তথ্য প্রযুক্তি সেবাখাত ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে বাংলাদেশের অর্জন


অথর
শিক্ষক নিউজ ডেক্স   খোলা মতামত
প্রকাশিত :১ এপ্রিল ২০১৯, ৪:৫০ পূর্বাহ্ণ
  • 105
    Shares
তথ্য প্রযুক্তি সেবাখাত ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে  বাংলাদেশের অর্জন

ডিজিটাল বাংলাদেশ’ একটি প্রত্যয়, একটি স্বপ্ন। বিরাট এক পরিবর্তন এর মধ্য দিয়েএগিয়ে চলছেবাংলাদেশ। পরিবর্তনশীল আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে ডিজিটাল বাংলাদেশ রুপকল্প ২০২১ ঘোষনা করেন বাংলাদেশ সরকার। লক্ষ ছিল জাতীরজনক শেখ মুজিবুর রহমান এর স্বপ্নের সোনার বাংলা গোড়ে তুলতে ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে, ২০২১ সালের মধ্যে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গোড়ে তোলা।বিগত বছরগুলোতে সরকারের নানামুখি প্রকল্পেবাংলাদেশের সমাজ ও অর্থনীতিতে ঘটে গেছে ব্যাপক পরিবর্তন। সমাজের গতিশীলতা আসার পাশাপাশি জিডিপি এর প্রবৃদ্ধি হয়েছে রেকর্ড পরিমান। বাংলাদেশ উন্নিত হয়েছে মধ্যম আয়ের অর্থনীতিতে। ২০২১ সালের মধ্যে প্রযুক্তি নির্ভর, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে কয়েকটি ধাপে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার।
প্রথমতঃ ই-গভর্ন্যান্স

পদ্ধতি চালু করে সরকারের সব কাজ ডিজিটালাইজ করা।মানুষের দোর গোড়ায় সেবা পৌছে দেয়া।
দ্বিতীয়তঃ পর্যায়হচ্ছে, স্কুল-কলেজে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষাপাঠ্যসূচিতেঅন্তর্ভুক্ত করা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
তৃতীয়তঃতথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা।
চতুর্থতঃ অপটিকাল ফাইবার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
পঞ্চমতঃ আইটি পার্ক গড়েতোলা।
ইউডিসিঃপ্রথম ধাপের কাজের অংশ হিসেবে সরকারের সমস্ত কাজ জনগননের দোড়গোড়ায় পৌছে দেবার জন্য ও কাজের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতা আনার জন্য স্থাপন করা হয়েছে ইউডিসি।বর্তমানে সারা দেশে ৪৫৪৫ টি ইউডিসি, ৩১৯পিডিসি ও ৪০৭সিডিসি স্থাপন করা হয়েছে। এখানে ৫৩৫১ জন পুরুষ ও ৩১৫৩ জন নারী কর্মসংস্থান হয়েছে। তারা আইসিটি নির্ভর ১০৬ ধরনের সেবা দিয়ে আসছে।
পোষ্ট ই-সেন্টারঃদেশেরআপামর জনসাধারণের নিকট তথ্য ও যোগাযোগ

