নতুন প্রজন্মের তরুণ শিক্ষকদের কাছে একটি খোলা চিঠি।


অথর
শিক্ষক নিউজ ডেক্স   খোলা মতামত
প্রকাশিত :৩ জুন ২০১৯, ১০:২০ অপরাহ্ণ | পঠিত : 361 বার
নতুন প্রজন্মের তরুণ শিক্ষকদের কাছে একটি খোলা চিঠি।

বৃষ্টি ঝরতে তো সবাই দেখেছেন। কখনো কি এমনটা দেখেছেন আজীবনের জন্য বৃষ্টি ঝরা শুরু হয়েছে? ঠিক একইভাবে জীবনে কোনকিছুই দীর্ঘস্থায়ী হয়না। তাই আপনার জীবনেরে এই খারাপ সময়গুলোতে দিশেহারা হবে না। বিশ্বাস করেন এই সময়ের শেষও আছে আমি বলছি মিলিয়ে নিবেন।
.
আপনি যদি একটি শক্তিশালী সংগঠনের মাধ্যমে আপনার অধিকার আদায় করতে চান ,তাহলে আপনার সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে উল্লেখিতভাবে সংগঠিত হতেই হবে । যেমন , বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার ,ডাব( বাংলাদেশ ডক্টরস এসোসিয়েসন ), নার্সদের সংগঠন, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি সহ অনেক এ ধরনের শক্তিশালী সংগঠন এদেশেই রয়েছে । আর যতদিন পর্যন্ত আপনারা এভাবে সংগঠিত হতে না পারবেন ততদিন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতা

আপনাদের জন্য কিছুই করতে পারবেন না । পারবেন শুধু আপনাদেরকে ব্যবহার করে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে । সংগত কারনেই আমি সমিতির কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকটা নির্দোষ মনে করি এবং দ্বিতীয় সারির নেতাদের কে ৯০% দায়ী করি । ঢাবি এর চ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় পাশের হার তিনের নীচে । আর এজন্যই আমি মনে করি “মাধ্যমিক শিক্ষা পচা মাল” মাননীয় অর্থমন্ত্রীর উক্তিটি ১০০% যথার্থ এবং এর জন্য দায়ী আমাদের দুর্বল পেশজীবি সংগঠন। কীভাবে ??? পরে ব্যাখ্যা করবো।
.
আমার একজন সুহৃদ যিনি আমাদের আন্দোলনের সময় যথেষ্ট পরিশ্রম করেছিলেন এখনও মাঝে মাঝে আমার লেখার উৎসাহব্যঞ্জক কমেন্ট করে অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকেন তিনি মানুষ ও বন্ধু

হিসাবে খুবই চমৎকার । আপাদমস্তক রোমান্টিক ।তার কমেন্টে আমি উৎসাহ পাই কিন্তু আমার পূর্বের লেখায় তিনি যে কমেণ্ট করেছেন তাতে আমার হতাশ হওয়ার কথা কিন্ত তা না হয়ে আমি বিস্মিত হয়েছি । কারন যে বাংলাদেশের মানুষ ভাষার অধিকারের জন্য জীবন দিতে পারে ,যে দেশে সালাম, রফিক জব্বার এর মত বীরের জম্ম হয় ,যে দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দিতে পারে , যে দেশ বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল , সিপাহী নুর মোহাম্মদ এর মত বীর শ্রেষ্ঠদের স্বদেশভূমি , যে দেশে গণতন্ত্রের জন্য শহীদ নুর হোসেন হাসি মুখে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারে যে দেশে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ,মাওলানা

হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের মত নেতার জম্ম হয় সেই দেশে তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার উদ্দেশ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরে একটি শক্তিশালী পেশাজীবী সংগঠন তৈরীর স্বপ্ন অবাস্তব/ কাল্পনিক !!!!!! । এটাও আমাকে বিশ্বাস করতে হবে !!!! তাও আবার একজন রোমান্টিক বন্ধুর কাছ থেকে !! হ্যাঁ এটা ঠিক যে আমার লেখায় কোন ইতিবাচক কমেন্ট পরে নাই । কেন পরে নাই সেটাতো আমি জানি । ঐ পর্বে কর্তাব্যক্তিদের মানে স্যারদের মসনদ কাপানোর কথা ছিল এ জন্য কেউ সাহস করে কমেণ্ট করেন নাই । অথচ আমি জানি আমার লেখাগুলো অনেকে সহকর্মীদের পড়তে দেন এবং আমার সাথে ফ্রেন্ডশিপ করার জন্য বলেন । তাহলে

এখন প্রশ্ন করতে পারেন । আপনি এই দুর্বল চিত্তের সহকর্মীদের দিয়ে কীভাবে আপনার স্বপ্নের শক্তিশালী সংগঠন তৈরী করবেন ?? আপনি কী সত্যিই পারবেন ?? আমি অত্যন্ত দৃঢতার সাথে বলবো আমরা পূর্বে পেরেছিলাম এবং দেখিয়েছিলাম । আপনারা আমাদের ডাকে হাজার হাজার শিক্ষক সাড়া দিয়েছিলেন আর সাড়া দিয়েছেলেন বলেই এইটুকু পেয়েছিলেন । আস্তে আস্তে সেটা প্রমানিত হতে চলেছে । তারা যখনই এদিকে ফিরবেন আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন তখন সব কিছু আদায় করা হবে সময়ের ব্যাপার মাত্র । কারন এখন অনেক কিছু শিখেছি যা আগে জানা ছিল না । আমরা চেষ্টা করব আমার সন্মানিত সহকর্মীদের বোঝাতে যে নিজেদেরকে ভালবাসতে শিখুন এবং সন্মান করতে শিখুন ।
.
একটি সংগঠন- তার নিয়মতান্ত্রিক কৌশলগত কাজ চালিয়ে নেবার জন্য মিনিমাম একটা খরচ প্রয়োজন। কে কে দিয়েছেন অন্তত বিশ টাকা করে তাদের দাবীপূরণের স্বার্থে। আমি জানি কেউই দেন নাই অথচ সমানে গালাগালি চালিয়েই যাচ্ছেন।কার এত দায় পড়বে বলেন যে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো। আপনারা এগিয়ে আসুন। অংশ নিন। সামনে উজ্জলতর সময় আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে। (এটি প্রথম পর্ব। লেখাটি চলমান থাকবে)