জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন ব্যর্থতার দায়ভার কার?


অথর
শিক্ষক নিউজ ডেক্স   খোলা মতামত
প্রকাশিত :৩ জুন ২০১৯, ১০:২১ অপরাহ্ণ | পঠিত : 150 বার
জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন ব্যর্থতার দায়ভার কার?

ড. কুদরত ই খুদা শিক্ষা কমিশনের (৪ খন্ড) সুপারিশ ৪০ বছরে বাস্তবায়ন করতে পারেনি বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলো। শিক্ষার প্রতি সীমাহীন অবহেলা ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা দেখিয়ে একটি ভালোমানের, ড. খুদার শিক্ষা সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন সরকারগুলো নিজেদের প্রশংসা কুড়ানোর লক্ষ্যে নামমাত্র শিক্ষা কমিশন বাঁ কমিটি গঠন করে। ক্ষমতার পালাবদলে, পরবর্তী সরকার পূর্বেকার সরকারের নীতিমালা বাতিল করে নতুন কমিশন/কমিটি গঠন করে। এমনিভাবে আজকে বিশ্ব সংস্থার প্রতিনিধিরাও এশিয়ায় আমাদের শিক্ষার মান সর্বনিম্ন জানিয়েছেন। এমনিতেই দৃশ্যমান হয় না যে, শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে দেশের শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং সরকারগুলো যথেষ্ট আন্তরিক ছিলেন বাঁ আছেন।

২০০৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২য় বার

ক্ষমতায় আসার পরপরই শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি শিক্ষা কমিশন গঠনের উপর গুরুত্বারোপ করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ অনুযায়ী জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী স্যারের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন প্রায় পৌনে দুই বছর বিভিন্ন দেশ সফর এবং দেশের সকলের জনমত যাচাই করে একটি সুপারিশ পেশ করেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাটছাঁট, যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার পর ১৯ ডিসেম্বর’২০১০ জাতীয় শিক্ষানীতি মহান সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। দেশের সকল স্তরের মানুষের আশাআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনে প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন সম্ভব হতো নিঃসন্দেহে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ও বিদ্বেষী মনোভাবের কারণে জাতীয় শিক্ষানীতির ৩০% বাস্তবায়ন করতে পারেনি অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমনও শুনা যাচ্ছে জাতীয় শিক্ষানীতি’২০১০ বাস্তবায়ন যোগ্য নয়। এখন বিবেচ্য বিষয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার এমনি একটি মহতী উদ্যোগ ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ কেন? কাদের কারণে ব্যর্থ হতে বসেছে? এই ব্যর্থতার দায়ভার ধারাবাহিক আওয়ামীলীগ সরকারও এড়াতে পারবে কী? ২০১৯ সালের মধ্যে এই জাতীয় শিক্ষানীতিতে বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে ২৮ টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছিল। ৩/৪ কমিটি কিছু কাজ করলেও বাকি কমিটিগুলো কোন কাজই করেনি নেই কোন জবাবদিহিতা।

অথচ শিক্ষানীতির সুপারিশ অনুযায়ী, শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারি কর্ম-কমিশনের আদলে শিক্ষা কমিশন গঠন, শিক্ষা আইন প্রণয়ন, ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক শিক্ষায় উন্নীতকরণ, শিক্ষকদের সম্মান মর্যাদা

রক্ষায় সতন্ত্র বেতন স্কেল প্রদানসহ গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ সমূহ বাস্তবায়ন করা হয়নি। এই ব্যর্থতার দায়ভার কার? লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যদি লোকদেখানো সন্তুষ্টি অর্জন হয়, তাই দিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন অসম্ভব।
পরিশেষে বলতে চাই, উপরোল্লেখিত মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ
সুপারিশ সমূহ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতি বিনির্মাণের নিপুণ কারিগর সকল স্তরের শিক্ষকদের সকল বৈষম্য দূরীকরণ করতে হবে। এখনই প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ নীতিমালা অনুসরণে মাধ্যমিক শিক্ষা (দ্বাদশ শ্রেণি) জাতীয়করণ করতে হবে। শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপনের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত সকল শিক্ষকদের দীর্ঘ মেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গুণগত শিক্ষকরাই পারেন মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করতে তাই পিএসসির আদলে আলাদা শিক্ষক নিয়োগ কমিশন গঠন করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় শিক্ষা

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত করে বন্ধ করা প্রয়োজন। একই সাথে ভূয়া সনদ ধারীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে চাকরিচ্যুত করা প্রয়োজন বলেও মনে করি।

লেখক
মোঃ সাইদুল হাসান সেলিম
সভাপতি
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম