শিশুদের ভালোবাসায় ইসলামের বিধান


অথর
ডোনেট বাংলাদেশ ডেক্স   ধর্ম ও জীবন
প্রকাশিত :১২ জানুয়ারি ২০২০, ১০:৩২ অপরাহ্ণ
শিশুদের ভালোবাসায় ইসলামের বিধান

প্রত্যেক শিশুকে আদর-স্নেহ-ভালোবাসায় বড় করা ইসলামী সৌন্দর্যের অন্যতম একটি দিক। সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নির্যাতনের চিত্র ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। শিশুদের ভালোবাসা ও তাদের প্রতি আমাদের কর্তব্য সম্পর্কে ইসলাম যে দিকনির্দেশনা দিয়েছে তা মেনে চলা একান্ত কর্তব্য। সভ্যতার সংকট ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে বাঁচার জন্য শিশুদের প্রতিপালনে ইসলাম-ঘোষিত নির্দেশিকা বাস্তবায়ন ও চর্চা সময়ের দাবি। শিশু অধিকার রক্ষায় ইসলামের রয়েছে বিজ্ঞানধর্মী বক্তব্য। শিশুর সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে, তার সঠিক বিকাশের জন্য কোন কোন বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে- এসব বিষয় হাতে-কলমে শিখিয়েছেন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘এক বেদুইন রসুলুল্লাহর কাছে এসে

বলল, আপনারা শিশুদের চুমু দেন আমরা তো শিশুদের চুমু দিই না। উত্তরে রসুলুল্লাহ বললেন, আল্লাহতায়ালা তোমার অন্তর থেকে দয়ামায়া উঠিয়ে নিলে আমি কী করব?’ বুখারি। কোনো এক ঈদের দিন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজ আদায়ের জন্য বের হলেন। তিনি দেখলেন এক শিশু মলিন বেশে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। তিনি শিশুটির মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কাঁদছ কেন? শিশুটি জবাবে বলল, আমার বাবা-মা বেঁচে নেই। আমি অসহায়, ঈদে আমার কোনো পোশাক নেই, তাই কাঁদছি। আল্লাহর রসুল শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে ঘরে ফিরে এলেন, তাকে গোসল করিয়ে নতুন পোশাক দিলেন এবং বললেন আজ থেকে আমি মুহাম্মদ তোমার বাবা, আয়েশা তোমার

মা, ফাতিমা তোমার বোন। নবীজির আদর পেয়ে শিশুটি তার দুঃখ ভুলে গেল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু শিশুদের ভালোই বাসতেন না, তাদের খোঁজখবরও নিতেন। মাঝেমধ্যে তাদের সঙ্গে রসিকতাও করতেন। অনেক সময় ঘোড়া সেজে নাতি হাসান, হোসাইনকে পিঠে নিয়ে আনন্দ করতেন। হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বাড়িতে আসতেন। আমার ছোট ভাই, তার উপনাম ছিল আবু উমায়ের। তার একটি বুলবুলি পাখি ছিল। সে তার প্রিয় পাখিটি নিয়ে খেলা করত। একদিন পাখিটি মারা গেল। অতঃপর কোনো একদিন রসুলুল্লাহ আমাদের বাড়ি এসে দেখলেন আবু উমায়েরের মন খারাপ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আবু উমায়ের! মন খারাপ কেন? সবাই বলল, তার

বুলবুলি পাখিটা মারা গেছে। তখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে আবু উমায়ের! তোমার বুলবুলিটির কী হয়েছিল?’ সুনানে আবু দাউদ। একজন নবী ও রাষ্ট্রপ্রধান হয়েও শত ব্যস্ততার মাঝে তিনি শিশুদের খোঁজখবর নিতেন। এটি তাঁর সুমহান চরিত্রের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আসুন, এ শীতে পথেঘাটে থাকা নিরন্ন বস্ত্রহীন শিশুদের প্রতি আমরা স্নেহের হাত বাড়াই, শীতের পোশাক দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াই। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে শিশুদের সঙ্গে উত্তম আচরণ ও তাদের অধিকার আদায় করার তৌফিক দান করুন।