জে এস সি পরীক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ


অথর
এনামুল ইসলাম মাসুদ   শিক্ষা বাতায়ন ডেক্স
প্রকাশিত :২১ অক্টোবর ২০১৯, ১০:১৫ অপরাহ্ণ | পঠিত : 69 বার
  • 27
    Shares
জে এস সি পরীক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ

স্নেহের পরীক্ষার্থীবৃন্দ, জে এস সি পরীক্ষা যত নিকটবর্তী হচ্ছে, তত পরীক্ষাভীতি বেশি হচ্ছে ? এটাই স্বাভাবিক । তারপরও মনের ভিতর কোনো ভয় না রেখে স্বাভাবিক গতিতে পড়াশোনা করতে হবে । শরীরের যত্নের কথা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে । শরীর যাতে খারাপ না হয় সে জন্য নিয়ম মাফিক খাবার, বিশ্রাম, পড়াশোনা এবং সামান্য বিনোদন করতে হবে । বিনোদন হিসেবে বাবা-মায়ের বা ভাই-বোনের সাথে গল্প করতে পারো । শিক্ষামূলক বই পড়তে পারো । তবে এটা যেন নেশা না হয় সেদিকে খেয়াল রেখো । সময় করে পত্রিকা পড়তে পারো । সৃজনশীল পদ্ধতির প্রশ্ন হওয়ায় সরকার কর্তৃক প্রদত্ত পাঠ্যবই লাইন ধরে পড়তে হবে । তাহলে সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনী প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয়া তোমাদের জন্য সহজ হবে । নিয়ম মাফিক পড়াশোনা করবে। পরীক্ষা নিকটবর্তী বিধায় খুব বেশি রাত জেগে থাকা ঠিক হবে না । তারপরও কোনো কারণে যদি শরীর খারাপ হয়, তবে অবশ্যই অতি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে । তার আগে মা-বাবার সাথে শেয়ার করবে । হাতের লেখা ভালো করার জন্য প্রতিদিন এক দেড় ঘণ্টা করে লিখবে এবং দ্রুত লেখার চেষ্টা করবে । কারণ, হাতের লেখা ভালো হলে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করা সহজ হয় । সামনে সময় খুব কম, তাই এখনই যতটুকু সম্ভব - সকল বিষয়ের প্রতি সমান গুরুত্ব দিয়ে রিভিশন করে নাও । শিক্ষার্থী বন্ধুরা, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা বিধায় আমরা গুরুত্ব দেই কম । কিন্তু দুইপত্র একই সাথে ১০০ নম্বর হওয়াতে যেমন সহজ হয়েছে, তেমনই ভালো নম্বর পেতেও যথেষ্ট শ্রম দিতে হচ্ছে । তবুও আমাদেরকে হাল ছেড়ে দিলে চলবে না । বিদ্যা শিক্ষা করা আর সনদপত্র অর্জন করা কিন্তু এক নয় । তুমি জানার জন্য পড়বে । পড়লেই শিখবে । সনদপত্র অর্জন - তোমার বিদ্যা শিক্ষার প্রান্তিক ফল । যা হোক, আমি বলবো সব বিষয়েই সমান গুরুত্ব দিবে । বন্ধুরা, বাংলা প্রথম পত্রে ভালো নম্বর পেতে চাইলে প্রত্যেকটা গল্প কবিতা তোমাকে মনোযোগসহ পড়তে হবে । গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলোর অর্থ বুঝে পড়বে । বিশেষ করে পাঠের উদ্দেশ্য, শব্দার্থ আর পাঠপরিচিতি ভালো করে আয়ত্তে আনবে । বাংলা ব্যাকরণ অংশ সিলেবাস দেখে পড়বে । কেননা পাঠ্যবইয়ে অনেক অধ্যায় দেয়া আছে যা তোমাদের সিলেবাসে নেই । যে পাঠগুলো বা অধ্যায়গুলো সিলেবাসে রয়েছে, সেগুলো ব্যাকরণের সঠিক নিয়ম জেনে পড়ার চেষ্টা করবে । বাংলা ব্যাকরণে প্রথমেই আছে ভাষা । এ অধ্যায় থেকে পরীক্ষায় একটা প্রশ্ন থাকে । সাধু ও চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য , বিভিন্ন পদের সাধু ও চলিত রূপ সম্পর্কে জেনে নেবে । ধ্বনি, বর্ণ, ফলা