বাংলা প্রথম পত্র


অথর
এনামুল ইসলাম মাসুদ   শিক্ষা বাতায়ন ডেক্স
প্রকাশিত :৫ জুলাই ২০১৯, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ | পঠিত : 218 বার
বাংলা প্রথম পত্র

সৃজনশীল প্রশ্ন

কুলি-মজুর : কাজী নজরুল ইসলাম

হজরত উমর (রা.) জেরুজালেম যাত্রাকালে এক ভৃত্য তাঁর উটের রশি ধরে পথ চলছিল। মরুভূমির সূর্যের প্রচণ্ড তাপে ভৃত্যের কষ্ট হচ্ছিল দেখে উমর (রা.) উটের পিঠ থেকে নেমে পড়েন। তিনি ভৃত্যকে ভাই বলে সম্বোধন করে বলেন, গরম বালুতে পথ চলতে গিয়ে তুমি ক্লান্ত হয়েছ। তাই এবার আমি উঠের রশি ধরে এগিয়ে যাব, আর তুমি উটের ওপর বসবে। এভাবে তিনি নিজের ভৃত্যকেও সমান মর্যাদা দিতে কুণ্ঠিত হননি।

ক) আমাদের রণসংগীতটি নজরুলের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

উত্তর : আমাদের রণসংগীতটি নজরুলের ‘সন্ধ্যা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

খ) শ্রমজীবী মানুষের কাছে আমাদের দেনা কিভাবে বেড়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : দিন দিন শ্রমজীবী মানুষের কাছে আমাদের দেনা

বেড়েছে।

‘কুলি-মজুর’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন যে মানবসভ্যতার যথার্থ রূপকার শ্রমজীবী মানুষ। যুগ যুগ ধরে তাদের মতো লাখোকোটি শ্রমজীবী মানুষের হাতে গড়ে উঠেছে মানবসভ্যতা। কিন্তু প্রতিদানে তারা পেয়েছে যৎসামান্য। ধনিক শ্রেণি এদের ন্যায্য মজুরি থেকে যুগ যুগ ধরে বঞ্চিত করে নিজেরা বিত্ত-সম্পদের মালিক হয়েছে। এভাবেই তাদের ঠকিয়ে ধনিক শ্রেণি দিন দিন দেনা বাড়িয়েছে, যা শোধ করার সময় এসে গেছে।

গ) উদ্দীপকের হজরত উমর (রা.) ‘কুলি-মজুর’ কবিতার কার সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : উদ্দীপকের হজরত উমর (রা.) ‘কুলি-মজুর’ কবিতার ধনিক শ্রেণির প্রতিনিধি ‘বাবু সাব’-এর সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।

‘কুলি-মজুর’ কবিতার বাবু সাহেব শুধু কুলি হওয়ার কারণে এক শ্রমজীবী মানুষকে রেলগাড়ি থেকে ঠেলে নিচে ফেলে

দেয়। অথচ যুগ যুগ ধরে কুলি-মজুরের মতো লাখোকোটি শ্রমজীবী মানুষের হাতে গড়ে উঠেছে মানবসভ্যতা। এদেরই অক্লান্ত শ্রমে ও ঘামে মোটর, জাহাজ, রেলগাড়ি চলছে। গড়ে উঠেছে দালানকোঠা, কলকারখানা। তার পরও যুগ যুগ ধরে সমাজে এরাই সবচেয়ে বঞ্চিত ও উপেক্ষিত। বাবু সাহেবের মতো ধনিক শ্রেণির মানুষ এদের শ্রমের বিনিময়ে পাওয়া বিত্ত-সম্পদের সবটুকুই ভোগ করছে, অথচ তারা এদের মানুষ হিসেবে গণ্য করতেও নারাজ।

অন্যদিকে উদ্দীপকের উমর (রা.) বিশাল মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হওয়া সত্ত্বেও জেরুজালেম যাত্রাকালে ভৃত্যকে উটের পিঠে বসিয়ে নিজে উটের রাশি ধরে চলছিলেন।

উদ্দীপকের উমর (রা.)-এর চরিত্রের এই সাম্যবাদিতার দিকটি ‘কুলি-মজুর’ কবিতার ধনিক শ্রেণির প্রতিনিধি বাবু সাহেবের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ) উদ্দীপকটি কি ‘কুলি-মজুর’ কবিতার মূলভাবকে

ধারণ করেছে। তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর : বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করাই ‘কুলি-মজুর’ কবিতার মূলভাব, যা উদ্দীপকের হজরত উমর (রা.)-এর চরিত্রে প্রকাশ পেয়েছে।

‘কুলি-মজুর’ কবিতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম মানবসভ্যতার যথার্থ রূপকার শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের পক্ষে কলম ধরেছেন। অতীত কাল থেকেই মানবসভ্যতা শ্রমজীবী মানুষদের অবদানে অগ্রসর হয়েছে, কিন্তু প্রতিদানে তারা পেয়েছে অল্পই। এদের শোষণ করেই ধনিক শ্রেণি হয়েছে বিত্ত-সম্পদের মালিক। কিন্তু এখন সময় এসেছে তাদের শ্রমের ন্যায্য মজুরি দেওয়ার। ধনিক শ্রেণির সেবা করতে গিয়েই তারা চিহ্নিত হয়েছে মজুর, মুটে ও কুলি হিসেবে। ধনিক শ্রেণি এদের উপেক্ষা-ঘৃণা করলেও কবি এদেরই প্রকৃত মানুষ ও দেবতা বলে অভিহিত করে জয়গান

গেয়েছেন।

উদ্দীপকের হজরত উমরও (রা.) জেরুজালেম যাত্রাকালে তাঁর ভৃত্যের কষ্ট অনুভব করে তাকে উটের পিঠে বসিয়ে নিজে উটের রশি টেনেছেন। উমর (রা.)-এর এই মানসিকতা মূলত শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের পক্ষে কবির কলম ধরাকেই নির্দেশ করে।

উপর্যুক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, উদ্দীপকটিতে ‘কুলি-মজুর’ কবিতার মূলভাব শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ যথাযথভাবে প্রকাশ পেয়েছে।