প্রযুক্তির সুফল ও সেবা পৌঁছে দেয়ারলক্ষ্য বাংলাদেশডাক বিভাগ দেশব্যাপী প্রায় ৮,৫০০টি গ্রামীন ডাকঘর কে পোষ্ট ই-সেন্টাররে রুপান্তর করেছে।এখান থেকেও গ্রামীন জনগোষ্টি আইসিটি নির্ভর সেবা পেয়ে আসছে।
শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবঃতথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষিত ভবিষ্যত প্রজন্ম তৈরির জন্য সারাদেশে প্রতিটা জেলায় একটি ভাষা শিক্ষা ল্যাব সহ মোট ২৯০১ টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।
প্রতিটি ল্যাবে ১৭টি কম্পিউটার, একটি লেজারপ্রিন্টার, একটি স্ক্যানার, একটি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর (স্ক্রিনসহ), দ্রুত গতির ইন্টারনেট,থ্রি-জি রাউটার ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবেরমাধ্যমে প্রতিবছর ১০ লাখ শিক্ষার্থী আইসিটি শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগপাচ্ছে।এছাড়া ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাবগুলোতে রয়েছেইংরেজি চীনা, কোরিয়ান, জাপানিজ, ফরাসি, স্প্যানিশ, জার্মান, আরবি ও রুশ মোট ৯টি ভাষাশেখার সুযোগ।
মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমঃ সারা দেশে ২০৫০০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম থেকে ৫ শ্রেণি পর্যন্ত ২১ টি পাঠ্যবই ডিজিটাল ইন্টারেকটিভ মাল্টিমিডিয়া পাঠ্যবই এ রুপান্তর করা হয়েছে।
UITRCE:সরকারের আর একটি যুগান্তকারি পদক্ষেপ হলো উপজেলা আইসিটি ট্রেনিং সেন্টার ফর এডুকেশন (UITRCE)স্থাপন করা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের আওতায় ব্যানবেইস ১ম পর্যায়ে সারাদেশে ১২৫ টি ল্যাব স্থাপন করে। এই ল্যাবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের শিক্ষকগণকে আইসিটি বিষয়ে ট্রেনিং প্রদান করা হচ্ছে। ২য় পর্যায়ে ১৬০ টি ও ৩য় পর্যায়ে অবশিষ্ট ২০৭ টি উপজেলায় এই ল্যাব স্থাপন করা হবে।ফলে ২লক্ষ শিক্ষককে তথ্য প্রযুক্তি প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা করা সম্ভব হবে।
মোবাইল বাসঃনারীর ক্ষমাতায়ন আইসিটি বিভাগ মোবাইল আসিটি ট্রেনিং ল্যাব চালু করেছে। এই বাস সম্পুর্ন সাউন্ডপ্রুফ। উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগসহ ২৫টি অত্যাধনিক কম্পিউটার সম্বলিত ৭টি বাস দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া নারীদেরকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান আসছে।
ট্যাবলেট কম্পিউটার বিতরনঃসরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরো দ্রুততর ও সহজতর করতে এ পর্যন্ত ২৫০০০ টি ট্যবলেট কম্পিউটার সরকারি কর্মকর্তাগণের মাঝে বিতরন করা হয়েছে এবং শুধু মাত্র সরকারি কর্মকর্তাগণের ব্যাবহারের জন্য একটি বিশেষ মোবাইল এপস তৈরি করা হয়েছে।
ভিডিও কনফারেন্স সিস্টেমঃসরাকারের শীর্ষপর্যায়ের কর্তাব্যাক্তিগণ যাতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরাসরি কথাবলতে পারে ও বিভিন্ন কাজের তদারকি করতে পারে এজন্য দেশ ব্যাপি ৮০০ টি ভিডিও কনফারেন্সি সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলার রয়েছে নিজস্ব ওয়েব পোর্টাল।
শেখ কামাল তথ্যপ্রযুক্তি ট্রেনিং-ইনকিউবেশন সেন্টারঃদেশের সাতটি জেলায় শেখ কামাল তথ্যপ্রযুক্তি ট্রেনিং-ইনকিউবেশন সেন্টারসেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। এগুলো হলো ১. সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ, ২. চট্টগ্রামের বন্দরএলাকা, ৩. নাটোরে সিংড়া, ৪. কুমিল্লা সদর, ৫. ময়মনসিংহের নেত্রকোনা, ৬. বরিশাল
সদর এবং৭. মাগুরা সদরে এই সেন্টার স্থাপিত হবে।
প্রযুক্তি শিল্পঃআইসিটি শিল্প রপ্তানিকে উদ্ধুদ্ধ করতে হার্ডওয়ার সফটওয়ার বা সার্ভিস রপ্তানিতে ১০ শতাংশ নগদ প্রনোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ল্যাপটপ স্মার্টফোন ও স্মার্ট টিভির ইকুপমেন্ট আমদানির ক্ষেত্রে ডিউটি ফি ৩৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে আগামী কয়েক বছরে
