লম্বা, কালো ও ঘন চুল পাওয়ার ঘরোয়া টোটকা


অথর
টিপস নিউজ ডেক্স   জীবনধারা
প্রকাশিত :১৯ আগস্ট ২০১৯, ২:৫৩ অপরাহ্ণ | পঠিত : 138 বার
লম্বা, কালো ও ঘন চুল পাওয়ার ঘরোয়া টোটকা

সাজসজ্জার প্রতি সব মেয়ের চিরকাল আকর্ষণ আছে। হাজার একটা সাজের জিনিসের মধ্যে অন্যতম চিন্তা এবং আকর্ষণের বিষয় হলো মেয়েদের চুল। আজ পর্যন্ত খুব কম সংখ্যক মহিলা দেখা গিয়েছে যার নিজের চুল ভালোলাগে না বা নিজের চুল ভালো রাখার প্রতি কোনো আসক্তি নেই। হ্যা, এটা ঠিক যে অনেক সময় নিত্য নতুন ফ্যাশনের সাথে তাল মিলাতে চুল নানান ভাবে সেট করেন বা কাটেন। কিন্তু যত্ন নেন না বা সময় পেলে তার যত্ন নিতে চান না এমনটা বোধ হয় খুব কম।

চুল মহিলাদের এমন একটা বিষয় যা খুব যত্নের সাথে খেয়াল রাখতে হয়। শরীরের উপর থেকে নিচে অব্দি যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সাজলেও

অনেকেই ভাবেন যে শেষ ফিনিশিং টাচ দেয় কারুর চুল। অনেকের মতে ভালো চুল বা খারাপ চুল পুরোটাই নির্ভর করে আমাদের যত্ন নেওয়ার উপর। যেভাবে আমরা আমাদের শরীরের যত্ন নিচ্ছি ঠিক সেভাবেই চুলের যত্ন নেওয়া উচিত।

কিন্তু কর্মব্যস্ততার কারণে প্রায় অনেকেই মেনে নেবেন যে সময়ের এবং সুযোগের অভাবে সঠিক যত্ন নেওয়া হয়ে ওঠে না। অথবা সময় মিললেও কেউ জানেন না কীভাবে চুলের খেয়াল রাখা উচিত। কেউ বা অনলাইনে হাজার একটা উপায় দেখে বিভ্রান্ত। সহজ কিছু উপায়ে চুলের যত্ন কীভাবে নেবেন? জানাবো এই প্রতিবেদনে।

১. ভালো খাবার খান সবার আগে দরকার ভালো খাওয়া দাওয়া। আমাদের শরীর ঠিক রাখতে যেমন সব সময় ভালো

খাওয়া-দাওয়া করার দরকার হয়, ঠিক তেমনি আমাদের চুলের যত্ন নেয়ার জোর এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য ভালো খাবারের প্রয়োজন আছে। একজন পুষ্টি বিশারদ এর কাছ থেকে সঠিক ডায়েট নিজের জন্য বেছে নিন যে সমস্ত খাবার খেলে আপনার চুল সঠিক পুষ্টি পাবে এবং সঠিক বৃদ্ধি পাবে। সবুজ শাকসবজি, মৌসুমী ফল, বাদাম নিজের রোজকার ডায়েটে অবশ্যই রাখুন।

২. ম্যাসেজ করুন কৃষি ক্ষেত্রে চাষ করার আগে যেমন বীজ ছড়িয়ে জমি কর্ষণ করতে হয় ঠিক তেমনি চুলের গোড়া ভালো রাখতে গেলে নিয়মিত চুলের মেসেজ করার দরকার আছে। এটা মনে করা হয় যে সঠিক ভাবে চুল আঁচড়ালে এবং ম্যাসেজ করলে চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন

বৃদ্ধি পায়। এর জন্য কোন পার্লারে যাওয়ার দরকার পড়ে না।

নিজের চুলের পরিমাণ অনুযায়ী সপ্তাহে একদিন বা দুদিন ভালো কোন নারকেল তেল বাদাম তেল দিয়ে নিজের হাতে ম্যাসেজ করলেও অনেক উপকার পাওয়া যায়। একই সাথে নিজের চুল আঁচড়ানোর ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যে যে চিরুনি দিয়ে আঁচড়ান তা যেন পরিষ্কার হয় এবং মোটা দাঁতের হয় কেননা সরু দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করলে অনেক সময় চুলের গোড়া ফেটে যায়। ফলে চুল ঝরার বা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৩.চুলের আগা কাটুন অনেকেই লম্বা চুল রাখা পছন্দ করেন কিন্তু লম্বা চুল শুধু রাখলেই হয় না কেননা লম্বা চুলে অতিরিক্ত চুল পড়ার সম্ভাবনা

