বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে ক্যাডার জবে যোগ না দিয়ে শিক্ষকতা পেশাকেই প্রাধান্য দিলেন আসিফ ইমতিয়াজ


অথর
ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স   সোশ্যাল মিডিয়া
প্রকাশিত :৮ এপ্রিল ২০১৯, ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ
  • 210
    Shares
বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে ক্যাডার জবে যোগ না দিয়ে শিক্ষকতা পেশাকেই প্রাধান্য দিলেন আসিফ ইমতিয়াজ

এ দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী বিএসএস পরীক্ষায় পাস করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছেন দিনের পর দিন। আর যারা বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে ক্যাডার জবে যোগ দেন, তারা তো হাতে আস্ত একখানা ‘চাঁদ’ পেয়ে যান। কিন্তু কিছু কিছু ব্যতিক্রম এই ‘কোটা বাতিল আন্দোলনের’ যুগেও আছে। আর এই ব্যতিক্রমীদের একজনই হলেন আসিফ ইমতিয়াজ। যিনি কিনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব হিসেবে যোগ দেয়ার সুযোগ পেয়েও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর বদলে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। এ নিয়ে রোববার রাতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন এই তরুণ শিক্ষক।

প্রসঙ্গত, ঢাবির বাণিজ্য অনুষদে শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন আসিফ। পাশাপাশি বুয়েটেও পড়ান, একজন অতিথি শিক্ষক হিসেবে।

এখানে আসিফের

ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

‘সকালে যখন আমার ব্যাচমেটরা যোগদানের আনুষ্ঠানিকতা সারছিলো, আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ক্লাসরুমে আমার প্রিয় ছাত্রছাত্রীদের স্যামপ্লিং ডিস্ট্রিবিউশন পড়াচ্ছিলাম।

গত ৯ মাসে আমাকে সবাই প্রশ্ন করেছেন আমার সিদ্ধান্ত কী। কেউ বলেছেন সিভিল সার্ভিসে চলে যাও। কেউ বলেছেন যেও না।

কিন্তু আমি কি করবো, তা শুধু আমিই জানতাম। একদম প্রথম দিন থেকেই জানতাম। আমার জীবনকে আমি আজ থেকে অনেক বছর পরে কোথায় দেখতে চাই, এ বিষয়ে আমার একটি পরিষ্কার ধারণা আছে।

কেন গেলাম না?

এক হাত দূর থেকে কোনো দেশের রাষ্ট্রপতিকে দেখার চেয়ে, কোনো টাফ নেগোসিয়েশনের টেবিলে বসে কাজ করার চেয়ে শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে আমার ছাত্র-ছাত্রীদের মনোজগতে সামান্য হলেও পরিবর্তন আনতে

পারাটা আমার কাছে বেশি তৃপ্তির।

প্রতিটা দিনকে নিজের মতো করে কাটানোর মধ্যে আমার শান্তি। তরুণদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং ব্যবসায়ে অনুপ্রেরণা দেয়া এবং সাহায্য করার মধ্যে রয়েছে আমার শান্তি। নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানের হয়ে ছোটবড় কাজ করতে পারার মাঝে আমার শান্তি।

আমি বেঁচে থাকতে যেন আমার দুই জোড়া মা-বাবার এক গ্লাস পানি ঢেলে খাওয়া না লাগে- এই চিন্তাতেই আমার শান্তি। আমার উপরে ভরসা রেখে আমার স্ত্রী ভুল করেনি তা প্রমাণ করতে পারলেই আমার শান্তি।

আমার যোগ্যতা থাকলে সারা পৃথিবী আমার কাছে ওপেন থাকবে, যোগ্যতা না থাকলে থাকবেনা। এতে আমার খেদ নেই। আমি যার যোগ্য, যতটুকু পাওয়ার যোগ্য, আমি তাই পাবো।

আরেকটা বড় উদ্দেশ্য আমার আছে।

যারা বিসিএস দেয়না অথবা আগ্রহী না, সবার কাছ থেকে হতাশার দূর-ছাই শুনলেও আমি তাদের শোনাবো আশার গল্প। আমি তাদের শোনাবো অনুপ্রেরণার গল্প। উদ্দীপক এক আপন ভাইকে যেন ওরা আমার মাঝে খুঁজে পায়-আমি সেই আলো হতে চাই। বিসিএসের বাইরেও যে জীবন আছে, এই মন্ত্র সবার কানে পৌঁছে দিতে চাই।

মনের শান্তির চেয়ে বড় কিছুই না। আমি সব দেশে ইমিউনিটি এনজয় করলাম কিন্তু মনে শান্তি পেলাম না, এই ইমিউনিটি দিয়ে আমি কি করবো? আমি কূটনীতিবিদ/রাষ্ট্রদূত হয়ে জীবনের শেষ পর্যায়ে যেয়ে ”আমার দেখা কূটনীতির পঞ্চাশ বছর” বই লিখতে চাইনা।

আমি চাই জীবনের শেষ পর্যায়ে গিয়ে শ’খানেক মানুষের মুখে অন্তত এটুকু শুনতে,আসিফ স্যার ক্লাসরুমে দাঁড়িয়ে আমাদের চিন্তাজগতে একটু হলেও পরিবর্তন আনতে পেরেছিলেন।

আমার ব্যাচমেট যারা আজকে যোগদান করেছেন, দেশের সেবা করার সুযোগ তাদের অনেক অনেক বেশি। আমিও যেকোন আপদে বিপদে তাদের জ্বালাবো। দেশের সরাসরি সেবা আমার ব্যাচমেট ভাইবোনেরা করুক। তাদের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা আর সত্যিকারের ভালবাসা থাকলো।

আমি না হয় সেবক তৈরির চেষ্টা করি, অন্য কোন প্ল্যাটফর্মের সেবক।

No Comment.