ক্যান্সার আক্রান্ত মুক্তিযোদ্ধা আকুব্বর হোসেনের পাশে নেই কেউ


অথর
শাহজাহান হেলাল জেলা প্রতিননিধি   ফরিদপুর, ঢাকা
প্রকাশিত :১২ জুন ২০১৯, ৬:০০ অপরাহ্ণ
ক্যান্সার আক্রান্ত মুক্তিযোদ্ধা আকুব্বর হোসেনের পাশে নেই কেউ

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য লড়াই করেছেন অথচ আজ নিজের জীবনই বিপন্ন সেই মুক্তিযোদ্ধা আকুব্বর হোসেনের। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন মৃত্যুর দিকে। চিকিৎসা করতে গিয়ে সহায় সম্বল হারিয়ে ইতিমধ্যেই নিঃস্ব হয়েছেন তিনি। বাঁচার আকুতি জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা আকুব্বর হোসেন।
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের কলিমাঝি গ্রামের মৃত আব্দুল হকের ছেলে আকুব্বর হোসেন (৬৯)। তাঁর লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ০১০৮০২০৪৬৯। মন্ত্রণালয়ের সনদ নম্বর ১৩৮৬৯২, স্মারক নম্বর মু, বি, ম/দা/ফরিদপুর প্রঃ ৩/০৮/২০০২/২৭৮৭। তিনি ২০১০ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধার সম্মানি ভাতা পেয়ে আসছেন। ভাতা বহি নম্বর ২৮২। বর্তমানে তিনি মাসে দশ হাজার টাকা ভাতা পেয়ে থাকেন। এক সময় টেম্পু চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে কোন আয় রোজগার নেই।
মুক্তিযোদ্ধা আকুব্বর হোসেন জানান, ২০১৬ সালের প্রথম দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকের কাছে যান। পরে ওই বছরের আগস্ট মাসে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যপক ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস তাঁর পিত্তথলির অপারেশন করান। এর পরে পেটের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে আবারও ডাক্তারের কাছে যান। পরে তাঁর পেটে ক্যান্সার ধরা পড়ে। তখন মুক্তিযোদ্ধা আকুব্বর ঢাকা উত্তরার আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার এ- জেনারেল হাসপাতালে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কর্ণেল ডা. মো. ইউসুফ আলীর তত্ত্বাবধানে ভর্তি হন। এখনও তিনি এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ পর্যন্ত তিনি ১৬টা রেডিও থেরাপি এবং ৬টা কেমো থেরাপি নিয়েছেন। এছাড়া কেমোর ট্যাবলেট খেয়েছেন। এখন প্রতিদিন তাঁর ৬শ টাকার ওষুধ লাগে। ডাক্টার ২ সপ্তাহ পরপর আরও ৬ থেকে ৮ টা কেমো নিতে বলেছেন। ১ টি কেমোর মূল্য ৩৫ হাজার টাকা। এখন এই কেমো নিয়ার অর্থ আকুব্বর হোসেনের নেই। তিনি বলেন, চিকিৎসা হতে গিয়ে সহায় সম্পত্তি সব বিক্রি করে ফেলেছি। এখন বাড়ির ভিটেটুকু ছাড়া আর কিছু নেই। পাশাপাশি ব্যাংকসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ১৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছি। পাওনাদাররা প্রতিনিয়ত টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে এবং নানা রকম কথার্বতা বলে যা সহ্য করতে পারিনা। মাঝেমাঝে মরে যেতে ইচ্ছে করে। একটি মাত্র ছেলে সবে মাত্র অষ্টম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। বড় তিনটি মেয়ে বিয়ে দিয়েছি। এই কারনে উপার্জনক্ষম কোন ব্যক্তি আমার সংসারে নেই। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুবই হৃদয়বান ও মমতাময়ী নেত্রী। তিনি যদি আমার চিকিৎসার ভার বহন করেন তাহলে হয়তো আমি আল্লাহর রহমতে আবার সুস্থ্য হয়ে উঠতে পারি।উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমা-ার অধ্যাপক আব্দুর রশিদ বলেন, একজন অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধার সঠিক চিকিৎসা হওয়া উচিত। উপজেলা পর্যায়ে সহযোগিতা করার মতো কোন ব্যবস্থা নেই। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেন। আর সমাজের বিত্তবান এবং হৃদয়বান ব্যক্তিরা মুক্তিযোদ্ধা আকুব্বরের চিকিৎসায় এগিয়ে আসতে পারেন

No Comment.