যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও নিজেদের পাপ মোছন করতে পারবে না, তারা দুর্ভাগা


অথর
ডোনেট বাংলাদেশ ডেক্স   ধর্ম ও জীবন
প্রকাশিত :৯ মে ২০১৯, ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ

শুরু হয়েছে রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস মাহে রমজান। দ্বীনদার মুসলমানদের জন্য এ মাসের গুরুত্ব অত্যধিক। কেননা, আল্লাহ পাক নিজে রোজাদারদের বিনিময় (নেয়ামত) দান করবেন। যারা এ মাস পেয়েও নিজেদের পাপ মোছন করতে পারবে না, তারা দুর্ভাগা। যে ব্যক্তি রমজানের রোজা পরিপূর্ণভাবে পালন করবে, ওই ব্যক্তি সদ্যভূমিষ্ঠ শিশুর মতো নিঃষ্পাপ হয়ে যাবে।

কতজন কতভাবে কত কারণে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকে আর থাকেন। অথচ রমজানে তারাই পালিয়ে পালিয়ে খাবার গ্রহণ করে! ভুলে যায় তারা অতীতে দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকার বিষয়টি। ভুলেও মনে করে না না-খেয়ে কত কাজ তারা সেরেছে অনায়াসে, অথচ রোজা এলে তারা দিনের বেলা পানাহারে বেকুল! আল্লাহ এ নরাধমদের

হেদায়েত দান করুন।

আবার একটা শ্রেণী আছে রোজা-নামাজ করে, আবার সুদ, ঘুষ, মানুষ ঠকানোর ব্যবসা করে, করে মিথ্যাচার, রক্ষা করে না আমানতদারি; তারা না বদলালে কপালে দুর্ভোগ আছে বৈকি। তাদের এসব অপকর্মের কারণে তাদের নামাজ-রোজা কোনো কাজে আসবে না বলে মনে করছেন ইসলামী চিন্তাবিদরা। আল্লাহ এ শ্রেণীর মানুষকেও হেদায়েত দান করুন।

রোজা মানুষকে শারীরিকভাবে একটা কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসে। শরীরে এর যে প্রভাব পড়ে, তা রোজাদারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনে বৈকি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঙ্গে ২০ রাকাত তারাবির নামাজ জামায়াতে পড়ার ফলে শারীরিক যে ব্যায়াম হয়, তা টনিকের মতো কাজ করে। যে কারণে রোজা ডায়াবেটিক রোগীদেরও কাবু করতে পারে না। বরং

সুফল বয়ে আনে।

রোজা রাখার মধ্য দিয়ে মানুষ উপলব্ধি করতে পারে ক্ষুধার জ্বালা বা কষ্ট। ফলে হতদরিদ্র ও নিরন্ন মানুষের না খেয়ে থাকার কষ্ট তাদের পক্ষে বোঝা সহজ হয়। মূলত রোজা হলো শরীরের যাকাত। সম্পদশালীদের যেমন নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ থাকলে জাকাত আদায় করতে হয়, তেমনি কোনো মুসলমান নর-নারীর সাত বছর হলে শরীরের যাকাতস্বরূপ রোজা রাখতে হয়। এর মধ্য দিয়ে পুণ্যের পাশাপাশি শরীর ও মন সতেজ থাকে। শরীর ও মনে বাড়ে সহ্যশক্তি।

রোজা রেখে গর্হিত কাজ করা যায় না। গর্হিত কথা বলা যায় না। মানুষের অনিষ্ট করা যায় না। পর নিন্দা করতে নেই। কাউকে গালমন্দ বলতে নেই। আজান ছাড়া উঁচুগলায় কথা বলতে নেই।

কারো সঙ্গে রাগারাগি করতে নেই। উত্তম হলো বেশি বেশি কোরআন শরীফ তেলায়াত, নফল নামাজ, ক্ষমা চাওয়া ও আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকা।

রমজানকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ১০ দিন রহমত, মাঝখানের ১০ দিন মাগফিরাত, পরের ১০ দিন নাজাতের। আমরা এখন রহমতের মধ্যে আছি। রহমতের মধ্যে যদি আমরা আল্লাহ রহমত অর্জনে সক্ষম না হই, এর চেয়ে দুঃখ ও বেদনার আর কিছু হতে পারে না। আর রমজান মাস পেয়েও যারা গুনাহ মাফ পাওয়ার সুযোগ পায়নি, তাদের চেয়ে হতভাগা আর কেউ হতে পারে না।

লেখক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান