বেসরকারি শিক্ষকদের রইল ২৫ শতাংশ ঈদ বোনাসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।


অথর
শিক্ষক নিউজ ডেক্স   খোলা মতামত
প্রকাশিত :১০ আগস্ট ২০১৯, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
বেসরকারি শিক্ষকদের রইল ২৫ শতাংশ ঈদ বোনাসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

আসছে ১২ আগস্ট ২০১৯ খ্রি. পবিত্র ঈদুল আজহা। ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আজ দু,চারটি কথা লিখতে বসলাম। আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক। আমরা পাই ২৫ শতাংশ ঈদ বোনাস। ঈদ বোনাস উত্তোলন করতে পারি আর না পারি ঈদ তো আর থেমে থাকবে না। অনেকে হয়তো বা বোনাস উত্তোলন করেছেন আবার অনেকে বোনাস উত্তোলন করতে পারেন নাই। তাই বলে কি ঈদের আনন্দ থেমে থাকবে নাকি? বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আমার পক্ষ থেকে রইল পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও আজ আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পেলাম না যোগ্য সম্মান। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জীবন বৈষম্যে ঘিরে ফেলেছে। বর্তমান

সময়ে প্রতিটি পেশার মাঝে সবচেয়ে অবহেলিত হলো বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক। সকল পেশার চাকরি জীবিরা পেয়েছে ১০০ শতাংশ ঈদ বোনাস। আর বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক পেয়েছে ২৫ শতাংশ ঈদ বোনাস।এই ঈদ বোনাসের টাকা উত্তোলনের তারিখ দেওয়া হয়েছে ৮ আগস্ট ২০১৯ খ্রি.। তাও আবার অনেক শিক্ষক এই ঈদ বোনাসের টাকা উত্তোলন করতে পারেননি। শূন্য হাতে কর্মস্থল ত্যাগ করেছে ভারাক্রান্ত মন নিয়ে। আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক তাই ভাবতে অবাক লাগে। বাংলার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দেশ স্বাধীন করেছিল সকল নাগরিক যেন সমান সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজও আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্বাধীনতার প্রকৃত

স্বাদ আজও ভোগ করতে পারলাম না। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মনে নেই ঈদ আমেজ। ঈদ বোনাস তো দেওয়া হয় ঈদের আনন্দ উপভোগ করার জন্য। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই সামান্য টাকা দিয়ে কীভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করব আমরা। নিজের খরচ, সংসার খরচ চালানোর পর যা অবশিষ্ট থাকে তা দিয়ে ঈদের বাজার বা কোরবানির টাকা কোথায় পাব?

বর্তমান সময়ে একটি ছাগল, খাসি, ভেড়া কিনতেই লাগে সর্বনিম্ন ১০০০০ টাকা থেকে ৩০০০০ টাকা এবং একটি গরু, মহিষ কেনার কথা তো স্বপ্নেও ভাবা যায় না। সাধারণ ভাবে একটি গরুর সর্বনিম্ন মূল্য যেখানে ৩০০০০ টাকা থেকে ১৫০০০০ টাকা পর্যন্ত। সর্বোচ্চ মূল্য বাদই দিলাম। এই সর্বনিম্ন

মূল্যের কোরবানির টাকা ও জোগাড় করতে হিমসিম খাচ্ছে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। এই হতাশার জীবনের অবসান চাই। ঈদ বোনাস ২৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ করার জোর দাবি জানাচ্ছি সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিকট। ঈদ উৎসব পালনে সকলের সমান সুযোগ সুবিধা প্রদান করে বৈষম্যের অবসান কল্পে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। একই শিক্ষা ব্যবস্থায় দুই ধরনের নীতি সত্যিই হতাশাজনক।

নেই কোন বাড়তি ইনকাম। আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আজ তাই মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। সমাজ, সংসার এমনকি কোথাও নেই যোগ্য সম্মান। পদে পদে অবহেলিত হয়ে জীবন যাপন করতে হয় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের। যেখানে শিক্ষকরাই দেশ গড়ার কারিগর। দেশের উন্নয়নে যাদের

নিবেদিত প্রাণ। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয় দেশের প্রতিটি প্রান্তে। আজ সেই শিক্ষক বৃন্দরাই অন্ধকারের মত জীবন যাপন করতে হয়। একটি দেশের মেরুদণ্ড নির্ভর করে এই শিক্ষকদের ওপর। শিক্ষকরাই জাতি গঠনের পথের দিশারি। অক্লান্ত পরিশ্রম করে করে শিক্ষিত জাতি তৈরি করে। আজ তারাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা কিন্তু সেটাও আলোর মুখ দেখল না এখন পর্যন্ত। শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাণ সঞ্চার করতে প্রয়োজন বৈষম্যহীনতা।

আশা করি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের যাবতীয় বৈষম্য দূরীকরণে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই বৈষম্যের অবসান ঘটাবেন।

ধন্যবাদান্তে
মোঃ আবুল হোসেন
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব
কেন্দ্রীয় কমিটি
বাশিস নজরুল