‘শিক্ষক বাঁচলে শিক্ষা বাঁচবে, শিক্ষা বাঁচলে দেশ বাঁচবে’


অথর
শিক্ষক নিউজ ডেক্স   খোলা মতামত
প্রকাশিত :১৫ মে ২০১৯, ১০:০২ পূর্বাহ্ণ
‘শিক্ষক বাঁচলে শিক্ষা বাঁচবে, শিক্ষা বাঁচলে দেশ বাঁচবে’

শিক্ষকের জীবনধারণের জন্য যথেষ্ট অর্থের প্রয়োজন হয়। অথচ এই মহান পেশায় যাঁরা নিয়োজিত, তাঁদের নেই কোনো অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা। সামাজিক মর্যাদা ও সম্মানজনক জীবনধারণ উপযোগী বেতন-ভাতা না থাকায় মেধাবীরা শিক্ষকতায় আকৃষ্ট হচ্ছেন না। শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব, এ দুর্মূল্যের বাজারে বেতন-ভাতার অপ্রতুলতা, শিক্ষাকে রাজনীতিকরণ এবং বাণিজ্যিকীকরণের উদ্ভট মানসিকতা, শিক্ষকদের প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সীমাহীন ঔদাসীন্য ও অবহেলাই যেন এ পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য বহুলাংশে দায়ী। তাই শিক্ষকদের বেতন-কাঠামো এমন হতে হবে, যাতে সমাজে শিক্ষকতা পেশার গুরুত্ব ও মর্যাদা, শিক্ষকতায় কোনো ব্যক্তির যোগদান তার ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিফলিত হয় এবং শিক্ষকদের মধ্যে বেতনসংক্রান্ত কোনো বৈষম্য বা সংঘাতের সৃষ্টি না করে। জ্ঞান

অন্বেষণের গুরুত্ব ও শিক্ষকের মর্যাদা প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেন, ‘যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?’ (সূরা আয-যুমার, আয়াত-৯) জ্ঞাননির্ভর সমাজ গঠনে প্রয়োজন মানুষ গড়ার কারিগর। তাই শিক্ষকদের পর্যাপ্ত পেশাগত স্বাধীনতা থাকা দরকার। যেহেতু শিক্ষকেরা শিক্ষাদানের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি—যেমন, শিক্ষার উপকরণ ও শিক্ষা পদ্ধতি বিষয়ের—বিশেষভাবে ওয়াকিবহাল, সেহেতু তাঁদের ওইসব বিষয় নির্বাচন কিংবা নির্ধারণ করার স্বাধীনতা দিতে হবে। শিক্ষকেরা যাতে পাঠ্যপুস্তক কিংবা শিক্ষাদান সংশ্লিষ্ট পদ্ধতি অনুমোদিত কর্মসূচির আওতায় শিক্ষাসংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় নির্ধারণ বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন সে বিষয়ে তাঁদের পর্যাপ্ত সুযোগ দান করতে হবে। শিক্ষকেরা সমাজের বিবেক ও স্পন্দন। সামাজিক কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামি দূর করার

ব্যাপারে শিক্ষকদের অবিস্মরণীয় অবদান আজও এ ভূখণ্ডের মানুষেরা ভক্তিভরে স্মরণ করে। শিক্ষকেরা হচ্ছেন দেশ গড়ার প্রধান নিয়ামক শক্তি। তাই ইসলামের আলোকে শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদা অন্তত নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকদের আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষাদানে তৈরি করে তুলতে হবে। জ্ঞানার্জনের জন্য প্রয়োজনে সুদূর চীন দেশে পর্যন্ত যেতে বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শিক্ষা অর্জন করো।’

বিশ্ব শিক্ষক দিবস (৫ অক্টোবর) বিকশিত অবদানের মাধ্যমে সচেতনতা, সমঝোতা এবং উপলব্ধির বহিঃপ্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যা শিক্ষকদের শিক্ষার প্রগতিকে আরও প্রসারিত করবে নিঃসন্দেহে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে শিক্ষার স্বীকৃতি আদায় করে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণ ও শিক্ষাদাতা শিক্ষকদের

প্রাপ্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিক্ষকসমাজ আজ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বৈষম্য-বঞ্চনার অবসান দাবিতে, নির্যাতন-নিপীড়ন প্রতিরোধে শিক্ষকের ন্যায্য অধিকার রক্ষার উদ্দেশে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে তাঁদের মূল ধ্বনি: ‘শিক্ষক বাঁচলে শিক্ষা বাঁচবে, শিক্ষা বাঁচলে দেশ বাঁচবে’। দেশব্যাপী শিক্ষকদের বৈধ অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষা করা, শিক্ষকদের জীবনের মান উন্নত করার ব্যাপারে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, আদর্শ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করা এবং শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করা সর্বোপরি দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।