পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার একজন বে সরকারি শিক্ষকের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বরাবর হৃদয় বিদারক আবেদন


অথর
শিক্ষক নিউজ ডেক্স   খোলা মতামত
প্রকাশিত :২৭ নভেম্বর ২০১৯, ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ
  • 42
    Shares
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার একজন বে সরকারি শিক্ষকের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বরাবর হৃদয় বিদারক আবেদন

একই জিনিস বার বার খেলে যেমন আর রুচিতে ধরেনা তেমনি বদলি ছাড়াও চাকরির কোন মাহাত্ম্য থাকে না। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষকরা সারাজীবন একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে বাধ্য। হোক সে প্রতিষ্ঠান নিজের বাড়ির সন্নিকটে কিংবা কয়েকশ’ মাইল দুরে। এতে দুরের শিক্ষকদের বেশ ঝামেলা বা অসুবিধায় ই পড়তে হয়। কারণ তাদের বাড়ি ভাড়া মাত্র ১০০০/- টাকা। এ স্বল্প টাকায় বাড়ি ভাড়া পাওয়া আদৌ সম্ভব নয়। তাই পরিবার পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। মেডিকেল ভাতা মাত্র ৫০০ টাকা, যেখানে একজন ডাক্তার দেখাতে হলে ভিজিট ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা। ডাক্তারি ফি বাদেই বিভিন্ন পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য রিপোর্ট করাতে ৩০০০ থেকে ৫০০০টাকা

চলে যাচ্ছে। কেননা বর্তমান সভ্য জগতের ডাক্তার গন তো একটু আলাদা ই। তাদের কাছে যাওয়ার সাথে সাথেই পরীক্ষা নিরিক্ষা। বাদ ই দিলাম চিকিৎসা সেবার কথা। আবার নিজ এলাকায় যারা শিক্ষকতা করছেন, তাদের স্থানীয় প্রভাব এতটাই বেশি যে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখাও অনেক ক্ষেত্রে দুস্কর। তাছাড়া শিক্ষকতা পেশায় বৈচিত্র্য আনয়ন এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ে বদলির কোন বিকল্প নেই। অপ্রিয় হলেও সত্যি যে, একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন চাকরি করার ফলে অনেক শিক্ষকই কর্মস্পৃহা হারিয়ে ফেলে। ফলশ্রুতিতে শিখন-শিক্ষণ কাজ চলে নামকাওয়াস্তে। এহেন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বেসরকারি শিক্ষকদের বদলির কোন বিকল্প নেই। অতি তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে ই মো: আব্দুর রাজ্জাক সহকারী শিক্ষক(বিজ্ঞান), মিরুখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়

এন্ড কলেজ,মঠবাড়িয়া,পিরোজপুর,বরিশাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি আবেদন পত্র লিখেছেন। আবেদনপত্রটি হুবুহু তুলে ধরা হলো।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
বিষয়ঃ বেসরকারি শিক্ষকদের সরকারীকরণ বা নিজ উপজেলায় বলদির জন্য আবেদন।
জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি এনটিআরসিএ `র মাধ্যমে গত ২৪ জানুয়ারি ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলা থেকে ৬০৬ কি.মি. দুরে বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এন্ড কলেজে বর্তমানে কর্মরত। সুদুর উত্তর অঞ্চল থেকে দক্ষিণ অঞ্চলে এসে আমি সহজে অভিযোজন করতে পারছি না। আমার শারিরীক সহ নানাবিধ সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া বাড়িতে মা বাবাকে কিছু দিতে পারছি না,এত দুরে যাওয়া আসা কষ্টকর,গাড়ি ভাড়া প্রায় ৩৫০০টাকা, এখানে বাসা

ভাড়া ৪০০০টাকা, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পকেট খরচ,পোশাক,খাওয়া সহ সবকিছু কিনতে হয়। আর বেতন তো ১২৭৫০ টাকা মাত্র,কিভাবে চলবো ভেবে পাচ্ছি না,অনেক কষ্টে দিন যাচ্ছে। বৃদ্ধ মা বাবা তাকিয়ে আছে তাদের অভাগা চাকরিজীবী সন্তানের প্রতি। ছেলে হিসেবে বৃদ্ধা বয়সে মা বাবার দেখাশোনা সহ যাবতীয় দায়িত্ব সন্তানের। এছাড়াও বাহিরে চাকরি বিভিন্ন সমস্যা সহ জীবন হুমকিস্বরূপ। এমন অবস্থায় যারা দূরে শিক্ষকতা করছে তাদের কোন ক্ষতি হলে মা হারাবে সন্তান আর জাতি হারাবে একজন সাধারণ শিক্ষক। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আপনাদের বলছি আমরা যারা দূরে আছি ও এই বেসরকারি শিক্ষকদের কথা শুনুন ও একটু ভাবুন দয়া করে। কারন শিক্ষকরাই জাতি গড়ার কারিগর। আমরা

শিক্ষকরা কষ্ট পেলে জাতি উন্নত হবে কি করে? সাধারণ নাগরিক হিসাবে আপনার উন্নয়নের মহাসড়কের আমরা বেসরকারি শিক্ষকরা তুচ্ছ সৈনিক। সব মিলিয়ে দয়া করে আগে প্রয়োজনে বদলি দিন, আমরা এনটিআরসিএ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ৩৯৫৩৫ জন দুরদুরান্তে কর্মরত। আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে ৫ লক্ষাধিক বেসরকারি শিক্ষক। তাই,আমি একজন নতুন শিক্ষক হিসেবে আমার ক্ষুদ্র কথাগুলো আকুলতায় পেশ করলাম এবং আপনার স্বরণাপন্ন হলাম।

অতএববিষয়টি আমলে নিয়ে বেসরকারি শিক্ষকদের মনের আকুতি শিক্ষা সরকারীকরণের সুব্যবস্থা করে শিক্ষকদেরকে চিরকৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ রাখতে আপনার মর্জি হয়।

বিনীত নিবেদক
মো. আব্দুর রাজ্জাক
সহকারী শিক্ষক(বিজ্ঞান)
মিরুখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এন্ড কলেজ।
মঠবাড়িয়া,পিরোজপুর,বরিশাল