম অ্যালবাম এল আর বি – ১ এর একটি গান ‘ফেরারি মন”, চন্দনাকে যখন তার পরিবার বাচ্চুর সাথে দেখা করতে দিচ্ছিলেন না, তখন বাচ্চুর কেমন মনে হচ্ছিলো তার কথাই বলে: ‘ফেরারি এই মনটা আমার, মানে না, কোনো বাধা৷ তোমাকে পাওয়ারই আশাই। ফিরে আসে বারে বার।’ বাচ্চু তখন ঢাকায় এলিফ্যান্ট রোড এর একটি বাসায় থাকতো। তার কাছে মাত্র ৬০০ টাকা ছিল, যা দিয়ে সে কিছুই করতে পারছিলোনা৷ অ্যালবাম রেকর্ড করে সে আবার চট্টগ্রাম চলে আসে। কিন্তু তাও সে প্রায় সময়েই চন্দনা কে দেখতে ঢাকা আসতো। যখন সে ১৯৯০ এর শেষের দিকে সোলস ছেড়ে দেয়, তখন সে ঢাকায় আসে আর চন্দনা কে বিয়ের প্রস্তাব দেয়৷ চন্দনার পরিবার প্রথমে রাজি না হলেও পরে রাজি হয়ে যায়।