গুজব রটনাকারী শয়তানের দোসর


অথর
ডোনেট বাংলাদেশ ডেক্স   ধর্ম ও জীবন
প্রকাশিত :১০ আগস্ট ২০১৯, ২:৩১ অপরাহ্ণ
গুজব রটনাকারী শয়তানের দোসর

পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে মর্মে একটি গুজব ফেসবুকে ভর করে সমগ্র দেশব্যাপী অত্যন্ত দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ফলে জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়, বাবা-মা ও অভিভাবকগণ তাঁদের সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে পর্যন্ত চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন। আর এর ভেতর দিয়ে ছেলেধরা গুজব রটে যায় দেশব্যাপী। পরিণতিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনিতে বেশ কয়েকজন নিরীহ মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে যায় অল্প সময়ের ব্যবধানে। একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের জন্য বিষয়টি শুধু লজ্জাজনকই নয়, বরং ইসলামের মূল শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। কারণ, রাসুলে করিম (সা.)-এর ভাষ্যমতে, গুজব রটনাকারী শয়তানের দোসর।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)

বলেছেন, অনেক সময় শয়তান মানুষের আকৃতি ধারণ করে লোকদের মধ্যে প্রবেশ করে এবং তাদের মধ্যে মিথ্যা প্রচার করে। ফলে তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে ওঠে, আমি একজনকে এরূপ বলতে শুনেছি। তাকে দেখলে আমি চিনতে পারব, কিন্তু তার নাম জানি না। (সহিহ মুসলিম)

আসলে শয়তান মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে মুসলিম সমাজে বিভক্তি, দ্বন্দ্ব ও সংঘাত সৃষ্টির জন্য মাঝেমধ্যে মিথ্যা গুজব রটিয়ে দেয়, ফলে সমাজ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। যেমন ওহুদের যুদ্ধের দিনে শয়তান মুসলিম শিবিরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের মিথ্যা গুজব রটিয়ে দিয়েছিল। আর আজ আমরা পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে এবং ছেলেধরা গুজবে দিশেহারা।

গুজব রটনাকারী জাহান্নামি
কোনো প্রকার

গুজবে বিশ্বাস করা ও তা প্রচার করা হারাম। আর যে তা করবে রাসুলে করিম (সা.) তাকে মিথ্যাবাদী বলে অভিহিত করেছেন। কেউ রং চড়িয়ে, ইনিয়ে-বিনিয়ে কিছু বললেই যাচাই-বাছাই না করে সেটাকে সংবাদ হিসেবে গ্রহণ ও প্রচার যাবে না।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে সে যা শোনে তা-ই প্রচার করে। (মুসনাদে আবিল জা’দ, হাদিস : ৬২৭, আল-যুহ্দু ওয়ার রিকাক, হাদিস : ৩৭৯)

আর এ ধরনের গুজব জীবন ও সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর আখ্যায়িত করে মহান আল্লাহ মুসলিম সম্প্রদায়কে তা হতে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন এরশাদ

হয়েছে, হে ইমানদারগণ! যদি কোনো ফাসিক তোমাদের নিকট কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তাহলে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখো, এ আশঙ্কায় যে, অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ করে বসবে, ফলে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদের অনুতপ্ত হতে হবে।(সূরা আল-হুজুরাত : ৬)

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানবজাতির হিদায়াতের জন্য রাসুলে করিমকে (সা.) শেষ জামানায় প্রেরণ করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আনীত শরিয়তই হলো চূড়ান্ত হিদায়েত। সুতরাং যে বা যারা রাসুলুল্লাহ (সা.) এর আনীত শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ডের (গুজব তেমনি একটি কর্মকাণ্ড) সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে, তারা চিরজাহান্নামি। মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন, তাদের মধ্য থেকে একজন রাসুল আগমন করেছিল, কিন্তু তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল ফলে সীমালঙ্ঘন করা অবস্থায় শাস্তি

তাদের গ্রাস করে নিয়েছে। (সূরা আন-নাহল : ১৩)