জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও মুক্ত যুদ্ধ কে জানি।


মিরপুর উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস
অথর
শিক্ষক নিউজ ডেক্স   খোলা মতামত
প্রকাশিত :২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও মুক্ত যুদ্ধ কে জানি।

জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ তৎকালীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের মিরপুর উপজেলা সভাপতি আফতাব উদ্দিন খানের নেতৃত্বে শতাধিক মুক্তিকামী ছাত্রজনতা বর্তমান মাহমুদা চৌধুরী কলেজ রোডের পোস্ট অফিস সংলগ্ন মসজিদে শপথ গ্রহণ করেন। ৩০ মার্চ শেষ রাতে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে প্রতিরোধ যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর জিলা স্কুলে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শুরু হলে হানাদার বাহিনী নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে যশোর সেনানিবাসের সাহায্য চায়। কিন্তু সেখান থেকে সাহায্যের কোনো সংকেত না পেয়ে হানাদার বাহিনী রাতের অন্ধকারে তিনটি গাড়িতে করে গুলিবর্ষণ করতে করতে যশোর সেনানিবাসের দিকে পালিয়ে যায়। পথে ঝিনাইদহ জেলার গাড়াগঞ্জের কাছে রাস্তা কেটে তৈরি করা মুক্তিবাহিনীর ফাঁদে পড়ে যায়

পাক সৈন্যদের দু’টি গাড়ি। এসময় ওই এলাকার মুক্তিবাহিনীর হাতে নিহত হয় তারা। হানাদার বাহিনীর ছয় সদস্য ভোরে জিলা স্কুল থেকে মিরপুরের দিকে পালিয়ে যেতে থাকে। এসময় তারা মশান বাজার সংলগ্ন মাঠের মধ্যে তীব্র প্রতিরোধের মধ্যে পড়ে। সেসময় গুলি চালালে মশানের ডা. আব্দুর রশিদ হিলম্যান, গোলাপ শেখ, আশরাফ আলী ও সোনাউল্লাহ শহীদ হন। মিরপুর থানার কামারপাড়ায় বিছিন্নভাবে তিন হানাদারের সঙ্গে স্থানীয় মুক্তিকামীদের ৩১ মার্চ,১৯৭১ আবারও যুদ্ধ হয়।পাশে একটি বরিশাল নদী আছে। এ যুদ্ধে মিরপুর থানার সিপাহী মহিউদ্দিন, শহীদ মনির উদ্দিন(চুরিওয়ালা) শহীদ হন। আজ ২২ সেপ্টেম্বর২০১৯ তারিখে সরজমিনে উক্ত জায়গা পরিদর্শন করে গুরুত্বপুণ ইতিহাস জানতে পারি, আমার সাথে ছিলেন শাহ আলম প্রধান

শিক্ষক, ফুলবাডিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মোঃ আব্দুল মান্নান মহন, প্রধান শিক্ষক, কামির হাট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, মোঃ সামসুল হক, প্রধান শিক্ষক ( ভারপ্রাপ্ত)ধুবইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রত্যেক্ষ দর্শী জনাব মো: মুক্তার হোসেন জনি যুদ্ধের জায়গাগুলি সরজমিনে দেখান এবং তৎকালিন যুদ্ধের কাহিনী বর্ননা করেন, জায়গাটি হল বারইপাড়া ইউপি, ফুলবাডিয়া ইউপির সংযোগ স্থান, অপর পক্ষে হানাদার বাহিনীর ওই তিন সদস্যও নিহত হয়। শহীদ সিপাহী মহিউদ্দিনের কবরের পাশে মিরপুর উপজেলার শহীদ স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছে। ৮ ডিসেম্বর ভোরে ই-৯ এর গ্রুপ কমান্ডার আফতাব উদ্দিন খান ১৭০ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে মিরপুর থানায় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা গান স্যালুটের মাধ্যমে উত্তোলন করেন। এর পর ৬৫ জন হানাদার

বাহিনীর দোসর ও রাজাকার পাহাড়পুর মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করে। মিরপুর হানাদারমুক্ত হওয়ার সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ১৯৭১ সালের এই দিনে বিভিন্ন বয়সের হাজারো নারী-পুরুষ রাস্তায় নেমে আনন্দ উল্লাস করতে থাকে।পরিশেষে মিরপুর উপজেলা মুক্ত হয়। আসুন আমরা সবাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও মুক্ত যুদ্ধ কে জানি।