শিশুকে অ্যালার্জি থেকে রক্ষা করুন


অথর
ডোনেট বাংলাদেশ ডেক্স   স্বাস্থ্য কথন
প্রকাশিত :৮ অক্টোবর ২০১৯, ২:৩৫ অপরাহ্ণ
শিশুকে অ্যালার্জি থেকে রক্ষা করুন

অ্যালার্জি থেকে শিশুকে রক্ষা করা খুব জরুরি। বিশ্বজুড়ে এ নিয়ে ইদানীং বিস্তর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকরা। অ্যাজমা বা অ্যালার্জির প্রাদুর্ভাব নির্ভর করে মূলত জেনেটিক এবং পরিবেশের ওপর। পরিবেশগত বিষয়গুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখে শিশুদের কীভাবে ভালো রাখতে পারি, সে ব্যাপারে আলোচনা করা হলো।

একসময় শিশুদের অ্যাজমা বা অ্যালার্জিতে তাদের খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব নিয়ে বেশ বিতর্ক ছিল। সম্প্রতি গবেষণায় অ্যাজমা বা অ্যালার্জির সঙ্গে শিশুদের খাদ্যাভ্যাসের সম্পর্ক বেশ ভালোভাবেই পরিলক্ষিত হয়েছে। যেসব শিশু নিয়মিত (৬ মাস) শুধু মায়ের বুকের দুধ পান করে, তাদের চেয়ে যারা টিনের কৌটার দুধ বা অন্যান্য ডেইরি দুধ পান করে, তাদের অ্যাজমা বা অ্যালার্জিতে আক্রান্তু হওয়ার ঝুঁকি বেশি পরিলক্ষিত হয়।

পরিবার

বা বংশে অ্যাজমা বা অ্যালার্জি আছেÑ এমন শিশুদের নিয়ে এক গবেষণা পরিচালিত হয়। বিভিন্ন খাদ্যাভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে এসব শিশুকে পাঁচটি গ্রুপে ভাগ করা হয় এবং তাদের ১৮ মাস বয়স পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা হয়। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, যেসব শিশু শুধু বুকের দুধ পান করেছে এবং ওই সময় তাদের মায়েরা হাইপোঅ্যালার্জিক খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করেছেন, তাদের মধ্যে ২০ শতাংশের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের অ্যাজমা এবং অ্যাকজিমা হয়।

পরবর্তী গ্রুপ, যেসব শিশু মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য টিনজাত দুধ বা খাদ্য গ্রহণ করেছে এবং তাদের মায়েরা খাদ্য গ্রহণে কোনো পরিবর্তন করেননি, তাদের ৭০ শতাংশ পরবর্তীকালে অ্যাজমা, অ্যালার্জি এবং অ্যাকজিমাসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়।

এ ছাড়া যেসব শিশুকে খুব তাড়াতাড়ি শক্ত খাবারে অভ্যস্ত করানো হয়, তাদের অ্যাজমা বা অ্যালার্জির ঝুঁকি বেশি।

অ্যালার্জির ঝুঁকিময় শিশু বা যেসব শিশুর অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি, তাদের প্রথম ৪-৬ মাস শক্ত খাবার না দেওয়াই ভালো এবং প্রথম ১২ মাস তাদের গরুর দুধ, বাদাম, ময়দা এবং মাছ না দেওয়া উত্তম। অনুরূপভাবে জন্মের পর কয়েক মাস যেসব শিশু ধূলিবালি, ধোঁয়া, পরাগ রেণু, মাইট, মোল্ড ইত্যাদির সংস্পর্শে আসে, তাদের পরবর্তী সময় অ্যাজমা, অ্যালার্জি, অ্যাকজিমা ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শিশুদের ধূলিবালি, ধোঁয়া, পরাগ রেণু, মাইট, মোল্ড ইত্যাদির সংস্পর্শে আসার আগেই ফিল্টার মাস্ক পরিধান করানো উচিত। শিশুকে এসব থেকে রক্ষা করতে

যেটা প্রয়োজন তা হলোÑ পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু এটা আমাদের দেশে এখনই তা সম্ভব নয়। তাই যেখানে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, সেখানে বাধ্যতামূলক ফিল্টার মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। তা হলেই অ্যালার্জি বা অ্যাজমা থেকে অনেকটাই রেহাই পাওয়া সম্ভব হবে।

চেম্বার : অ্যালার্জি, অ্যাজমা অ্যান্ড হলিস্টিক হেলথ কেয়ার, স্কাইটাচ রাজকোষ

৪৩/আর, ৫/সি পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা