ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে দিনব্যাপী বিক্ষোভ


অথর
ডোনেট বাংলাদেশ ডেক্স   শিক্ষা সংবাদ
প্রকাশিত :১০ জানুয়ারি ২০২০, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
  • 5
    Shares
ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে দিনব্যাপী বিক্ষোভ

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভে উত্তাল ছিল ক্যাম্পাস। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী নানা প্রতিবাদী কর্মসূচির মাধ্যমে ধর্ষকের ফাঁসির দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।এ ঘটনাসহ আগের সব ধর্ষণের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা। এ ছাড়া ধর্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।টিএসসিতে ডাকসুর উদ্যোগে ধর্ষকের প্রতীকী ফাঁসি দেয়া হয়। এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার মজনুকে বৃহস্পতিবার সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ধর্ষণ ও নিপীড়নবিরোধী গণপদযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।গণপদযাত্রাটি রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক

প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এ সময় ডাকসু ভিপি নূরুল হক নূর বলেন, যদি কিছু ঘটনায় প্রতিবাদমুখর হয়ে বাকি ঘটনাগুলোয় আমরা প্রতিবাদ না করি, তাহলে অপরাধীদের মুখোমুখি করা এবং সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব হবে না।তিনি বলেন, ইতিমধ্যে মানুষ প্রশ্ন তুলছে সে আসল ধর্ষক কি না, নাকি এটি একটি জজ মিয়া নাটক। যদিও আমরা জানি না, আসলে সেটা কি।ভিপি নূর বলেন, যখন কোনো ঘটনার জোরালো হয় এবং ছাত্র সমাজ ও সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসে, তখন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হার্ডলাইনে যায়।যখন প্রতিবাদ থেমে যায়, তখন ঘটনাগুলো আবার পর্দার আড়ালে চলে যায়। রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণেও

অনেকে অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে। সে কারণেই এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।সকাল ১০টার দিকে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ছাত্রদল। সংগঠনটির ঢাবি শাখার আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সদস্য সচিব আমানউল্লাহ আমানের নেতৃত্বে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিশেষ একটি গোষ্ঠী ছাড়া দেশে কারও নিরাপত্তা নেই। সারা দেশে যেন ধর্ষণের উৎসব চলছে।দুপুর ১২টার দিকে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমাবেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তারা ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।এরপর বিক্ষোভ করেন ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সমাবেশে বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, আমরা চাই ওই নরপিশাচ ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হোক এবং তা

দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর করা হোক।
এদিকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এবং ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ১৬ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় সাদা খাতা জমা দিয়েছেন।বেলা ১টার দিকে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ধর্ষক মজনুর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গণরুমের শিক্ষার্থীরা’। পরে ডাকসু সদস্য তানবীর হাসান সৈকত বলেন, আজ হয়তো আমাদের বোন ধর্ষণ হওয়ার কারণে সর্বস্তরের মানুষ প্রতিবাদ করছে।আমাদের যে বাকি বোনরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে সেসব ঘটনায় সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে? আমরা চাই, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করে আইন প্রণয়ন করা হোক। দুপুর দেড়টার দিকে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের সামনে ধর্ষণবিরোধী ফ্ল্যাশমব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।শিক্ষার্থীরা বলেন, এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার ফসল

হল ধর্ষণ। আমরা ধর্ষণের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও তার সংলগ্ন এলাকাগুলোয় কথায় ও গানে ধর্ষক ও এই সিস্টেমের দিকে আঙুল তুলতে ধর্ষণবিরোধী ফ্ল্যাশমব করছি।বিকাল ৫টায় টিএসসিতে স্থাপিত ‘নিপীড়নবিরোধী ডাকসু মঞ্চে’ ধর্ষক মজনুর ফাঁসির দাবি জানিয়ে প্রতীকী ফাঁসির আয়োজন করে ডাকসু। এ সময় ডাকসুর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী বলেন, অতি দ্রুত যেন এই ধর্ষণের বিচার সম্পন্ন হয় এবং ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে আইন প্রণয়ন করা হয়- সেই দাবি জানাই।মজনু সাত দিনের রিমান্ডে : এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার মজনুর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আবু সিদ্দিক বৃহস্পতিবার আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাফুজ্জামান আনছারী আসামির রিমান্ডের এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু, হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ডের শুনানি করেন।
শুনানিতে তারা বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা জানার জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ একান্ত জরুরি। অপরদিকে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।এদিকে ডিবির উত্তরের উপকমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান বলেন, ভিকটিম এবং আসামির সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেছি। দু’জনের বর্ণনায় মিল পাওয়া গেছে।পরে আসামিকে আদালতে নেয়া হয়। এর আগে আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে মজনু একই ধরনের একই কাজ করেছে বলে জানা গেছে। প্রয়োজনে ওই সব নারীকেও খুঁজে বের করা হবে।এ ছাড়া প্রয়োজনে আসামিকে শনাক্তকরণ প্যারেডও করানো হবে। তবে আগেই শনাক্ত হয়ে গেলে প্যারেডের প্রয়োজন হবে না। এদিকে গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ধর্ষণের পর ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত ওই ছাত্রীকে নিজের পাহারায় রাখে মজনু।তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, মজনুর ডিএনএ টেস্টসহ ভিকটিম ও আসামির আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়া মাত্রই দ্রুত এ মামলার তদন্ত শেষ করা হবে।হাসপাতাল ছাড়লেন ওই ছাত্রী : ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার একেএম নাসিরউদ্দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়েছে। মেয়েটি সুস্থ আছে।মেডিকেল বোর্ড তাকে বুধবার দেখেছে। বৃহস্পতিবার তাকে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত দেয় বোর্ড। মেয়েটিও আর হাসপাতালে থাকতে চাচ্ছিল না। তিনি বলেন, ওই ছাত্রীকে বলা হয়েছে, সে অসুস্থ কিংবা কোনো ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হলে যে কোনো সময় হাসপাতালে চলে আসতে পারে।
তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। ব্রিগেডিয়ার নাসিরউদ্দিন জানান, হাসপাতাল ছাড়ার আগে ছাত্রীর বাবা কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠির বরাত দিয়ে তিনি বলেন- ঢামেক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার তাদের পাশে ছিল পুরো সময়। সবাই সহযোগিতা করেছে।৫ জানুয়ারি ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ড থেকে ফুটপাত দিয়ে ৪০-৫০ গজ সামনে আর্মি গলফ ক্লাব মাঠ সংলগ্ন স্থানে ভিকটিম পৌঁছালে আসামি পেছনের দিক থেকে তাকে গলা চেপে ধরে।তাকে ফুটপাতের মাটিতে ফেলে দেয়। ভিকটিম চিৎকার করতে গেলে আসামি তাকে কিল-ঘুষি মেরে ভয়ভীতি দেখায়। এতে ভিকটিম অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তখন আসামি মজনু ভিকটিমকে ধর্ষণ করে।
গত ৮ জানুয়ারি ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন শেওড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে আসামিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। আসামির স্বীকারোক্তি মোতাবেক ভিকটিমের ব্যাগ, মোবাইল ও পাওয়ার ব্যাংক এবং আসামির ব্যবহৃত একটি জিন্সের প্যান্ট ও একটি জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়।