ঘরে প্রবেশের সময় যত ভুল, শুধরে দিচ্ছে ইসলাম


অথর
ডোনেট বাংলাদেশ ডেক্স   ধর্ম ও জীবন
প্রকাশিত :৮ অক্টোবর ২০১৯, ২:২৫ অপরাহ্ণ
ঘরে প্রবেশের সময় যত ভুল, শুধরে দিচ্ছে ইসলাম

মানবজীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামের বিধি-বিধান রয়েছে। ঘুম থেকে ওঠার পর, ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো কাজই ইসলামের বিধি-নিষেধের আওতাবহির্ভূত নয়।

ঘরে প্রবেশের বিষয়টিও অনুরূপ। কোরআন ও হাদিসে ঘরে প্রবেশের বিশেষ কিছু আদব ও শিষ্টাচার বর্ণনা করা হয়েছে। যদিও বেশির ভাগ মানুষ সে বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখে না। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে বিশ্বাসীরা! তোমরা নিজেদের গৃহ ছাড়া অন্য কারো গৃহে গৃহবাসীদের অনুমতি না নিয়ে এবং তাদের সালাম না দিয়ে প্রবেশ কোরো না…’ (সুরা : নুর, আয়াত : ২৭)

তিনি আরো বলেন, ‘তোমাদের শিশুরা বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তারাও যেন তাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের মতো (সর্বদা) অনুমতি প্রার্থনা করে…। ’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৫৯)

ঘরে

প্রবেশের আগে অনুমতি প্রার্থনা করার পর অনুমতি দিলে প্রবেশ করবে, নচেৎ ফিরে যাবে। আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘(ঘরে প্রবেশের আগে) অনুমতি তিনবার নেওয়া চাই। যদি তোমাকে অনুমতি দেয় (তাহলে ভেতরে প্রবেশ করবে), নচেৎ ফিরে যাবে। ’ (বুখারি, হাদিস : ৬২৪৫, মুসলিম, হাদিস : ৫৭৫৩, ৫৭৫৯)

অন্যের ঘরে প্রবেশের সময় নিজের দৃষ্টি ও চক্ষুকে হেফাজত করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘দৃষ্টির কারণেই তো অনুমতির বিধান করা হয়েছে।

(অর্থাৎ দৃষ্টি থেকে বাঁচার উদ্দেশে ওই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে)। ’ (বুখারি, হাদিস : ৬২৪১, মুসলিম, হাদিস : ৫৭৬৪)

বহু মানুষ অন্যের ঘরে প্রবেশের সময় উঁকি দেয়। এটি খুবই অন্যায়মূলক কাজ। এ

বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের গৃহে তাদের অনুমতি না নিয়ে উঁকি মেরে দেখে, সে ব্যক্তির চোখে ঢিল ছুড়ে কানা করে দেওয়া তাদের জন্য বৈধ হয়ে যায়। ’ (বুখারি, হাদিস : ৬৯০২, মুসলিম ৫৭৬৮, আবু দাউদ, নাসাঈ)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো গোষ্ঠীর গৃহে তাদের অনুমতি ছাড়া উঁকি মারে আর তারা (তা দেখে) ওই ব্যক্তির চক্ষু তুলে নেয়, তাহলে তাতে কোনো রক্তপণ (দিয়াত) বা অনুরূপ বদলা (কিসাস) নেই। ’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৮৯৯৭, সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৪০০৬)

বহু মানুষ অন্যের ঘরে গিয়ে কান পেতে রাখে। গোপনে সে তাদের কথা

শুনতে চেষ্টা করে। অথচ ইসলামে এ ধরনের কাজকে আজাবের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা স্বপ্ন বর্ণনা করে, যা সে দেখেনি, ওই ব্যক্তিকে (কিয়ামতের দিন) দুটি যবের মাঝে জোড়া লাগাতে বাধ্য করা হবে। অথচ সে কখনোই তা পারবে না। (যার ফলে তাকে আজাব ভোগ করতে হবে)। আর যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের কথা কান পেতে শুনবে অথচ তারা তা অপছন্দ করে, সে ব্যক্তির উভয় কানে কিয়ামতের দিন গলিত সিসা ঢালা হবে…। ’ (বুখারি, হাদিস : ৭০৪২)

একজন মুসলমান কিভাবে ঘরে প্রবেশ করবে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতকে সে পদ্ধতিও শিখিয়ে দিয়েছেন।

কিলদাহ ইবনে হাম্বাল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি

বলেন, আমি নবী করিম (সা.)-এর কাছে এসে বিনা সালামে প্রবেশ করলাম। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘ফিরে যাও এবং বলো, আসসালামু আলাইকুম, আমি ভেতরে আসব কি?’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫১৭৮, তিরমিজি, হাদিস : ২৭১০)