জলের ভাঙ্গণ


দীপ্ত হৃদ মতিন
অথর
নতুনত্বের প্রচেষ্টা ডেক্স   সাহিত্য আসর
প্রকাশিত :৯ মে ২০১৯, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
জলের ভাঙ্গণ

ভাঙ্গন শুরু হয়েছে মেঘনার পাড়ে,
মহল্লার মসজিদ, সুরুজ বাউলের আস্তানা,
দিনমজুর আহম্মদ চাচার ঢেরা,
বেশ্যা মজিনার কুঁড়েঘর, জুলহাসের ফার্মেসি
ভিখারী তাগান্নী পাগলীর পলিথিনের ছাউনি,
আবদুল ভাইয়ের চায়ের টং ঘর,
এরশাদ মাষ্টারের চৌচালা ঘর,
গোপাল স্বর্ণকারের দোকান ঘর,
নেপাল নাপিত চাচার ঘর,
বউংকা মিস্তিরির কুঁড়েঘর,
জেলে পাড়ার নরেসের নড়বড়ে ঘর,
হাসান বেপারীর ঘরটি ও ভাঙ্গনের কবলে।
প্রাইমারী স্কুলটিও যাবে এবার।
বেইন্না বাজারেও ফাটল ধরেছে,
রেহাই পাবে না এবার ঈমান ফকিরের মাজার,
হাকিম বাড়ির কবরস্তানও ভাঙ্গনের কবলে,
লোকনাথ কামারের ছোট্ট ঢেরা ঘর,
সরলার মা’র স্বামীর সমাধি
যেখানে তুলসী গাছে জল ঢেলে
নিত্য পূজা করে অতি ভক্তি সহকারে,
ভিটা সহ সমাধী এবার মেঘনার

পেটে যাবে।
গঙ্গা দাসের পেয়ারা গাছটি হেলে পড়েছে।
ফাটল ধরেছে ফসল ভরা মাঠে,
কৃষকের হাসিটুকুও এবার জলে মিলে যাবে,
মেঘনার জলে বিলীন হবে জীবনের আয়োজন।
জলের কাছে সব আয়োজন সমান।

লেখক:
আড়াইহাজারের কৃতি সন্তান যুগ্ম সচিব তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। জন্ম স্থানকে নিয়ে স্মৃতিবিজড়িত অসাধারণ একটি কবিতা।