সম্পর্কে আমি আগেও তোমাদের জন্য লেখা দিয়েছিলাম । আসলে ব্যাকরণ মুখস্থের বিষয় না । ব্যাকরণ পড়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই উদাহরণ থেকে সূত্রে যেতে হবে । যত বেশি চর্চা করবে ততই মনে থাকবে । প্রতিটা অধ্যায় থেকে উদাহরণ পড়বে এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিজে নিজে আরও উদাহরণ তৈরি করবে । যেমন সকর্ম ক্রিয়া আর অকর্ম ক্রিয়া পড়ার ক্ষেত্রে সহজে মনে রাখবে যে ক্রিয়ার কর্ম নাই তা অকর্ম আর যে ক্রিয়ার কর্ম আছে তা সকর্ম ক্রিয়া । তাহলে বুঝতেই পারছ ক্রিয়া আর কর্ম এক না । ক্রিয়া হচ্ছে কাজ আর কর্ম হচ্ছে – কর্তা যাকে আশ্রয় করে কাজ করে বা যার উপর নির্ভর করে কাজ করে । যেমন : মিনা পড়ে , মিনা বই পড়ে বাক্য দুটি থেকে খুঁজে বের কর মিনা কী পড়ে ? প্রথম বাক্যটিতে মিনা কী পড়ে তার উল্লেখ নাই তাই এই বাক্যে কর্ম নাই । দ্বিতীয় বাক্যটিতে কী পড়ে জানতে চাওয়া হলে উত্তরে বই আসবে । তাহলে এই ‘বই’ হচ্ছে কর্ম । আবার দেখো অঘোষ, ঘোষ, অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ধ্বনিগুলো সহজে মনে রাখার একটা ছোট্ট কৌশল আমি তোমাদেরকে বলি । পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে অনেক সময় আসে যে, নিচের কোনগুলো অঘোষ-অল্পপ্রাণ বা ঘোষ-মহাপ্রাণ ? তাহলে এসো দেখে নিই আমরা কীভাবে সহজে মনে রাখতে পারি; উপরেরর চিত্রে লক্ষ করো- ‘ক, খ’ অঘোষ, ‘গ, ঘ’ ঘোষ ধ্বনি। আবার ‘ক, গ’ অল্পপ্রাণ, ‘খ, ঘ’ মহাপ্রাণ ধ্বনি । ধ্বনি উচ্চারণে ‘অ’ ধ্বনিও আগে আসে । ‘অ’ আগে হয় তাই অঘোষ, অল্পপ্রাণ আগেই হবে। আবার দেখো ক হচ্ছে অঘোষ-অল্পপ্রাণ এবং গ হচ্ছে ঘোষ-অল্পপ্রাণ । আবার ‘খ’ হচ্ছে অঘোষ-মহাপ্রাণ এবং ‘ঘ’ হচ্ছে ঘোষ-,মহাপ্রাণ । আমরা যদি পাঁচটি বর্গের পঁচিশটি ধ্বনির সর্বশেষ ধ্বনি অর্থাৎ ঙ, ঞ, ণ, ন, ম ধ্বনিগুলোকে নাসিক্য ধ্বনি হিসেবে ধরে নিই, তাহলে বাকি বিশটি ধ্বনিকে তোমরা উক্ত ছকাকারে উপস্থাপন করে অতি সহজেই মনে রাখতে পারো । অবশ্য বর্তমানে ‘ঙ, ন এবং ম’কে নাসিক্য ধ্বনি বলা হয়ে থাকে । ‘ঞ’ হচ্ছে অগ্রতালু আর ‘ণ’ হচ্ছে পশ্চাৎ দন্তমূল ধ্বনি । এভাবে ব্যাকরণের অন্যান্য অধ্যায়গুলোও কিছু কৌশল করে পড়তে পারো । একটা সার্থক বাক্যের কয়টা গুণ থাকে ? এ প্রশ্নের উত্তরে তোমরা নিশ্চয়ই বলবে তিনটা । তাহলে কী কী গুণ সেটাও নিশ্চয়ই তোমাদের মনে পড়ছে ! চট্‌ করে আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি যোগ্যতা মনে রাখার কয়েকটা উদাহরণ নিজে নিজে লিখে ফেলো । বন্ধুরা, আমি কয়েকটা উদাহরণ দিলামমাত্র । তোমরা তোমাদের শিক্ষকদের দেয়া উপদেশ এবং তাঁদের পাঠ বিশ্লেষণ যদি ফলো করে থাকো, তাহলে অবশ্যই পরীক্ষায় ভালো করবে । ব্যাকরণ হচ্ছে শুধুই চর্চার ব্যাপার । তুমি যদি মনোযোগ দিয়ে চর্চা করো তাহলে আশা করছি আশানুরূপ ফল পাবে । আর বাংলা বানান চর্চার জন্য নিয়মিত চোখ রাখো ‘ দৈনিক ইত্তেফাক’ এর অনুশীলন পাতায় । ভালো থেকো, সুস্থ থেকো । ধন্যবাদ । রিজিয়া পারভীন সহকারী শিক্ষক ( বাংলা ) কাপাসিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কাপাসিয়া, গাজীপুর।

0 Comment

No Comment.