বদলি প্রত্যাশি শিক্ষকরা আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা পালন করেছে।


অথর
ডোনেট বাংলাদেশ ডেক্স   শিক্ষা সংবাদ
প্রকাশিত :৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৯:৫২ অপরাহ্ণ | পঠিত : 350 বার
বদলি প্রত্যাশি শিক্ষকরা আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা পালন করেছে।

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রথা চালুর দাবিতে রাজপথে নেমেছেন শিক্ষকরা। এ দাবিতে আজ শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করছেন তাঁরা। এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বদলি বাস্তবায়র কমিটির ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন সারাদেশ থেকে আসা শিক্ষকরা। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির দাবিতে মানবন্ধন পালিত বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ ও সমপর্যায়ের মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি বাস্তবায়ন কমিটি নামে একটি সংগঠন। শুক্রবার (০৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার

আহ্বান জানান তারা। সিরাজগঞ্জের অধিবাসী লক্ষ্মীপুরের একটি কলেজের শিক্ষক সৈয়দ এ আজম বলেন, হয়তো অনেকেই জানেন না, দেশের অন্যান্য চাকরির ক্ষেত্রে বদলির ব্যবস্থা থাকলেও একমাত্র এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কোনো বদলির ব্যবস্থা নেই। বদলির ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের জীবনটা অনেকটাই যাযাবরের মতো। ‘গত পাঁচ বছরে ধরে আমি চাকরি করছি। আমার বাবা-মা সিরাজগঞ্জের গ্রামে থাকেন। তারা অসুস্থ, বৃদ্ধ। আমি দূর থেকে তাদের আত্মচিৎকার উপলব্ধি করতে পারি, কিন্তু কিছুই করার থাকে না। এটা যে কত কষ্টের, যারা বাইরে আছেন, বিভিন্ন জেলায় চাকরি করছেন, তারাই বলতে পারবেন।’

বদলির ব্যবস্থা না থাকায় সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে এই শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, এই চাকরিতে বদলির ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয়

শিক্ষকরা অনেক সময় সিন্ডিকেট তৈরি করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষকদের নির্যাতন করে। সিন্ডিকেটের আওতায় শিক্ষকরা পড়লে তাদেরকে মানুষও মনে করা হয় না অনেক সময়। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বিবিয়ানা মডেল কলেজে শিক্ষকতা করেন নীলফামারীর ডোমরা উপজেলার অধিবাসী মো. ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, ২০২০ সালের মধ্যে সরকার বদলির নীতি কার্যকর করার কথা বলেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা এলক্ষ্যে সরকারের বিশেষ কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। আমাদের দাবি, ২০২০ সালের মধ্যেই সরকার এই আইন কার্যকর করুক। কিন্তু এর আগে আমাদেরকে আশস্ত করতে এলক্ষ্যে গেজেট প্রকাশ করা হোক।

ফরহাদ হোসেন আরও জানান, তার মা নেই, বাবা আছেন। দূরে চাকরি করার কারণে ঠিক মতো বাবার খোঁজখবর

রাখতে পারছেন না। অন্যদিকে তার বেতনের ১৬ হাজার টাকার মধ্যে ৫ হাজারই চলে যায় বাড়ি ভাড়ায়। স্বল্প বেতন ও দূরে কর্মস্থল হওয়ায় বিয়ে করারও সাহস পাচ্ছেন না। এই বেতনে গ্রামের বাড়িতে থেকে চাকরি করতে পারলে তার সমস্যার সমাধান হবে। তার মতো আরও অনেকেই এমন সমস্যায় রয়েছেন। বদলির ব্যবস্থা থাকলে অনেকেই এতে উপকৃত হবেন।

বক্তারা বলেন, এমপিও নীতিমালা ২০১০ ও ২০১৮-তে উল্লেখ আছে সরকার চাইলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি ব্যবস্থা চালু করতে পারবে। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানা যায়, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনলাইন সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি ব্যবস্থা চালু হবে।

কিন্তু বদলির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপন

জারি না হওয়ায় শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। তাই আমাদের সবার দাবি, আমাদের নিজ নিজ এলাকায় বদলি করে শিক্ষা প্রদানের ধারাকে আরও উন্নত করার কাজে সহায়তা করুক সরকার।
মানবন্ধন ২২টি জেলার ৭৪২জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। আগামী ১ মাসের মধ্যে বদলি প্রজ্ঞাপন জারী করার জোর দাবি জানান নেতারা। আহবায়ক জনাব হারুন অর রশিদ ও সদস্য সচিব জনাব মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম এর নেতৃত্বে উক্ত মানবন্ধনের মুখপাত্র ছিলেন জনাব নাজির হোসেন অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় জনাব দিলিপ সরকার ও অপু ইসলাম, উপস্থাপনায় কায়দা আজম জয় ও আলমগির হোসেন।আরও উপস্থিত ছিলেন জনাব আবুল হোসেন, জাকির হোসেন, রবিউল, কাজী জাফর, সাদিকুল ইসলাম প্রমুখ
এসময় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার কে বি নূরজাহান খান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. হারুন অর রশিদ ও সমষপুর বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের শিক্ষক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ আবুল হোসেন প্রমুখ।