ঝিনাইদহে রমজানে নিত্যপণ্যের মূল্য আকাশ ছোঁয়া সাধারণ ক্রেতারা অসহায়


অথর
বসির আহাম্মেদ জেলা প্রতিননিধি   ঝিনাইদহ, খুলনা
প্রকাশিত :১৬ মে ২০১৯, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
ঝিনাইদহে রমজানে নিত্যপণ্যের মূল্য আকাশ ছোঁয়া সাধারণ ক্রেতারা অসহায়

ঝিনাইদহ পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন ভাবে পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটে চলছে। ফলে সাধারণ ক্রেতারা অসহায় হয়ে পড়েছে। রমজান মাসের শুরুতেই শসা, কলা, ধনিয়াপাতা, বেগুন ও লেবু রোজাদারদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।ঝিনাইদহ জেলার ছয়টি উপজেলার ছোট বড়ো বাজার গুলোতে যথাযথ বাজার মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সাধারণ জনগণ মনে করছে। তবে বিষয়খালী বাজারের কাঁচা মাল ব্যবসায়ী সবুজ, ঝিনাইদহ শহরের কাঁচা মাল ব্যবসায়ী সাকিল, শরীফ, পলাশ জানাই, বাজারে ৩ থেকে ৪ টি পণ্য ছাড়া তেমন কোনো পণ্যের দাম রমজান উপলক্ষে বাড়েনি। মঙ্গলবার ঝিনাইদহ শহরের পৌর বাজার, আরাপপুর কাঁচা বাজার ও এছাড়া সদর

উপজেলার বিষয়খালী বাজারে সাপ্তাহিক হাটবার হওয়াই বাজার ঘুরে দেখা গেছে রমজানের শুরুতে কোন কারণ ছাড়াই বাজার দর তাপমাত্রার সাথে পাল্লা দিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। উত্তপ্ত আবহাওয়া ও উত্তপ্ত বাজার দরে ঝিনাইদহ জেলার ছয় উপজেলার সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিন্ম আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে।দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে খাদ্য পণ্যের মূল্য অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।রমজান মাসের ইফতারের মেন্যুতে লেবুর শরবত, শসা,কলা,মুড়ি, ছোলা,খেজুর, বেগুনি, পিয়াজু সব পরিবারের ইফতারি মেনু হিসাবে থাকে।কিন্তু এবার রমজানের শুরুতেই এইসকল খাবার মধ্যবিত্ত ও নিন্ম আয়ের রোজাদারদের ধরাছোয়ার বাইরে চলেগেছে।ঝিনাইদহ জেলা শহরসহ ছয়টি উপজেলা শহর গুলোর ছোট বড়ো বাজারে প্রতিকেজি শসা ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।যা গত দের সপ্তাহ

আগে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি।প্রতি কেজি বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা। যা গত দের সপ্তাহ আগে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি।লেবু হালি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। যা গত দের সপ্তাহ আগে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি।ধণিয়াপাতা প্রতি কেজি ২’শত টাকা থেকে ২’শত কুড়ি টাকা।খেজুর প্রতি কেজি ২’শত ৫০ টাকা থেকে ৩’শত টাকা।ডাব প্রতি পিছ ৫০ থেকে ৬০ টাকা। যা গত দের সপ্তাহ আগে ২৫ থেকে ৩০ টাকা পিছ বিক্রি হয়েছে।এছাড়া -আলু কেজি ১৫ থেকে ২০ টাকা।পিয়াজ কেজি ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা।রসুন কেজি ৮০ থেকে ১’শত টাকা,কাঁচা ঝাল ৭০ টাকা থেকে ৯০ টাকা,শুকনা ঝাল ২’শত ৫০ টাকা থেকে ৩’শত টাকা,পুইশাক ১০ থেকে ১৫ টাকা,কচুর লতি প্রতি আটি ১৫ থেকে ২০ টাকা,ঝিঙ্গা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা,পটল ৩০ থেকে ৪০ টাকা,শাকের ডাটা ১৫ থেকে ২০ টাকা,বরবটি আটি ২৫ থেকে ৩০ টাকা,ঊষি ২৫ থেকে ৩০ টাকা,আদা ১’শত ৫০ থেকে ১’শত ৬০ টাকা,লাউ প্রতি পিছ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা,সবুজ শাক আটি ৫ থেকে ৭ টাকা,লাল শাক আটি ৭ থেকে ৮ টাকা,কাছ কলা প্রতি হালি ২০ থেকে ২৫ টাকা,পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা,পাতা কপি ২০ থেকে ২৫ টাকা,চাল কুমড়ার জালি প্রতি পিছ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা,লাউ এর ডোগা প্রতি আটি ১০ থেকে ১৫ টাকা,কলমিশাক ৫ থেকে ৭ টাকা, ঘ্যাটকোল আটি ১০ থেকে ১৫ টাকা,টমেটো ৯০ থেকে ১’শত টাকা,সজিনাডাঁটা ১’শত থেকে ১’শত ২০ টাকা,ছোলা কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা। আমদানিকৃত মসুড়ির ডাল কেজি ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা। দেশি ১’শত থেকে ১’শত কুড়ি টাকা।করলা কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা।পটল কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ঢেরস কেজি ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা।মিষ্টি কুমড়া কেজি ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা।চিড়া কেজি ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা।মুড়ি কেজি ৮০ টাকা থেকে ৯০ টাকা।রমজান মাসে সেহেরী ও ইফতারের প্রধান মেন্যু কলা প্রতি হালি ৩২ টাকা থেকে ৪০ টাকা।আখের পাটালি ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা।তল মিসরি কেজি ১’শত থেকে ১’শত ৫০ টাকা।সেহেরীর প্রধান খাবার গরুর দুধ কেজি ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা।এদিকে ব্যাপক সংকট চলছে মাছের বাজারে।মাছের মূল্য দ্বিগুণের চেয়ে বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।প্রতি কেজি রুই বিক্রর হচ্ছে ৩’শত থেকে ৩’শত ৫০ টাকা।কাতলা ২’শত ৮০ টাকা থেকে ৩’শত টাকা।ইলিশ ৮’শত থেকে ১৩’শত টাকা,সিলভার মাছ ১’শত ৫০ টাকা থেকে ২’শত কুড়ি টাকা।চিংড়ি ৭’শত থেকে ৮’শত টাকা।এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ ৬’শত টাকা থেকে ৮’শত টাকা।গরুর মাংস কেজি ৫’শত ২৫ টাকা।খাসির মাংস ৭’শত ৫০ টাকা,দেশী মুরগী ৩’শত ৫০ টাকা,কর্ক মুরগী ২’শত ৩০ টাকা,পল্টি মুরগী ১’শত ৩০ টাকা।বাজারে এজাতিও নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পরেছে।

No Comment.