সবার কলরেট ৪৫ পয়সা শুধু গ্রামীণফোনের ৫০


অথর
প্রযুক্তির খবর নিউজ ডেক্স   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৩ মে ২০১৯, ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
সবার কলরেট ৪৫ পয়সা শুধু গ্রামীণফোনের ৫০

শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের কলরেট বাড়ানো হয়েছে। বেড়েছে আন্তঃসংযোগ ফিও। এমনকি অন্য অপারেটরদের প্যাকেজের অনুমোদন নিতে না হলেও গ্রামীণফোনকে এখন থেকে সব প্যাকেজ অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে বিটিআরসি থেকে। এমনকি চলমান প্যাকেজগুলোরও অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটির (এমএনপি) ক্ষেত্রে যে কোনো অপারেটরে গেলে ৯০ দিন সেখানে থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো গ্রাহক ৬০ দিনের মধ্যেই গ্রামীণফোন ছাড়তে পারবেন।

সিগনিফিকেণ্ট মার্কেট পাওয়ার বা এসএমপির অংশ হিসেবে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার বিটিআরসির সিস্টেম এন্ড সার্ভিস বিভাগের উপ-পরিচালক সাবিনা ইসলাম স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় গ্রামীণফোনের উপর এসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বিটিআরসির কমিশন বৈঠকে

এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসএমপি ঘোষিত কোম্পানি হিসেবে আরো বেশ কিছু বিধি নিষেধের মধ্যে পড়তে হবে গ্রামীণফোনকে। এই সিদ্ধান্তগুলো সেই প্রক্রিয়ারই অংশ।

গ্রামীণফোনকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, অন্য অপারেটরদের যেখানে সর্বনিম্ন কলরেট ৪৫ পয়সা, সেখানে গ্রামীণফোনের সর্বনিম্ন কলরেট হবে ৫০ পয়সা। আন্তঃসংযোগ ফি (এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে) অন্য অপারেটরদের ১০ পয়সা। সেখানে গ্রামীণফোনকে দিতে হবে ১৫ পয়সা। অর্থাত্ টেলিটক থেকে যদি কেউ গ্রামীণফোনে ফোন করেন তাহলে টেলিটক গ্রামীণফোনকে আন্তঃসংযোগ ফি হিসেবে ১০ পয়সা দেবে। কিন্তু গ্রামীণফোন থেকে কেউ যদি টেলিটকে ফোন করেন তাহলে গ্রামীণফোন টেলিটককে ১৫ পয়সা দেবে।

পাশাপাশি বর্তমানে সবগুলো অপারেটরই প্যাকেজ তৈরি করে বিটিআরসিকে অবহিত করলেই হয়।

কিন্তু এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রামীণফোনকে শুধু অবহিত করলে হবে না, বিটিআরসি থেকে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। এমনকি বিদ্যমান প্যাকেজগুলোরও অনুমোদন লাগবে। একই সঙ্গে এমএনপিতে নতুন কোনো গ্রাহক এলে ৯০ দিন ওই নেটওয়ার্কে থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে এটা করা হয়েছে ৬০ দিন। এসব বিষয়ে গ্রামীণফোনের কোনো আপত্তি থাকলে ১৫ দিনের মধ্যে বিটিআরসিকে জানাতে বলা হয়েছে।

কিছুদিন আগে গ্রামীণফোনকে এসএমপি ঘোষণা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক। তিনি বলেছিলেন, ‘গ্রামীণফোনকে এসএমপি ঘোষণা করা হয়েছে কয়েক মাস আগে। এসএমপি কি কি সেক্টরে ঘোষণা করা হবে সে বিষয়ে আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। আমরা হাইকোর্টে গিয়েছিলাম। হাইকোর্ট বলেছেন

ওদেরকে (গ্রামীণফোন) ১৫ দিন সময় দিন। একটা ব্রিদিং স্পেস দিতে। আমরা ১৫ দিন সময় দিয়েছিলাম। ১৫ দিন সময় শেষ হয়েছে। এখন ব্যবস্থা নেব।’ এরপরই এই সিদ্ধান্ত এল।