বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ রিমান্ডে ১০


অথর
ডোনেট বাংলাদেশ ডেক্স   জাতীয়
প্রকাশিত :৯ অক্টোবর ২০১৯, ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ
বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ রিমান্ডে ১০

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আবরার ফাহাদ রাব্বী হত্যা মামলায় বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ নেতাকর্মীর পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী রিমান্ডের এ আদেশ দেন। পাশাপাশি মামলার এজাহার উপস্থাপন করা হলে আগামী ১৩ নভেম্বর মামলার প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল (বুয়েটের সিই বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ ও বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক), মুহতাসিম ফুয়াদ (সিই, ১৪তম ব্যাচ ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক) মো. অনিক সরকার, (সিই, ১৫তম ব্যাচ এবং তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক), মো. মেহেদী হাসান রবিন (সিই, ১৫তম ব্যাচ ও সাংগঠনিক সম্পাদক), ইফতি মোশাররফ

সকাল (বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ ও উপসমাজ সেবাবিষয়ক সম্পাদক), মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক), মো. মোজাহিদুল রহমান (ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বা ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ ও বুয়েট ছাত্রলীগ সদস্য), খোন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর (এমই বা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ ও ছাত্রলীগ কর্মী), মুনতাসির আল জেমি (এমই, ১৭তম ব্যাচ) ও ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (এমই, ১৫তম ব্যাচ ও ছাত্রলীগের গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক)। এদের মধ্যে প্রথম ৯ জনের নাম এজাহারে থাকলেও শেষের ইসতিয়াকের নাম এজাহারে নেই।

মঙ্গলবার বিকালে আদালতে আসামিদের হাজির করে প্রত্যেকের জন্য ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। চকবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক

(তদন্ত) মো. কবির হোসেন হাওলাদার আসামিদের রিমান্ডের এ আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ৬ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারকে শেরেবাংলা হলের তার রুম থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে ডেকে নিয়ে যায়।

৭ অক্টোবর রাত আড়াইটা পর্যন্ত ওই হলের ২০১১ ও ২০০৫ নম্বর রুমের ভেতর নিয়ে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ক্রিকেট স্ট্যাম্প ও লাঠিসোটা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর মারধর করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে আসামিরা ওই ভবনের দ্বিতীয়তলার সিঁড়িতে আবরারের মৃতদেহ ফেলে রাখে। পরে কিছু ছাত্র আবরারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলাটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা মারধর করে আবরারের মৃত্যু

নিশ্চিত করে। মামলাটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা বিধায় আসামিদের ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেফতার ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে তাদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে আসামিদের পুলিশ রিমান্ডে নেয়া একান্ত প্রয়োজন।

এদিন দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে আসামিদের হাতকড়া পরিয়ে আদালতের ডকে (আসামিদের জন্য নির্ধারিত স্থান) তোলা হয়। এ সময় উপস্থিত আইনজীবীরা উচ্চস্বরে আসামিদের বিভিন্ন গালাগাল করেন। তারা বলেন, এরা ছাত্র নামের কলঙ্ক। তাদের যেন কেউ আইনি সহায়তা না করে। বিকাল ৩টা ২ মিনিটের দিকে এজলাসে বিচারক এলে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।

শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষে হেমায়েত উদ্দিন খানসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী আসামিদের রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন।

শুনানিতে তারা বলেন, মামলাটি শুধু দেশেই নয়, বর্তমানে সারা বিশ্বে আলোচিত। অত্যন্ত মেধাবী একটি ছেলে (আবরার) বুয়েটে গিয়েছিল ইঞ্জিনিয়ার হবে বলে। কিন্তু তার সহপাঠীরাই তাকে হত্যা করল। আবরারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

আর হত্যা করে আসামিরা কিভাবে বীরদর্পে লাশ ফেলে দিয়েছে তা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে। এখানে সংগঠনের (ছাত্রলীগ) কোনো দোষ নেই। দোষ ব্যক্তির, যারা এ অন্যায় কাজ করেছেন। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক।

অপরদিকে চার আসামির পক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করা হয়। আসামি মুজাহিদুলের পক্ষে আইনজীবী মোরশেদা খাতুন শিল্পী ও শামীমুর রহমান শুনানি করেন। শুনানিতে তারা বলেন, দেশবাসী চায় এ ঘটনার বিচার হোক। তবে আসামি মুজাহিদুল ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনি পরিস্থিতির শিকার।

আসামি ইফতি মোশাররফ সকালের পক্ষে আইনজীবী আমিরুল ইসলাম বলেন, আসামিকে ভিডিও ফুটেজে দেখা গেলেও তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। খোন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীরের আইনজীবী আবেদুর রহমান বলেন, আসামিকে ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে। কিন্তু তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এছাড়া গ্রেফতার অপর ছয় আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিকাল ৩টা ১২ মিনিটের দিকে আদালত আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ডের ওই আদেশ দেন। এদিন আদালত চত্বরে আসামিদের আত্মীয়স্বজনকেও দেখা গেছে।

আদালত সূত্র জানায়, আবরার নিহতের ঘটনায় তার বাবা মো. বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ৭ অক্টোবর রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও আরও অজ্ঞাননামাদেরও আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, আবরার ফাহাদ রাব্বী (২২) বুয়েটের ইইই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

সে বুয়েটের শেরেবাংলা আবাসিক হলের নিচতলার ১০১১ নম্বর রুমে থেকে লেখাপড়া করত। ওই ছাত্রাবাসের কিছু ছাত্র আবরারকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মারধর করে গুরুতর জখম করে হত্যা করে।

বুয়েটের শেরেবাংলা হল কর্তৃপক্ষ, বুয়েটের কিছু ছাত্রের সঙ্গে আলোচনা করে এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে আবরার বাবা জানতে পারেন, ওই ছাত্রাবাসের ছাত্র মেহেদী হাসান রাসেল (বুয়েটের সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), মুহতাসিম ফুয়াদ (সিই বিভাগ, ১৪তম ব্যাচ), মো. অনিক সরকার, (সিই বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), মো. মেহেদী হাসান রবিন (সিই বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিঃ, ১৬তম ব্যাচ), মো. মনিরুজ্জামান মনির (পানিসম্পদ বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিঃ, ১৫তম ব্যাচ), মো. মাজেদুল ইসলাম (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মো. মোজাহিদুল রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), খোন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর (এমই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মো. জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), মো. আকাশ (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), মো. শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিঃ, ১৭তম ব্যাচ), মো. শাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মো. তানীম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মো. মোর্শেদ (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মো. মোয়াজ (সিএসই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ) ও মুনতাসির আল জেমিসহ (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), অজ্ঞাতনামা কয়েক জন বুয়েট ছাত্র ৬ অক্টোবর শিক্ষার্থী আবরারকে তার শেরেবাংলা হলের রুম থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরদিন ৭ অক্টোবর রাত আড়াইটা পর্যন্ত ওই হলের রুম নম্বর ২০১১ ও ২০০৫-এর ভেতর নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ক্রিকেট স্ট্যাম্প ও লাঠিসোটা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রচণ্ড মারধর করে। এতে ঘটনাস্থলেই আবরার মারা যায়। মৃত্যু নিশ্চিত করে আসামিরা ওই ভবনের দ্বিতীয়তলার সিঁড়িতে আবরারের মৃতদেহ ফেলে রাখে। পরবর্তীকালে কিছু ছাত্র আবরারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।