পাহাড়ি ফুল


রত্নপ্রভা গাঙ্গলী, ত্রিপুরা
অথর
নতুনত্বের প্রচেষ্টা ডেক্স   সাহিত্য আসর
প্রকাশিত :৬ জুন ২০১৯, ২:৩৬ অপরাহ্ণ
পাহাড়ি ফুল

তুমি যে আমার মায়ের মতো ,
রোজ রোজ নিজ হাতে সাজাতো।
ফিতে বেঁধে রং বেরং এ ঝুঁটি ,
পেখম মেলা জামায় যেন ডানায় প্রজাপতি টি।

গাছে গাছে উড়ে যখন বসে,
ছুটে গিয়ে আমি ও ওদের পাশে।
কখন ও ফকফকে সাদা বা টুক টুকে লালে,
মিশে যেতাম বিছানো হাজারো ফুলে।

জানো মা ডেকে বেড়াতো কোথায় গেলি সোনা?
কোথায় আমার চাঁদের টুকরো কনা
ফুলের সাথে মিশে ফুল টি সেজে চুপ টি করে ,
পাতা বলতো আয় রাখি তোকে আড়ালে আড়ালে।

রোজ খেলা লুকোচুরি তে,
কখনো পেছন থেকে খাপচি মেরে ধরে নিয়ে হাতে,
একদিন যখন আসি ছুটে তরু লতায়,
কেঁদে ভাসিয়ে শাখা অশ্রু পাতায়।

বলি কি হলো তোদের?
বলে কেটে নিলো কে এসে মা বাবাদের।
দাঁড়িয়ে নেই আর কেউ পাশে,
ফাঁকা তে তাকিয়ে আছি নীলাকাশে।

দিন গড়িয়ে নেমে এলো আঁধার,
সৌরভিত ফুলের নেই কোন বাহার।
শুধু পাহাড়ের চূড়ে বসে মিটি মিটি তারা,
আচ্ছা ,বলতো কিভাবে এলাম এপারা।

শুনবি তবে বলি-আমি যখন ঘাটে,
ঝর ঝর করে ঝর্ণা গড়িয়ে বাঁকে।
দুর থেকে কি যেন জল স্রোতে ভেসে ভেসে,
ছুটে গেলুম কাছে ঐ টির পাশে।

সেই তো তুই আমার কাছে এলি,
আমার সুগন্ধী শুভ্র বেলী।
বা গোলাপি গোলাপ পাপড়ি,
চরণ আলতায় পরিয়েছি লাল পারে শাড়ী।

জানো মনে হয় ঘুমের ঘোরে,
খেলাচ্ছলে বসে ছিলুম ঝর্ণার ধারে।
পাহাড় থেকে নেমে এলুম এ কুল,
আচ্ছা তোর নাম টা কি রে—
মা ডাকতো পাহাড়ি ফুল।

No Comment.