শিক্ষাক্ষেত্র সৃষ্ট বৈষম্য ও তার সমাধানের উপায়


অথর
শিক্ষক নিউজ ডেক্স   খোলা মতামত
প্রকাশিত :১৫ মে ২০১৯, ২:১২ অপরাহ্ণ
শিক্ষাক্ষেত্র সৃষ্ট বৈষম্য ও তার সমাধানের উপায়

আমি ছোট থেকে জাতির পিতার দেখানো যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখে বড় হয়েছি বর্তমানে তার ধারেকাছেও পৌছাতে পারিনি। এজন্য ভাবছি হাজারো সমস্যাকে ব্যাখ্যা করতে না পারলেও অন্তত শিক্ষার ব্যাপারে কিছু লিখার চেষ্টা করবো। একটি রাষ্ট্রের সকল সমস্যার মূলে রয়েছে অপরিকল্পিত ও মানহীন শিক্ষা। আর এর পেছনে কাজ করছে অনেকগুলো কারন যেমন মানহীন শিক্ষক নিয়োগ, মানসম্পন্ন শিক্ষকদের অপর্যাপ্ত পারিশ্রমিক, শিক্ষকদের প্রমোশনে প্রতিবন্ধকতা, ৯৮% শিক্ষা পরিচালনাকারী বেসরকারি শিক্ষকদের পেনশন ব্যবস্থা চালু না করে বরং অতিরিক্ত টাকা কর্তনের হীন মানসিকতা প্রকাশ, পরিকল্পনাহীন ও উদ্দেশ্যহীন পাঠ্যক্রম। এগুলো সবই একটি রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট। আমরা সকলে যেভাবে নিজ নিজ পরিবারের ভাগ্য উন্নয়ন করতে

গিয়ে ন্যায় অন্যায় না ভেবে অন্যকে ক্ষতিগ্রস্থ করে, সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করে রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছি। মনে রাখতে হবে এই রাষ্ট্রে কিন্তু ভবিষ্যতে আপনার আমার সকলের সন্তানেরই বসবাস করতে হবে? আত্ম তুষ্টির জন্য রাষ্ট্রে বৈষম্য সৃষ্টি করে যারা ভাবছেন নিজে বেচে যাবেন আমি মনে করি মোটেও নয় রাষ্ট্রের বিপর্যয় যখন হবে তখন আপনি আমি ও আমাদের পরিবার কেউ রক্ষা পাবোনা। তাই সময় থাকতে আমরা সকলেই একত্রিত হয়ে রাষ্ট্রের কল্যানে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে ভালবেসে দেশ গড়ার কাজে ঝাপিয়ে পরি। আর এজন্য প্রয়োজন শিক্ষা ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মান উন্নয়ন। আর যদি আমরা সত্যিই দেশকে ভালবেসে কাজ করতে চাই তাহলে আমাদেরকে

যা করতে হবে –
১। প্রথমেই নাগরিকের সুশিক্ষার জন্য সু-পরিকল্পনা করতে হবে এবং তা অবশ্যই এদেশের শিক্ষাবিদদের কর্তৃক রচিত হবে কোন আমলা কর্তৃক নয়।
২। রাষ্ট্রের সুশিক্ষার জন্য একমুখী শিক্ষা চালু করতে হবে কারন একটি রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য যেহেতু এক। তাই বহুমুখী শিক্ষা একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনা।
৩। এই সুশিক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য যে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ প্রয়োজন তার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাব অনুযায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন করা উচিত।
৪। শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র আকর্ষণীয় বেতন স্কেল তৈরি করা উচিত যা দেখে মেধাবীরা এ পেশায় আকৃষ্ট হবে।
৫। বেসরকারি শিক্ষকদের অতিরিক্ত ৪% কর্তন বন্ধ করে তাদেরকে পেনশনের আওতায়

আনা উচিত।
৬। প্রতিষ্ঠানের আয় সরকার নিয়ে সকল প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করে শিক্ষার গুন ও মানের নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠা করা উচিত।
এই লেখাগুলো রাষ্ট্রের সকল স্তরের মানুষদেরই ভেবে দেখা উচিত বলে আমি মনে করি। তবে এই কাজগুলো করতে গেলে কিছু ব্যক্তির সামান্য স্বার্থের ক্ষতি হলেও রাষ্ট্রের বৃহৎ কল্যান হবে বলে আমার ধারনা।
মোঃ সবুর আহাম্মদ খান
প্রভাষক- রসায়ন বিভাগ
পয়ালগাছা পোস্টগ্রাজুয়েট কলেজ।