মাংসের ভেতর ভেজাল- বিষয়টি কী?


অথর
ডোনেট বাংলাদেশ ডেক্স   স্বাস্থ্য কথন
প্রকাশিত :১২ আগস্ট ২০১৯, ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ
মাংসের ভেতর ভেজাল- বিষয়টি কী?

ফল বা মাছে ভেজালের কথা আমরা শুনেছি। তবে বর্তমানে মাংসের ভেতরে ভেজাল-বিষয়টি শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি আসলে কী?

প্রশ্ন : মাংসের ভেতর ভেজাল- বিষয়টি কী? এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর?

উত্তর : মাংস উৎপাদন করে যেসব গরু, সেগুলোকে অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। আর এ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক গরুর লিভার, কিডনি ও মস্তিষ্কে জমা হচ্ছে। আমরা গরুর কলিজা খাই কী জন্য? রক্তের জন্য। ভিটামিন বি, ফলিক এসিড কলিজাতে বিন্যাস হয়। যখন আমি গরুর কলিজা খাবো, তখন আমি অ্যান্টিবায়োটিকযুক্ত কলিজা খাচ্ছি।

যখন মগজটা খাবো, অ্যান্টিবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবারটা খাচ্ছি। যখনই আমরা এগুলো খাব তখন অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। তাই পশুদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করার আগে

অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে হবে।
দুই দিন বা তিন দিনের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক নয়। এর কোর্স রয়েছে পাঁচ থেকে সাত দিনের জন্য- এভাবে দিতে হবে।

প্রশ্ন : গরুর দুধের মধ্যে না কি অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায়। এটি কী করে আসে?

উত্তর : গরুর দুধে কেবল অ্যান্টিবায়োটিক নয়, আমাদের বিশুদ্ধ খাদ্য চাই সংস্থা থেকে করা বিভিন্ন গবেষণায় দেখেছি, এর মধ্যে মেটাল টক্সিনও এসে পড়ছে। বিশেষ করে ক্রমিয়াম, আর্সেনিক, লেড, মার্কারি- এ ধরনের জিনিসগুলো চলে আসছে অ্যান্টিবায়োটিকের পাশাপাশি।

এটি আসলে মানবস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। এতে বাচ্চাদের হরমোনের ভারসাম্য দেখা দিচ্ছে। গরুর দুধ খাচ্ছি আমি পুষ্টির জন্য, কিন্তু আমার শরীরে দেখা যাচ্ছে হরমোনের ভারসাম্য। শিশু স্থূল হয়ে যাচ্ছে।

যার দাড়ি-গোফ গজানোর কথা নয়, তার গজাচ্ছে। যার চুল পাকার কথা নয়, তার চুল পেকে যাচ্ছে। এটি অ্যান্টিবায়োটিক ও হেভি মেটালের একটি বহিঃপ্রকাশ।

প্রশ্ন : এটি কেন হচ্ছে?

উত্তর : আসলে অ্যান্টিবায়োটিক তো মেটাবলিজম হয়ে যায় শরীরে। কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের হয়তো ডেট পার হয়ে গেছে, অথবা অ্যান্টিবায়োটিকটা এ গরুর জন্য সঠিক নয়, এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে। এগুলো বডি ফ্লুইড হিসেবে জমা হচ্ছে। এ বডি ফ্লুইড দুধে চলে আসতে পারে। লিভারে, মস্তিষ্কে ও মগজে চলে আসতে পারে।

প্রশ্ন : বিষাক্ত উপাদানগুলো দুধে কীভাবে আসে?

উত্তর : গরুও খাচ্ছে। গরু যে খাবারগুলো খাচ্ছে সেগুলো প্রাকৃতিক খাবার নয়। গরুকে মোটা করার জন্য, দুধ যেন বেশি দেয়, এজন্য কৃত্রিম

কিছু খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। হরমোনাল সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। এটি মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

কথা বলেছেন ডা. মো. শাকিল মাহমুদ। বর্তমানে তিনি গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেলের বায়োক্যামেস্ট্রি ও পুষ্টি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত।