ন্যানো সার ও ফিশ ফিড উদ্ভাবন করেছেন যবিপ্রবি গবেষক দল


অথর
ডোনেট বাংলাদেশ ডেক্স   কৃষি বার্তা
প্রকাশিত :৩১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
  • 4
    Shares
ন্যানো সার ও ফিশ ফিড উদ্ভাবন করেছেন যবিপ্রবি গবেষক দল

কৃষিকাজে ব্যবহৃত গতানুগতিক সারের বিকল্প ন্যানো সার এবং মাছ চাষে ব্যবহৃত গতানুগতিক খাবারের বিকল্প ন্যানো ফিশ ফিড উদ্ভাবন করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একদল গবেষক। কেমিকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান ও তার শিক্ষার্থীরা এ গবেষণা করেছেন।ন্যানো সার ব্যবহারে বেশ কিছু সবজি চাষে যেমন ঢেঁড়স, মরিচ, লেটুস, বেগুন ন্যানো সার এবং তেলাপিয়াসহ কিছু কার্পজাতীয় মাছে ন্যানো ফিশ ফিড ব্যবহার করে তারা সফল হয়েছেন। প্রকল্প পরিচালক ড. জাভেদ ন্যানো সার সম্পর্কে বলেন, ইউরিয়া, ট্রিপল সুপার ফসফেট, মিউরেট অব পটাশসহ যেসব সার কৃষকরা জমিতে ব্যবহার করেন তার মূল সমস্যা হচ্ছে জমিতে অনিয়ন্ত্রিত প্রয়োগ। যার ফলে মাটি ও

পানির দূষণ ঘটছে। অধিক ফলনের আশায় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিমাণ রাসায়নিক সার প্রয়োগের ফলে মাটির গুণ নষ্ট হচ্ছে, সেই সঙ্গে অতিরিক্ত সার বৃষ্টির পানির সঙ্গে জলাশয়ের পানিতে মিশে পানির দূষণ ঘটায়।রাসায়নিক সারের পরিবেশগত এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দেবে ন্যানো সার। ন্যানো সার খুবই সামান্য মাত্রায় ফসলের জমিতে প্রয়োগ করলে অধিক পুষ্টিগুণসম্পন্ন পাওয়া যেতে পারে। ঢেঁড়স, মরিচ, লেটুস, বেগুনে রাসায়নিক সারের প্রায় একশত ভাগের এক ভাগ ন্যানো সার জমিতে প্রয়োগ করলেই সমপরিমাণে অধিক পুষ্টিগুণসম্পন্ন ফসল পাওয়া যায়।ন্যানো সারে মূলত উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও খনিজ উপাদানসমূহ যেমন- লৌহ, জিংক, খনিজলবনসহ অন্যান্য অতি প্রয়োজনীয় উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে- যা উদ্ভিদের গ্রহণ করার

পর অতিরিক্ত পরিমাণ থাকলে সেগুলো যদি পানিতে গিয়েও মিশে তাহলেও পানির বাস্তুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলবে না, বরং জলাশয়ের পানিতে মিশে মাছের সম্পূরক খাদ্য হিসেবে কাজ করবে।ন্যানো সার প্রয়োগ করে ফলানো ফসলের উদ্ভিদের মধ্যে মানবদেহের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান বেশি পরিমাণে পাওয়া গেছে। ন্যানো সার প্রয়োগ করে উৎপাদিত মরিচের গুণগত মান ও পুষ্টিগুণ বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত ফসলের তুলনায় বেশি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ন্যানো সারে গাছের দৃঢ়তা অনেক বেশি হওয়ায় ঝড় বা বাতাসে নুয়ে পড়ার সম্ভাবনাও কম থাকে।মাছের ন্যানো খাবার সম্পর্কে ড. জাভেদ জানান, বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা মাছকে যেসব খাবার মূলত ট্যানারি শিল্প, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হয়। এতে

মাছের শারীরিক কাঠামো বৃদ্ধি হলেও আমাদের খাদ্যে বিভিন্ন ভারী ধাতু যেমন- লেড, মার্কারি, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম ঢুকে পড়ছে। সম্প্রতি উচ্চ ফলনের আশায় অধিক পরিমাণে এসব খাবার খাওয়ানোর ফলে মাছের গায়ে বিভিন্ন ধরনের ক্ষত, দাগ ও শরীরের আকৃতির পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অতিরিক্ত খাবার খাওয়ানোর ফলে দেহে প্রয়োজনের চেয়েও অধিক পরিমাণ আমিষ জমা হচ্ছে- যা আমাদের শরীরে প্রবেশের পর আমাদের শারীরিক পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট করছে। ন্যানো ফিশ ফিড উলিস্নখিত সমস্যাগুলো থেকে মানুষকে পরিত্রাণ দেবে।