চোখের সামনে লোকগুলোকে মরতে দেখেছি


ফেসবুক থেকে
অথর
ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স   সোশ্যাল মিডিয়া
প্রকাশিত :১ এপ্রিল ২০১৯, ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ
  • 39
    Shares
চোখের সামনে লোকগুলোকে মরতে দেখেছি

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানী এফ আর টাওয়ারে আগুন লেগে ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ৭০ জনেও বেশি মানুষ। যারা এ ভয়াবহ আগুনের হাত থেকে বেঁচে গেছেন তারা কিছুতেই ভুলতে পারছেন না চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এ হৃদয় বিদারক ঘটনা। বেঁচে যাওয়া তেমনি একজনের নাম ইরানি রাজ (ফেসবুকে যে নাম আছে)।

গত শুক্রবার তার ফেসবুক ওয়ালে আপলোড করা স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

‘ঘড়িতে আনুমানিক দুপুর ১২টা বেজে ৪০ মিনিট। দু’জন পিয়ন এসে বললো ম্যাডাম নিচে আগুন লাগছে আপনারা সবাই ছাদে চলে যান। যাবনা যাবনা করেও শুধু মোবাইলটা হাতে নিয়ে বের হয়ে দেখি আমাদের ২১ তলার সিঁড়ি ভর্তি লোকজন

ছাদে যাচ্ছে। ২৪ তলায় ছাদে উঠার পর পর-ই ধোঁয়া ভর্তি হয়ে গেলো। তখন সবাই বলা শুরু করলো আপনারা পাশের ছাদে চলে যান, ছাদ পার হওয়ার জন্য সবাই সবাইকে সাহায্য করতে থাকলো। আহমেদ টাওয়ারের ২৪ তলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে যখন নামছিলাম, তখন সবার যে আহাজারি, ফোনালাপ কেউ তার মাকে বলছে মা আগুন লেগেছে আমি মনে হয় বাঁচবোনা মা আমাকে বাঁচাও।

তখন আমি বললাম, বাসায় ফোন করে বাবা-মাকে অস্থির করে তুলবেন না প্লিজ, আল্লাহকে ডাকুন আর নামতে থাকুন। ইনশাল্লাহ আমরা পারবো। আমিও কাউকে ফোন করিনি, আমার মা নেই তাই বলেই হয়ত একটু শক্ত থাকতে পেরেছিলাম। সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে ক্লান্ত হলেও বাঁচার আকুতিটা রয়েই

গেছে। নিচে নেমে দেখি লোকের জনসমুদ্র। ধোঁয়া উড়ছে। তার কিছুক্ষণ পরেই ফায়ার সার্ভিস এর গাড়ি আসলো ক্রেনসহ।

দুঃখের বিষয় হলো, গাড়িটা ১ ঘণ্টা দাঁড়িয়েই থাকলো, না ক্রেনটা উপরে ওঠাতে পারলো না পানি ছাড়তে পারলো। সবাই শুধু তাকিয়েই থাকলো। চোখের সামনে লোকগুলোকে ছিটকে পড়ে মরে যেতে দেখেছি। এসব কি সহ্য করা যায়? উউউফফ।

আমাদের বাংলাদেশে এতবার আগুন লাগলো কিন্তু প্রাণ বাঁচানোর সাপোর্ট এতো কম কেনো? ক্রেনটা যদি ঠিক সময় উপরে ওঠাতে পারতো, পানিটা ঠিক সময় ছাড়তে পারতো, যদি কোন নেট-এর ব্যবস্থা থাকতো, তাহলে হয়তো কিছু প্রাণ বেঁচে যেত। ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রাণ বাঁচানোর সামগ্রী এতো কম কেন, যা আছে তাও অচল কেন?

এতো সবকিছু আপডেট করে কী হবে যদি প্রাণগুলোই না থাকে? আমাদের অফিসের একজন সিনিয়র সহকর্মী অফিসে বসেই প্রাণ দিয়েছেন। ওনার পায়ে সমস্যা ছিলো, হয়তো অনেক অভিমানও ছিলো। তবে অনেক স্টুডেন্টরা অনেকভাবে সাহায্য করেছে দমকল বাহিনীকে। ওরা যা পারে অন্য সবাই তা পারে না, আমি বলছি ফায়ার সার্ভিস-এ দক্ষ লোকজন দরকার। এভাবে আর কত প্রাণ যাবে?

চোখের সামনে সব বারবার ভেসে উঠছে। মস্তিষ্ক এলোমেলো হয়ে গেছে কী দেখলাম। সবার কাছে দোয়া প্রার্থী, যারা চলে গেছে তাদের জন্য, যারা বেঁচে আছে তাদের জন্যও।

No Comment.