চাকুরী সরকারিকরণের দাবিতে আমরণ অনশনে অসুস্থ ৩৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক


অথর
ডোনেট বাংলাদেশ ডেক্স   শিক্ষা সংবাদ
প্রকাশিত :৯ জুলাই ২০১৯, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
চাকুরী সরকারিকরণের দাবিতে আমরণ অনশনে অসুস্থ ৩৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক

বাদপড়া চার হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের দাবিতে সোমবার (৮ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ৬ষ্ঠ দিনের মতো আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। গত ৩ জুলাই থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন তাঁরা। আমরণ অনশনে এখন পর্যন্ত ৩৫ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন বলে দৈনিক ডোনেটকে জানিয়েছেন বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মামুনর রশিদ খোকন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন চলবে বলেও জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।

গত ১৬ জুন থেকে বাদপড়া চার হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের দাবিতে ‘বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির’ ব্যানারে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করেছেন শিক্ষকরা। গত ২৩ দিনের আন্দোলনে মোট ১৮১ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন বলে দাবি

করেছেন অনশনরত শিক্ষকরা। তবে, গত ১৮ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন করে আর প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের কোনো প্রস্তাব আপাতত বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মামুনর রশিদ খোকন দৈনিক ডোনেটকে জানান, চার হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের দাবিতে গত বুধবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন শিক্ষকরা। গত ২৩ দিন ধরে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করছি। বুধবার থেকে আমরণ অনশনরত ৩৫ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আর ২৩ দিনের অবস্থানে মোট ১৮১ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। অসুস্থ শিক্ষকদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ৪ হাজার ১৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের ঘোষণা দেয়া না পর্যন্ত

শিক্ষকদের আমরণ অনশন কর্মসূচি চলবে।

অনশনরত শিক্ষকরা জানান, সরকারি হয়নি এমন চার হাজার ১৫৯টি স্কুল রয়েছে। মাঠ পর্যায় থেকে প্রকৃত তথ্য না দেয়ায় এসব স্কুল সরকারি হয়নি বলে দাবি করেন শিক্ষকরা। শিক্ষকরা জানান, সরকারিকরণের প্রক্রিয়ার সময় রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম স্থগিত করায় তারা বেতন-ভাতা, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও টিফিন থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শিক্ষকরা। তারপরেও এসব স্কুলের শিক্ষার্থীরা ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন বলে দাবি করেন শিক্ষকরা।

শিক্ষকরা জানান, তাদের অনেকেরই চাকরিতে প্রবেশের বয়স অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। অধিকাংশ শিক্ষকের অন্যত্র চাকরির আবেদনের সুযোগ নেই। তাই, বাদপড়া ৪ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করে শিক্ষকদের দুরাবস্থা থেকে মুক্তি

দিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।

শিক্ষকরা দাবি করেন, তৎকালীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ১ হাজার ৩০০টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারিকরণের জন্য তথ্য সংগ্রহে মাঠ পর্যায়ে যাচাই বাছাই কমিটিকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু সে বিষয়ে কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।

অবস্থান কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন, বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. কামাল হোসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল প্রমুখ।