বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বৈষম্যের কারণে হতাশায় ডুবে যাচ্ছে।


অথর
শিক্ষক নিউজ ডেক্স   খোলা মতামত
প্রকাশিত :১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বৈষম্যের কারণে হতাশায় ডুবে যাচ্ছে।

যুগ পাল্টে যাচ্ছে কিন্তু বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা পাল্টাচ্ছে না। সেই প্রাচীন ধারায় বহমান আছে বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা। বর্তমান সরকার বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় স্কেল দিয়ে যেমন প্রশংসা কুড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় বিভিন্ন বৈষম্য বিদ্যমান থাকায় আজ তা ম্লান হওয়ার পথে। শিক্ষা ব্যবস্থায় এই বৈষম্য দূরীকরণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা কম। আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক এ পরিচয়ে স্বস্তিবোধ হওয়ার কথা নয়। প্রতিটি বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক আজ এ পরিচয়ে ক্লান্ত হয়ে গেছে। রাষ্ট্র কিংবা সমাজের মধ্যে নেই সম্মানজনক অবস্থা। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক পরিচয় মানে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর সামিল। নেই যথাযোগ্য মর্যাদা। অবহেলায় নিমজ্জিত বেসরকারি

এমপিওভুক্ত শিক্ষক জীবন। প্রতিটি পেশায় আছে সমান সুযোগ সুবিধা পাওয়ার অধিকার। কিন্তু দুঃখের বিষয় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা রয়ে গেল অবহেলিত। সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থায় যেখানে একই নীতি অবলম্বন করা প্রয়োজন । সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা দুই ধারায় বিভক্ত। যেখানে একই পাঠ্যপুস্তুকে পাঠ্যক্রম পরিচালিত হয়। যোগ্যতা ও সমান। তবুও আজ ও শিক্ষা ব্যবস্থা সরকারি এবং বেসরকারির সমন্বয়ে গঠিত। একটি স্বাধীন দেশের পূর্ব শর্ত সকলের জীবন যাত্রার মান সমান হবার। কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থায় দেখা যাচ্ছে চরম বৈষম্য বিরাজমান। সরকারি এবং বেসরকারির মধ্যে আজ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতার মধ্যে রয়ে গেল বিরাট পার্থক্য। সরকারি শিক্ষকরা

যেখানে বাড়ি ভাড়া পায় ৪০%-৬০% পর্যন্ত সেখানে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পায় মাত্র ১০০০ টাকা। সরকারি শিক্ষকরা চিকিৎসা ভাতা পায় ১৫০০ টাকা এবং বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পায় মাত্র ৫০০ টাকা। নেই সন্তানদের শিক্ষা ভাতা, নেই হাউজ লোন, নেই বদলি প্রথা, নেই পেনশনের সুযোগ সুবিধা, নেই পদন্নোতি, নেই উচ্চতর গ্রেড।

উচ্চতর গ্রেড চালু হওয়ার কথা থাকলেও তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চাকরি জীবনে উচ্চতর গ্রেড ১০ বছরে একটি এবং ১৬ বছরে একটি পাবে এই মর্মে জানানো হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হচ্ছে না। অনেক শিক্ষকের আজ এই সময় কাল অতিবাহিত হয়ে গেছে তবুও পাচ্ছে না উচ্চতর গ্রেডের দেখা। উচ্চতর

গ্রেড দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা গণের নিকট বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতার প্রচলন হয় ২০০৪ সাল থেকে আজও সেই অবস্থায় আছে বহমান। নেই কোন পরিবর্তন বা পরিবর্ধন। বর্তমান সরকার যেহেতু শিক্ষা বান্ধব সরকার সেহেতু আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা চাই পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা। আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই সমস্যার সমাধান করবেন।

অপর দিকে ধরা যাক চাকরি শেষে পেনশনের সুযোগ সুবিধার কথা সরকারি চাকরি জীবিরা অবসরে যাওয়ার পর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারে। আর বেসরকারি শিক্ষকরা অবসর ও কল্যান তহবিল নামে (৭৫+২৫) বা ১০০ মাসের সমতুল্য

সর্বশেষ স্কেলের সমান টাকা এক কালিন উত্তোলন করতে পারে। নেই কোন বাড়তি সুযোগ সুবিধা। এদিকে সরকারি চাকরি জীবিদের নাম মাত্র কর্তন করা হয়। অপর দিকে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল স্কেলের ১০ শতাংশ হারে কর্তন করা হয় অবসর ও কল্যান তহবিল নামে। এই কর্তনকৃত টাকা আবার উত্তোলন করতে সময় লেগে যায় বছরের পর বছর। অনেক শিক্ষক জীবিত অবস্থায় তা আবার উত্তোলন ও করতে পারেন না। চাকরির শেষ সময়টুকু তাই বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। এই মানবেতর জীবনযাপন থেকে মুক্তি পেতে তাই বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পেনশনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

বদলি প্রথা চালু করার বেশ কয়েক বার উদ্যোগ নিয়ে ও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। গত কিছু দিন পূর্বে বদলি প্রথা সম্পর্কে শোনা যাচ্ছিল আলাদা সফটওয়্যার তৈরি হচ্ছে এবং এরই মাধ্যমে বদলি প্রথার কার্যক্রম সম্পূর্ণ করা হবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন অগ্রগতি হচ্ছে বলে প্রতিয়মান হচ্ছে না। বদলি প্রথার দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা গণের নিকট।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল সমগ্র বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করে বৈষম্য মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা জাতিকে উপহার দেওয়া। আশা করি তারই সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই শিক্ষা ব্যবস্থার সকল বৈষম্য দূরীকরণ হবে।
ধন্যবাদান্তে
মোঃ আবুল হোসেন
কুকুটিয়া কে, কে, ইনস্টিটিউশন
শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