দেশের শিক্ষার মানোন্নয়ন উল্টো রথেঃ কতিপয় প্রস্তাবনা


অথর
শিক্ষক নিউজ ডেক্স   খোলা মতামত
প্রকাশিত :৬ জুলাই ২০১৯, ৭:২৩ পূর্বাহ্ণ
দেশের শিক্ষার মানোন্নয়ন উল্টো রথেঃ কতিপয় প্রস্তাবনা

গুনগত মানের শিক্ষার জন্য অপরিহার্য উপাদান মেধাবী শিক্ষক। শিক্ষা জাতির আশাআকাঙ্ক্ষা বাঁ চাহিদা মেটাতে না পারলে শিক্ষকের অপরিহার্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠাই স্বাভাবিক। মাননীয় অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় জাপানকে অনুসরণ ও শিক্ষক আমদানির বিষয়টি বিবেচ্য। সরকারের উদাসীনতা ও অবহেলায়-ই যে, শিক্ষকতা আকর্ষণীয় ও মর্যাদাশীল করা সম্ভব হয়নি তা নির্দ্বিধায় বলা যায়। অপরদিকে এই বিষয়ে শিক্ষকদের মধ্যে সচেতনতা বা উপলব্ধি বোধ অনুপস্থিত। শিক্ষকদের পেশাগত দাবির পাশাপাশি শিক্ষার উন্নয়নে এবং মান বৃদ্ধিতে সহায়ক অধিকতর দায়িত্ব কর্তব্য পালন করা প্রয়োজন।

এটা স্বীকৃত যে, বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় আর্থিক সহায়তা অপ্রতুল। বাজেটের আকার বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দের আঁকার বৃদ্ধি পেয়েছে এতটুকুই। সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষার মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার

দিয়েছে অথচ শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে পারেনি। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ শিক্ষার বিনিয়োগ সর্ব নিম্নে। ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ২০% বরাদ্দ প্রদান করেনি সরকার। দাতা দেশগুলোও বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে, এর পেছনের কারণ, শিক্ষাব্যবস্থায় সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়ম। আমাদের শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে আমাদের সদিচ্ছার অভাব-ই প্রকট। এর উত্তরণে সংলাপের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা অতীব জরুরি।

কতিপয় প্রস্তাবনাঃ
** আমাদের শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
** প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
** সমতার ভিত্তিতে গ্রাম ও শহর সকলের জন্য বৈষম্যহীন একমুখী শিক্ষা নিশ্চিতকরণে সরকারি দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন।
** শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যমান ত্রুটি সমূহ চিহ্নিত

করতে শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সাথে ঘনঘন সভা সেমিনার অনুষ্ঠিত করা দরকার।
** গুনগত মানের শিক্ষার জন্য সর্বদলীয় উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষা কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।
** জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
** যথাশীঘ্র শিক্ষা আইন প্রকাশ করা প্রয়োজন।
** সরকারি বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বেতন-ভাতার বৈষম্যের সমাধান করা প্রয়োজন।
** এখন ই সরকার কর্তৃক বিনামূল্যের বুনিয়াদি শিক্ষা স্তর মাধ্যমিক অর্থ্যাৎ দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ঘোষণা করা প্রয়োজন।
** এমপিও ভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষকদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে অবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
** শিক্ষক নিয়োগে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ন্যায় আলাদা কমিশন গঠন করা জরুরি।
** সকল স্তরের শিক্ষকদের সামাজিকভাবে

মর্যাদাশীল ও আকর্ষণীয় এবং সতন্ত্র বেতন-ভাতা প্রদানের মাধ্যমে মেধাবীদের শিক্ষকতায় আকৃষ্ট করা প্রয়োজন।
** বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ শিক্ষকদের বেতন ভাতা বৃদ্ধিতে এবং সঠিক প্রকল্পে স্বচ্ছতার সাথে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
** জাপান ও চীন থেকে মাষ্টার ট্রেনার নিয়োগ করে দেশের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। চীন শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত শিক্ষা গ্রহণ করে অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি করা সম্ভব হয়েছে।
** অপ্রয়োজনীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জাল সনদের শিক্ষকদের চিহ্নিত করে বাদ দেয়া প্রয়োজন।
** শিক্ষার মান উন্নয়নে কাম্য পরীক্ষার্থী ও পাসের হারের বাধ্যবাধকতা বাতিল করা প্রয়োজন। এতে যেনতেন ভাবে শিক্ষার্থীদের পাস করানোর জন্য শিক্ষকরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

/> ** বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মতো শিক্ষক কর্মচারীদের পেনশন সুবিধার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

দেশের অভাবনীয় উন্নয়ন অগ্রগতিতে শিক্ষকদের অবদান অপরিসীম। তাই অবিলম্বে এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের মাধ্যমে সকল স্তরের শিক্ষকদের মর্যাদাশীল করা জাতীয় দায়িত্ব। কিছুসংখ্যক পরামর্শক বলেছেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষায় কাংখিত বরাদ্দ এবং জাতীয়করণ সম্ভব নয়। আহ্বান জানাচ্ছি,শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় বসুন, অর্থনীতির ভাষায় সমাধান দিব ইনশাআল্লাহ। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত কোন অর্থের প্রয়োজন হবে না।

মোঃ সাইদুল হাসান সেলিম
সভাপতি
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম