ফেসবুকে ক্ষোভ, নুসরাতকে হত্যার বিচার দাবি


অথর
Uncategorized নিউজ ডেক্স   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১২ এপ্রিল ২০১৯, ১:১০ পূর্বাহ্ণ
  • 40
    Shares
ফেসবুকে ক্ষোভ, নুসরাতকে হত্যার বিচার দাবি নুসরাতকে হত্যার বিচার দাবি। ছবি সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। পরীক্ষাকেন্দ্রে তার গায়ে আগুন দিয়ে হত্যার বিচার দাবি করার পাশাপাশি এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে আর না ঘটে সে ব্যাপারেও কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন ফেসবুক ব্যবহারীরা।

গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে গিয়ে সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দগ্ধ হন নুসরাত। ওইদিন থেকেই বিষয়টি নিয়ে সরগরম সারা দেশে।

ফেসবুক খুললেই নুসরাতের শরীর ব্যান্ডেজ করা ছবি। অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী নিজের প্রোফাইল ছবি বদলে দিয়েছেন নুসরাতের ওই ছবি দিয়ে। স্ট্যাটাস ও পোস্ট দিয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।

কারো কারো

মনে সংশয় রয়েছে নুসরাত হত্যার বিচার নিয়ে। এ ঘটনার জন্য দায়ী করে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন তারা। ফেসবুকে কেউ লিখেছেন নুসরাতের দেওয়া শেষ বক্তব্যের অংশ; কেউ লিখেছেন তার লেখা শেষ চিঠির অংশও। সবাই তার হত্যার বিচার চান।

একজন ফেসবুক ব্যবহারী লিখেছে, ‘দুঃখিত নুসরাত। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘এই শোকের প্রতিবাদের মেয়াদ কয়দিন’। প্রতিবাদের ভাষায় হয়তো ভিন্নতা আছে; তবে সবার দাবি একটাই- এই হত্যার বিচার চান তারা।

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে গেলে কৌশলে নুসরাতকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ৪/৫ জন বোরকাপরা ব্যক্তি ওই ছাত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে

তার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন নুসরাতকে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সোমবার নুসরাত জাহান রাফি ‘ডাইং ডিক্লারেশন’ (মৃত্যুশয্যায় দেওয়া বক্তব্য) দেন। নুসরাত তার বক্তব্যে বলেছেন, ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে তার শরীরে আগুন দেওয়া হয়। আগুনে ওড়না পুড়ে গেলে তার হাত মুক্ত হয়। বোরকা, নেকাব ও হাতমোজা পরা যে চার নারী তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন, তাদের একজনের নাম শম্পা বলে জানান নুসরাত।

ওই ছাত্রীর স্বজনরা বলেন, গত ২৭ মার্চ তার মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ্দৌলা নুসরাতকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। ওই ঘটনায় থানায় মামলা করেন তার মা। ওই মামলায় অধ্যক্ষ কারাগারে রয়েছেন। মামলা তুলে নিতে অধ্যক্ষের লোকজন হুমকি দিয়ে আসছিল বারবার।

তারা জানান, আলিম পরীক্ষা চললেও আতঙ্কে স্বজনরা পরীক্ষা কেন্দ্রের কক্ষ পর্যন্ত পৌঁছে দিতেন। মামলা তুলে না নেওয়াতেই ক্ষিপ্ত হয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় নুসরাতকে।

No Comment.