নৈতিকতার অবক্ষয়ে বিপন্ন মানবতা


অথর
ডোনেট বাংলাদেশ ডেক্স   শিক্ষা সংবাদ
প্রকাশিত :১০ জুলাই ২০১৯, ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ
নৈতিকতার অবক্ষয়ে বিপন্ন মানবতা

ধর্মের মূল ভিত্তিই নৈতিকতা। ইসলামে নৈতিকতার গুরুত্ব অপরিসীম। শিশুর মধ্যে সৎগুনাবলীর সঠিক বিকাশ-ই নৈতিকতা। কিন্তু দুঃখজনক হ’লেও সত্যি, আজ আমাদের সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে নৈতিকতার অবক্ষয় পরিলক্ষিত হচ্ছে। কর্মহীন শিক্ষা যেমন অবান্তর, তেমনি ধর্মহীন শিক্ষা নিরর্থক। ধর্মীয় শিক্ষাকে সংকোচিত করে নৈতিক শিক্ষার আশা দুরাশা। সমাজের সকলকে ধর্মীয় শিক্ষা না দেয়া গেলে তাদের নৈতিকতা ও নীতিবোধ জাগ্রত হ’তে পারে না। সুতরাং ধর্ম শিক্ষার অভাব-ই নৈতিক অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করি।

পাশ্চাত্যের অপসংস্কৃতি ও অশ্লীলতার অক্টোপাশে আমাদের নৈতিকতার শিক্ষা আজকে লোপ পেতে বসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, জ্ঞান বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতায় পৃথিবী আজকে অন্যান্য যে কোন সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থান করছে।

আধুনিক বিশ্বায়নের যুগে জীবনের দ্রুত প্রসার ও উন্নয়নে তথ্য প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, গণমাধ্যমের প্রসার, টেলিভিশন,রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ, পরিবারিক নেতিবাচক সাংস্কৃতিক প্রভাব, ব্যপকভাবে প্রভাবিত করছে আমাদের যুবসমাজকে। দ্রুত পরিবর্তিত সমাজে মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নিম্নমানের শিক্ষাব্যবস্থা, ধর্মীয় অনুভূতিহীন শিক্ষা, নীতিবোধ হীন পারিবারিক বন্ধন সবকিছুই মানুষের ব্যক্তিগত নৈতিক গুণাবলীকে দূষিত করছে। জাতীয় শিক্ষানীতিতে সংবিধানকে বিবেচনায় রেখে শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনের নৈতিক মানবিক সাংস্কৃতিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করাই এর উদ্দেশ্য। শিক্ষার্থীদের মাঝে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে, নিজ নিজ ধর্ম সম্পর্কে পরিচিতি, আচরণগত উৎকর্ষতা সাধন, নৈতিক মানসিকতা সৃষ্টি এবং

উত্তম চরিত্র গঠন মানুষের মৌলিক অধিকার। “নৈতিকতা” মানুষের ভালো ও মন্দের পার্থক্য এবং আদর্শের মানদন্ড পরিমাপের একক। যা মানুষকে সামাজিকীকরণে পারিবারিক ঐতিহ্যের ভিত্তিতে ধর্মনিরপেক্ষতার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। নৈতিকতা শিক্ষায় আমাদের সামাজ, পরিবার ও বিদ্যালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘পরিবার’ মানুষের নীতি নৈতিকতা মূল্যবোধ ভালো মন্দের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করতে শেখায় এবং শিশুদের সুকুমার বৃত্তির বিকাশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। বাংলাদেশে বর্তমানে পারিবারিক মূল্যবোধ ও নীতি নৈতিকতার চরম অবক্ষয় ঘটেছে। শিশুর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় একজন উত্তম আদর্শ চরিত্রবান ও মনুষত্ববোধ সম্পন্ন মানুষ তৈরি করা আমাদের মূল লক্ষ্য। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় বিভিন্ন সমস্যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষার অনুশীলন, চর্চা, মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ

অনুপস্থিত। ফলে সমাজের সর্বস্তরে নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষের মারাত্মক অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বিপর্যস্ত শিক্ষাব্যবস্থার কারণে দিনে দিনে শিক্ষার গুণগত মান নিম্নমুখী হয়ে পড়ছে। আজকে সমাজের সর্বস্তরে নৈতিকতার অভাব। এরমূলে অসুস্থ ধারার রাজনীতি, দলাদলি, অসহিষ্ণুতা, ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ, মাদকাসক্তি, ইন্টারনেট, অপসংস্কৃতির প্রভাব এবং যৌনতা সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের বিকাশ, শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সকল স্তরের মানুষের জীবনে সার্বজনীন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা প্রয়োজন। আর আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ সৃষ্টির ক্ষেত্রে পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকার উপর গুরুত্বারোপ করা দরকার। নৈতিকতার শিক্ষা শুধু বক্তৃতায় আর পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করলেই হবেনা,

এগুলো পরিবারে ও প্রতিষ্ঠানে অনুশীলনের মাধ্যমে ব্যক্তির আচরণে যুক্ত করা প্রয়োজন।

পরিশেষে মন্তব্য, মাদকাসক্তি,ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, অপসংস্কৃতি ও যৌনতা প্রতিরোধে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ করে নয়, ধর্মীয় অনুশাসন, সামাজিক, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিক শিক্ষাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশের বিপর্যস্ত শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। প্রাথমিক ও বুনিয়াদি শিক্ষাস্তর মাধ্যমিক (দ্বাদশ শ্রেণি) পর্যন্ত সরকারিকরণ করা প্রয়োজন। সীমাবদ্ধ সামর্থ্যের মধ্যেও স্বপ্ন দেখি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন, নৈতিকমূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষের দেশ, সমৃদ্ধশালী ও উন্নত সোনার বাংলাদেশের।

মোঃ সাইদুল হাসান সেলিম
সভাপতি
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম