জেএসসি পরীক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ের প্রস্তুতি


অথর
জেএসসি বিজ্ঞান   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৫ এপ্রিল ২০১৯, ৪:২৫ অপরাহ্ণ
  • 119
    Shares
জেএসসি পরীক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ের প্রস্তুতি

জেএসসি পরীক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ের প্রস্তুতি
মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন
সিনিয়র শিক্ষক
দুলালপুর এস.এম.এন্ড কে উচ্চ বিদ্যালয়
ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা।
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের জেএসসি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল ও ভবিষ্যতে উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রের বিজ্ঞান বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অধ্যায় ভিত্তিক রচনামূলক (সৃজনশীল) প্রশ্নোত্তর তোমাদের জন্য তুলে ধরা হচ্ছে। আজকে তৃতীয় অধ্যায় অর্থাৎ “ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন” থেকে সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্ন তুলে ধরা হলো।

ক. ব্যাপন কাকে বলে?
খ. ইমবাইবিশন বলতে কী বোঝ?
গ. A থেকে B- তে দ্রাবকের অণুর চলন প্রক্রিয়া বর্ণনা কর।
ঘ. উদ্ভিদের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর:
ক. যে ভৌত প্রক্রিয়ায় কোনো পদার্থের অণুগুলো অধিকতর ঘনত্বের স্থান

হতে কম ঘনত্বের স্থানে বিস্তার লাভ করে তাকে ব্যাপন বলে।
খ. অধিকাংশ কলয়েডধর্মী পদার্থই প্রানিগ্রাহী। উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন ধরনের কলয়েডধর্মী পদার্থ বিদ্যমান। যথা- স্টার্চ, সেলুলোজ, জিলেটিন ইত্যাদি। এসব পদার্থ তাদের কলয়েডধর্মী গুণের জন্যই পানি শোষণ করতে সক্ষম। কলয়েডধর্মী বিভিন্ন পদার্থ ( উদ্ভিদের ক্ষেত্রে কোষ প্রাচীর) যে প্রকিয়ায় নানা ধরনের তরল পদার্থ ( উদ্ভিদের ক্ষেত্রে পানি) শোষণ করে তাকে ইমবাইবিশন বলে।
গ. উদ্দীপকের A দ্রবণটি হলো হালকা এবং B দ্রবণটি হলো ঘন। A থেকে B তে অর্থাৎ হালকা দ্রবণ হতে ঘন দ্রবণে দ্রাবকের অণুর চলন প্রক্রিয়াটি হলো অভিস্রবণ। একই দ্রাবক ( পানি) বিশিষ্ট দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ একটি অর্ধভেদ্য পর্দা

দ্বারা পৃথক থাকলে যে ভৌত প্রক্রিয়ায় দ্রাবক কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে ব্যাপিত হয় তাকে অভিস্রবণ বলে। অভিস্রবণও এক প্রকার ব্যাপন। অভিস্রবণ কেবলমাত্র তরলের ক্ষেত্রে ঘটে এবং একটি অর্ধভেদ্য পর্দা অভিস্রবণের সময় দুটি তরলকে পৃথক রাখে। অর্ধভেদ্য পর্দা দিয়ে কেবল দ্রবণের দ্রাবক অণু চলাচল করতে পারে কিন্তু দ্রাব অণু চলাচল করতে পারে না। অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় উদ্দীপকের A দ্রবণের দ্রাবক অণু অর্ধভেদ্য পর্দা ভেদ করে B দ্রবণে প্রবেশ করে কিন্তু দ্রাব অণু B দ্রবণে প্রবেশ করে না।
ঘ. উদ্ভিদের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:
i. পানিতে দ্রবীভূত বিভিন্ন খনিজ লবণ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের কোষে প্রবেশ করে।
ii. উদ্ভিদ এককোষী মূলরোম দিয়ে মাটিস্থ পানি অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় শোষণ করে ৷
iii.অভিস্রবণের কারণে রসস্ফীতি ঘটে ফলে উদ্ভিদের কান্ড ও খাড়া থাকে ৷
iv.পত্ররন্ধ্র খোলা বা বন্ধ হওয়া অভিস্রবণ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
হয় ।
v. ফুলের পাপড়ি বন্ধ বা খুলতে পারে।
vi.উদ্ভিদের অভ্যন্তরে এক কোষ হতে অন্য কোষে পানি চলাচল, কোষের বৃদ্ধি, কোষের স্বাভাকিক আকার ও আকৃতি ঠিক রাখা, কোষের দৃঢ়তা প্রদান, মাটি হতে রস উত্তোলন, বীজের অঙ্কুরোদগম প্রভৃতিতে অভিস্রবণ প্রক্রিয়া বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
সুতরাং, কোষের মধ্যে বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক প্রকিয়াকে সচল রাখার জন্য অভিস্রবণের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

No Comment.