মেহেরপুর জেলা এখন বীজ উৎপাদনে কৃষিতে সমৃদ্ধ


অথর
ডোনেট বাংলাদেশ ডেক্স   কৃষি বার্তা
প্রকাশিত :৪ এপ্রিল ২০১৯, ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ
  • 75
    Shares
মেহেরপুর জেলা এখন বীজ উৎপাদনে কৃষিতে সমৃদ্ধ

আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে ছোট জেলা মেহেরপুর। ইতিহাস ঐতিহ্যে কৃষিতে সমৃদ্ধ মেহেরপুর জেলা। বন্যামুক্ত মেহেরপুরের জমি সমতল আর উর্বর মাটি ও আবহাওয়া কৃষির জন্য উপযোগী। সব ধরনের বীজ উৎপাদন করার অপার সম্ভাবনা থাকার কারণে দেশের একমাত্র সরকারি বীজ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বিএডিসি’র ছোট বড় মিলিয়ে মোট ১৩ টি অফিস রয়েছে। এখানে আছে বিএডিসি’র প্রায় ১০০০ একরের ৫টি বীজ বর্ধন খামার। এগুলো হচ্ছে: বিএডিসি খামার বারাদী, চিতলা ভিত্তি পাট বীজ খামার গাংনী, সবজি বীজ খামার আমঝুপি, ডাল তেল বীজ উৎপাদন খামার; আমঝুপি, এগ্রো সার্ভিস সেন্টার, বারাদী ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে কন্টাক্ট গ্রোয়ার্স সার্ভিস। বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, হিমাগার, ডাল তেল কন্টাক্ট গ্রোয়ার্স, পাট বীজ

প্রক্রিয়াতকরণ কেন্দ্র, বিপনণ সেন্টার প্রভৃতি। কৃষিতে সমৃদ্ধ মেহেরপুরে বিএডিসি সরকারি ভাবে ধান, গম, আলু, পাট, ডাল, তেলসহ সব ধরনের ফসলের ভিত্তি প্রত্যায়িত ও মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন করে থাকে।
মেহেরপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২৭ একরের হর্টিকালচার সেন্টারটি সদর উপজেলার বারাদীতে অবস্থিত। যেখানে বিভিন্ন ধরনের ফল ফুল শাক সবজির চারা সরবরাহ করা হয়ে থাকে। বেসরকারিভাবে বিভিন্ন বীজ উৎপাদন কোম্পানীগুলো ও বিভিন্ন ধরণের মান সম্পন্ন বীজ তৈরি করে থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলায় উৎপাদনের অন্যতম উপকরণ বীজ চাহিদার বেশিরভাগ পূরণ হয়ে থাকে মেহেরপুরের কৃষকদের উৎপাদিত বীজের মাধ্যমে।
সদর উপজেলার দিঘিরপাড়া, কালাচাঁদপুর, হরিরামপুর, বুড়িপোতা, শালিকাসহ জেলার প্রতিটি গ্রামের মাঠজুড়ে সব ধরণের বীজ উৎপাদন কার্যক্রম আছে।

পৌর ব্লকের ৯০০ হেক্টর চাষযোগ্য জমির মধ্যে এক তৃতীয়াংশ জমিতে করা হয়েছে শুধুই লালশাক ও পালংশাকের বীজ। কৃষক পর্যায়ে ভাল মানের বীজ উৎপাদন, বিতরণ ও সংরক্ষণ করার কাজে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের নানানভাবে উদ্বুদ্ধকরণ করা হয়ে থাকে।
সদর উপজেলার কালাচাঁদপুর এলাকার চাষি মনিরুল ইসলাম, দবির উদ্দিন এর সাথে কথা বলা জানা গেল, তারা এসব সবজি বীজ উৎপাদন করেন বেসরকারি বীজ উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের জন্যে। বীজ উৎপাদন করা যেকোন ফসল থেকে এখন অনেক বেশী লাভজনক।
চাষিরা জানান, ৬ মাসে তারা পুঁইশাকের বীজ আবাদ করে এক বিঘা জমি হতে নীট মুনাফা পান ৪০-৪৫ হাজার টাকা। লালশাকের বীজ করে এক বিঘা জমি হতে তিন মাসে নীট মুনাফা ২৫-৩০ হাজার টাকা। কিন্তু ধান গম চাষে এমন লাভ পাওয়া যায় না। তাই মেহেরপুর সদরের কাঁলাচাঁদপুরের কৃষকেরা এখন ব্যাপকহারে সবজি বীজ উৎপাদন করে যাচ্ছেন।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. মো:আক্তারুজ্জামান জানান-কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ হতে আমাদের সকল স্তরের সম্প্রসারণ কর্মীরা নিরন্তর কৃষকদের পাশে থেকে ভালমানের বীজ উৎপাদনের জন্যে বীজ উৎপাদন প্রযুক্তি ও অনান্য কারিগরী সহায়তা অব্যাহত রেখেছেন।

No Comment.