জেএসসি পরীক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ের প্রস্তুতি


অথর
শিক্ষা বাতায়ন নিউজ ডেক্স   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৫ এপ্রিল ২০১৯, ৪:২২ অপরাহ্ণ
  • 28
    Shares
জেএসসি পরীক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ের প্রস্তুতি

জেএসসি পরীক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ের প্রস্তুতি
মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন
সিনিয়র শিক্ষক
দুলালপুর এস.এম.এন্ড কে উচ্চ বিদ্যালয়
ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা।
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের জেএসসি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল ও ভবিষ্যতে উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রের বিজ্ঞান বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অধ্যায় ভিত্তিক রচনামূলক (সৃজনশীল) প্রশ্নোত্তর তোমাদের জন্য তুলে ধরা হচ্ছে। আজকে তৃতীয় অধ্যায় অর্থাৎ “ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন” থেকে সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্ন তুলে ধরা হলো।

রাইয়্যান ও নূসফাত শীতের ছুটিতে কুমিল্লায় তাদের মামার বাড়িতে বেড়াতে এসেছে।তাদের মামা একজন স্কুল শিক্ষক। বিকালে মামা তাদেরকে নিয়ে বাগান দেখতে গেল। নূসফাত লক্ষ করলো গাছের পাতাগুলো ঝরে পড়ছে। অনেক গাছ প্রায় পাতা শূণ্য। কারণ জানতে চাইলে তার মামা বললেন,

“উদ্ভিদ প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় বায়ুমন্ডলে পানি ছেড়ে দেয়।প্রস্বেদনের হার কমানোর জন্য উদ্ভিদ পাতাগুলোকে ঝেরে ফেলে দিচ্ছে”।
ক. প্রস্বেদন কী?
খ. উদ্ভিদের মূল কেটে ফেললে গাছ মরে যায় কেন?
গ. নূসফাতের মামার গাছের পাতাগুলো ঝরে না পড়লে গাছের কী কোন ক্ষতি হতো? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা দাও।
ঘ. উদ্দীপকে নূসফাতের মামার উক্তিটি একটি পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ কর।
উত্তর:
ক. প্রস্বেদন: উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি নির্গমন হওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বলে।
খ. উদ্ভিদের মূলের শীর্ষভাগ থেকে মূলরোম বের হয়ে মাটির কণার মাঝে প্রবেশ করে। স্থলজ উদ্ভিদগুলোর মূলরোম মাটির সূক্ষ্ণ কণার ফাঁকে লেগে থাকা কৈশিক পানি নিজ দেহে টেনে নেয় এবং বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে

ব্যবহার করে। কিন্তু মূল কেটে ফেললে পানির অভাবে সব বিপাকীয় কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং তাই গাছ মরে যায়।
গ. উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মাটির কণার ফাঁকে ফাঁকে থাকা কৈশিক পানি নিজ দেহে শোষণ করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরিতে কাজে লাগায়।আমরা জানি পাতার নিচের পৃষ্ঠে অসংখ্য ছিদ্র থাকে যাকে পত্র রন্ধ্র বা স্টোমা বলে। উদ্ভিদ এ পত্ররন্ধ্র দিয়ে পাতায় জমাকৃত পানি বাষ্পাকারে বায়ুমন্ডলে ছেড়ে দেয়। শীতকালে বৃষ্টিপাত কম হয় বিধায় মাটিতে পানির স্তর নিচে নেমে যায়।ফলে উদ্ভিদ মূলরোম দিয়ে পরিমাণ মত পানি শোষণ করতে পারে না।উদ্ভিদের মূলরোম দিয়ে যে পরিমাণ পানি শোষিত হয়ে পাতায় উঠে তার চেয়ে বেশি পানি প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় বায়ুমন্ডলে বেরিয়ে গেলে উদ্ভিদের দেহে পানির ঘাটতি দেখা দেবে ফলে উদ্ভিদ নেতিয়ে পরবে কিংবা মারা যাবে। যত পাতা তত বেশি প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় পানি বের হয়। তাই উদ্ভিদ শীতকালে গাছের পাতা ঝেরে ফেলে দেয় যেন প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় পানি বের হতে না পারে।উদ্ভিদের পাতা শীতকালে না ঝরলে বেশি প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ মারা যেতে পারে।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত নূসফাতের মামার উক্তিটি হলো-“উদ্ভিদ প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় বায়ুমন্ডলে পানি ছেড়ে দেয়।প্রস্বেদনের হার কমানোর জন্য উদ্ভিদ পাতাগুলোকে ঝেরে ফেলে দিচ্ছে”। নিচে পরীক্ষার সাহায্যে প্রমাণ করা হলো।
পরীক্ষার উপকরণ: টবে লাগানো দ’টি গাছ, টেবিল, পানি, পলিথিন, সূতা ও ভেসলিন।
পদ্ধতি: দুটি টবে লাগানো গাছ টেবিলের উপর রেখে গাছের গোড়ায় পরিমাণ মতো পানি দেই। একটি গাছকে পাতাযুক্ত রেখে পলিথিনের মোড়ক দিয়ে ঢেকে দিয়ে গাছের গোড়ায় পলিথিনটি সুতা দিয়ে বেঁধে ঐ স্থানে ভেসলিনের প্রলেপ দেই যাতে বাইরের থেকে বাতাস বা পানি না যেতে পারে। অপর গাছটির পাতাগুলো ছিঁড়ে ফেলে একইভাবে প্রথম গাছটির মতো পলিথিন মোড়ক দিয়ে ঢেকে ফেলি। গাছ দুটিকে সূর্যের আলোতে রাখি।
পর্যবেক্ষণ : কিছুক্ষণ পর দেখবে পাতাযুক্ত গাছের টবে পলিথিনের ভিতরে বিন্দু বিন্দু পানি জমেছে কিন্তু পাতাবিহীন গাছের টবে পলিথিনের ভিতরে পানি জমেনি।
ফলাফল: পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা গেল, নূসফাতের মামার উক্তিটি ঠিক। উদ্ভিদ প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় পাতার সাহায্যে বায়ুমন্ডলে পানি ছেড়ে দেয়।

No Comment.