জেলা কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে বিএনপিতে অসন্তোষ


২১ জেলার মেয়াদ শেষ হলেও কমিটি হচ্ছে না * অন্যদিকে মেয়াদ শেষের আগেই কয়েক জেলার কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছে * নিজ জেলার কমিটি গঠনে গড়িমসির অভিযোগ সাংগঠনিক সম্পাদকদের বিরুদ্ধে
অথর
ডোনেট বাংলাদেশ ডেক্স   রাজনীতি
প্রকাশিত :৩০ মে ২০১৯, ৭:১২ পূর্বাহ্ণ | পঠিত : 139 বার
জেলা কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে বিএনপিতে অসন্তোষ

দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও শত্তিশালী করার লক্ষ্যে জেলা কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। এরই মধ্যে ৮১ সাংগঠনিক জেলার মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ৪৭টির নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে দলটি। কিন্তু এই পুনর্গঠন নিয়ে বিএনপিতে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কারণ ২১ জেলা কমিটির মেয়াদ অনেক আগে শেষ হলেও নতুন কমিটি হচ্ছে না। অন্যদিকে মেয়াদ শেষের আগেই কয়েকটি জেলার কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করা হয়েছে। এছাড়া কমিটি গঠনের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদকদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছে, তাদের নিজ জেলার কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও সেখানে নতুন কমিটি করার ক্ষেত্রে তারা গড়িমসি করছেন।

কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা জানান, দল পুনর্গঠন নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়ার যৌক্তিক কারণও আছে। দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক ও

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা কমিটি গঠনের। অথচ নিজেদের প্রভাব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে অন্তত ২১ জেলার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি তারা দিচ্ছেন না। বেশ কয়েকটি জেলার সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক পদে সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকরা নিজেরাই আছেন। আবার হাইকমান্ডকে ভুল বুঝিয়ে কয়েকজন তাদের নিজ জেলার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ঠিক রেখেছেন। অথচ নওগাঁ জেলা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৮ মাস আগে তা ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করা হয়েছে।

তবে নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক একজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, কয়েকজন সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের হস্তক্ষেপের কারণে কমিটিগুলো হচ্ছে না, এটা ঠিক। তাদের কয়েকজনের দায়ভার আমরা সবাই নেব কেন। এছাড়া কয়েকটি জেলায় সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন দলের

ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিবের মতো নেতারা। তাদের কারণেও ওইসব জেলার কমিটি গঠন করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, পুনর্গঠনের কাজ চলছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ সাংগঠনিক জেলার নতুন কমিটি করা হয়েছে। এখনও মেয়াদোত্তীর্ণ যেসব জেলা কমিটি বাকি আছে, সেগুলো নিয়ে কাজ চলছে। সেখানে শিগগিরই নতুন কমিটি করা হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দল পুনর্গঠনের কাজ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর পুনর্গঠনে পুরোপুরি মনোযোগ দেয়ার নির্দেশ দেয় হাইকমান্ড। মেয়াদোত্তীর্ণ সাংগঠনিক জেলা কমিটি গঠনে সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাদের দেয়া সুপারিশ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অবহিত

করে মহাসচিব অনুমোদন দেন।

বিএনপির দফতর সূত্রে জানা গেছে, ৮১ সাংগঠনিক জেলার মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ৪৭টির নতুন কমিটি এরই মধ্যে ঘোষণা করেছে দলটি। অথচ ২১ জেলার মেয়াদ অনেক আগে শেষ হলেও কমিটি হচ্ছে না। এর মধ্যে কুমিল্লা দক্ষিণের কমিটি হয়েছে ২০০৯ সালে। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা কমিটির মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জ (২০১০ সালের কমিটি), ফেনী (২০১০), লক্ষ্মীপুর (২০১০), খুলনা মহানগর (২০১০), গাজীপুর জেলা (২০১১ সালের কমিটি), নরসিংদী (২০১১), চট্টগ্রাম দক্ষিণ (২০১১), ময়মনসিংহ দক্ষিণ (২০১২ সালের কমিটি), পিরোজপুর (২০১২), পাবনা (২০১২), পটুয়াখালী (২০১৩ সালের কমিটি), বরিশাল মহানগর (২০১৩), মাদারীপুর (২০১৩), পঞ্চগর (২০১৪ সালের কমিটি), চুয়াডাঙ্গা (২০১৪), বরিশাল দক্ষিণ ও উত্তর (২০১৪), ময়মনসিংহ উত্তর (২০১৪), ফরিদপুর

(প্রয়াত খন্দকার দেলোয়ার হোসেন অনুমোদিত), চাঁদপুর (২০১৪) ও চট্টগ্রাম উত্তর (২০১৪ সালের কমিটি)।

জানা গেছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ২১ সাংগঠনিক জেলা শাখার শীর্ষ পদে রয়েছেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা। এর মধ্যে খুলনা মহানগরের সভাপতি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, গাজীপুর জেলার সভাপতি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, বরিশাল মহানগরের সভাপতি কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ার, লক্ষ্মীপুরের সভাপতি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, নরসিংদী জেলার সভাপতি কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, পটুয়াখালী জেলার সভাপতি হচ্ছেন একজন ভাইস চেয়ারম্যান।

এছাড়া দলের কেন্দ্রীয় এক নেতা অভিযোগ করেন, একজন সাংগঠনিক সম্পাদকের কারণে ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি এবং একজন সাংগঠনিক সম্পাদক ও একজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের কারণে ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার কমিটি হচ্ছে না।

এদিকে কয়েকটি জেলা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেতারা। কেন্দ্রীয় এক নেতা যুগান্তরকে বলেন, অনেক জেলার কমিটির মেয়াদ ৫-৮ বছর আগে শেষ হলেও নতুন কমিটি করার উদ্যোগ নেই। সেখানে কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তা ভেঙে দেয়ার বিষয়টি নিয়ে দলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, নওগাঁ জেলা কমিটি মেয়াদ শেষ হওয়ার আট মাস আগেই তা ভেঙে দিয়ে ৯ মে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাজমুল হক সনি যুগান্তরকে বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আট মাস আগেই আমাদের কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি করে দেয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ দলীয় হাইকমান্ডের বিষয়। হয়তো দলের নেতাকর্মীদের আরও চাঙ্গা করার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাকে নতুন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।