২ বিলিয়ন সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। আইসিটি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার জন্য এই খাতে সকল কর্পোরেট ট্যক্স মৌকুফ করা হয়েছে। এছাড়া দেশের ২৮ টি হাইটেক পার্কে দেশি বিদেশি যেকোন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১০০ ভাগ ক্যাশ রিপ্যাটরিয়েট এর সুবিধা রাখা হয়েছে।
স্যাটালাইট উৎক্ষেপণঃ আইসিটি অবোকাঠামো খাতে বাংলাদেশ সরকারের একটি উল্ল্যেখযোগ্য উচ্চাভিলাসী প্রকল্প হলো বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটালাইট।এর মধ্যদিয়ে ৫৭ তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটালাইট উৎক্ষেপণকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হয় বাংলাদেশের নাম।বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটালাইট থেকে ৩ ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে। ১. দেশের সকল টেলিভিশন চ্যানেল গুলো স্বল্প খরচে টিভি সম্প্রচার করতে পারবে। ২. বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটালাইটের ফ্রিকুয়েন্সি ব্যবহার করে ইন্টারনেট বঞ্চিত অঞ্চলে যেমন পার্বত্য ও হাওড় এলাকায় ইন্টারনেট সুবিধা দেয়া সম্ভব হবে। ৩. বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোন কারনে মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়লে তখন এই স্যাটালাইট এর মাধ্যমে দুর্গত অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব হবে।
হাইটেক ও আইটি পার্ক স্থাপনঃসারাদেশে ২৮ টি হাইটেক ও আইটি পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহন করে।
এর অংশ হিসেবে যশোরে ১৩.১৩ একর জমির উপর ২৫৩ কোটি টাকা ব্যায়ে গড়ে তোলা হয়েছে অত্যাধনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত শেখ হাসিনা সফটওয়ার টেকনোলজি পার্ক। গাজিপুরের কালিয়াকৈর এ ৩৫৩ একর জমির উপর গড়ে উঠেছে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি। এছাড়া রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটি সিলেটে
ইলেক্ট্রনিক সিটি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
ইনফো সরকারঃসারাদেশের সহজ ও সুলভে উচ্চগতির ইন্টারনেট প্রপ্তি নিশ্চিত করতে সমস্ত দেশকেই অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসার জন্য বাস্তবায়ন করছে ইনফো সরকার ৩ প্রকল্প।
দেশের ৬৪টি জেলাকে অপটিকাল ফাইবার নেটওয়ার্কের আওতায় আনাসহ ২৬০০ ইউনিয়ন ও ১ হাজার থানাকে সংযুক্ত করতে যাচ্ছে। ফলে শুধু শহর নয় প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলেও আউট সোর্সিং সহ বিভিন্ন উৎপাদান মুখি কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং জাতীয় আয় ও মানুষের জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে।
সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করার কারনে বর্তমানে আইসিটি খাতে রপ্তানির পরিমান ৮০০ মিলিয়ন ডলার। ২০১৮ সালের রপ্তানি লক্ষমাত্রা ছিল ১ বিলিয়ন ডলারে। ২০২১ সালের মধ্যে এই পরিমান বেড়ে দাঁড়াবে ৫ বিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ আমরা আর বেশি দূরে নয়। আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ আর স্বপ্ন নয় প্রতিটি কাজ আজ শেষ পর্যায়ে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ সময়ের ব্যাপার মাত্র। ২০২১ সালে স্বাধিনতার ৫০ বছর পূর্তির মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে প্রযুক্তি নির্ভর, সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে আত্নপ্রকাশ করবে। উন্নয়নশীশ দেশের মধ্যে একটি মডেল হয়ে স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে বাংলাদেশের নাম।

মোঃ লেলিন হোসেন
সহকারি শিক্ষক (আইসিটি)
চুয়াডাঙ্গা ফাযিল মাদরাসা
রেল বাজার, চুয়াডাঙ্গা।

No Comment.