থাকে এবং চুলের আগা ফেটে যায় বা চুল রুক্ষ হয়ে যায়। ফলে নিয়মিত একটা নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে নিজের চুল পারলে নিজের ট্রিম করুন বা পার্লারে গিয়ে করিয়ে নিন। এতে আপনার চুলের দৈর্ঘ্যের খুব তেমন কিছু পরিবর্তন হবে না বরং ভালো থাকবে আপনার চুল।

৪. বেশি শ্যাম্পু করবেন না চুল পরিষ্কার রাখার জন্য আমরা বেশিরভাগ সময় শ্যাম্পু বেছে নি। চুলের যত্ন নেওয়ার জন্য বেশি দাম দিয়ে ভালো কোম্পানি শ্যাম্পু কিনে ব্যবহার করি। কিন্তু এই শ্যাম্পু অনেক রকম রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে তৈরি হয় যার মধ্যে কিছু রাসায়নিক ক্ষতিকারক হতে পারে আমাদের চুলের জন্য। এছাড়াও বারবার চুলে শ্যাম্পু করলে চুল রুক্ষ এবং শুষ্ক হয়ে যায় ফলে চুল তার নিজের জৌলুস হারিয়ে ফেলে। ফলে অল্প দিনের মধ্যেই চুল নিষ্প্রাণ বা প্রাণহীন দেখায়। তাই চেষ্টা করুন চুলে কম শ্যাম্পু করার।

৫. দুশ্চিন্তা কমান অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা যেমন আমাদের শরীরের ক্ষতি করে, ঠিক তেমনি আমাদের চুলের ক্ষতি করে। অনেকেই শুনে থাকবেন যে আমাদের বড়রা অনেক সময় বলে থাকেন যে এত চিন্তা করলে চুল পড়ে যাবে। তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও আছে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় রক্ত সঞ্চালনের ব্যাঘাত ঘটলে তার প্রভাব আমাদের চুলের গোড়ার ফলিকলেও এসে পড়ে। ফলে ফলিকল শুকিয়ে যায় এবং চুল পড়া শুরু হয়।

৬. প্রাকৃতিক প্যাক বেছে নিন পার্লারে গিয়ে অনেক সময় চুলের পরিচর্যা করার সময় অনেকের হয়ে ওঠে না। তাতে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সময় না পেলে ঘরের কাজ করতে করতেই প্যাক বানিয়ে নিতে পারেন। চুলে অতিরিক্ত খুশকির সমস্যা হলে দই আর লেবু দিয়ে প্যাক বানিয়ে নিন। চুল রুক্ষ হলে কলা আর মধুর প্যাক বানিয়ে নিন।

চাইলে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে নিন। আজকাল যেকোনো ওষুধের দোকানে এই ভিটামিন ই ক্যাপসুল কিনতে পাওয়া যায়। অতিরিক্ত হেনা কখনোই করবেন না কারণ এটা মনে করা হয় যে অতিরিক্ত হেনা করলে তার কণা চুলের গোড়ায় আটকে থাকে দীর্ঘদিনের ব্যবহারে। চা পাতার নির্যাস চুলের জন্যে খুব ভালো। চাইলে লিকার চায়ের নির্যাস দিয়ে প্যাক বানিয়ে মাথায় ব্যবহার করতে পারেন।

৭. জীবনযাত্রার পরিবর্তন সর্বোপরি জীবনযাত্রার মান উন্নত করুন। ধুলো ময়লা ঘেরা জায়গা এড়িয়ে চলুন বা না পারলে অন্তত চুলে যাতে কিছু ঢাকা থাকে বা টুপি তার ব্যবস্থা করুন। প্রচুর পরিমাণে জল খান। পর্যাপ্ত জল শরীরের দূষিত পদার্থ বের করে দেয়। ভালোভাবে ঘুমান। দুশ্চিন্তা থেকে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে এসেনশিয়াল তেল কিনতে পাওয়া যায় যার কিছু রূপভেদ ঘুম আনতে এবং স্নায়ু শান্ত রাখতে সাহায্য করে।