ONLINE এমপিও ভূক্তির আবেদনে জন্য যেসব কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়


অথর
শিক্ষক নিউজ ডেক্স   খোলা মতামত
প্রকাশিত :৮ জানুয়ারি ২০২০, ২:২৭ অপরাহ্ণ
  • 87
    Shares
ONLINE এমপিও ভূক্তির আবেদনে জন্য যেসব কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়

বর্তমান যুগ ডিজিটাল যুগ। বেসরকারী শিক্ষক/কর্মচারীদের সরকারি বেতনভঅতা প্রাপ্তির লক্ষে অনলাইনে বেতন প্রাপ্তির জন্য আবেদন করতে হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও ভূক্তির প্রক্রিয়াটি সম্পুর্ণ অনলাইন ভিত্তিক হওয়াতে যেমন সুবিধা হয়েছে তেমনি অসুবিধাও কিন্তু একেবারে কম নয়। বিশেষ করে নব-নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক/কর্মচারীরা অনলাইনে এমপিও ভূক্তির আবেদন করতে গিয়ে বিভিন্ন অসুবিধায় পড়েন। এর মূল কারণ হলো অনলাইন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে না পারা। আজকে আমি আপনাদের সাথে অনলাইন এমপিও আবেদন সংক্রান্ত কিছু বিষয় শেয়ার করবো। আশা করি যারা নতুন এমপিও ভূক্তির জন্য আবেদন করছেন বা করবেন কিংবা এমপিও নিয়ে কাজ করেন তাদের উপকারে

আসবে।অনলাইনে এমপিও ভূক্তির আবেদনের ক্ষেত্রে প্রথমেই যে সমস্যাটি দেখা দেয় তা হলো প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি সংগ্রহ করা। বিশেষ করে যারা নতুন তাদের কাছে এমপিও ভূক্তির প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো সংগ্রহ করা বেশ কঠিন একটা কাজ। অনেকে আবার বুঝেও না কোনটা কোন জায়গা থেকে কিভাবে সংগ্রহ করবেন।তাই আজকের পোষ্টে এমপিও ভূক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র কোনটি কোথায় থেকে কিভাবে সংগ্রহ করবেন সে বিষয়ে আলোচনা করবো এবং প্রতিটি ডকুমেন্টের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরবো যাতে করে এমপিও ভূক্তির আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষক/কর্মচারীদের ভূগান্তি কিছুটা লাঘব হয়। আর যতদূর জানা যায়, এমপিও ভূক্তির আবেদনে বাড়তি কোন প্রকার টাকা-পয়সা লাগে না। তাই যে কোন প্রকার অর্থ লেন-দেনের ক্ষেত্রে সতর্ক

থাকুন।]নীচের তালিকায় নতুন এমপিও ভূক্তির ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য আবেদন যেমন- টাইম স্কেল, বিএড স্কেল, ট্রান্সফার, ইনডেক্স ডিলিট ইত্যাদি আবেদন করতে যেসব ডকুমেন্টের প্রয়োজন হয় সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো। সকল ডকুমেন্ট পিডিএফ (১১০কেবি) করে পাঠাতে হয়।
1.Institute Head Forwarding
প্রতিষ্ঠান প্রধানের আবেদন। আবেদনের মূল অংশ এটিই। উপ-পরিচালক বরাবর এবং মাধ্যম যথাযথ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান প্রধান সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের এমপিও ভূক্তির জন্য আবেদন করবেন। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্যাডে এই আবেদনপত্র লিখতে হবে এবং নীচে বাম দিকে প্রধান শিক্ষকের সীল, স্বাক্ষর এবং তারিখ থাকবে। ডান দিকে প্রতিষ্ঠানের সভাপতির সীল (যদি থাকে) এবং স্বাক্ষর দিতে হবে।
2.Filled up teacher/staff information form
এই ফরমটি সংশ্লিষ্ট

প্রতিষ্ঠানের এমপিও সার্ভার থেকেই ডাউনলোড করা যায়। ফরমটি অনেক বড়। এতে শিক্ষকের ব্যক্তিগত তথ্য, একাডেমিক তথ্য, প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত তথ্যসহ অনেক কিছু ফিলাপ করতে হয়। তবে ফরমের প্রথম তিনটি পাতা দিলেই চলে। বাকী পৃষ্ঠাগুলোতে বিভিন্ন তথ্যের নমুনা দেয়া থাকে যেগুলো না দিলেও হয়। ফরমের নির্ধারিত জায়গায় প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং সভাপতির সীলসহ স্বাক্ষর দিতে হবে। প্রার্থীর নিজেরও স্বাক্ষর করতে হবে এই ফরমে।
3. Original News Paper
প্রতিষ্ঠান কর্তৃক শিক্ষক/কর্মচারী নিয়োগের জন্য যে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল সেই পত্রিকার মূল কপি স্ক্যান করে দিতে হবে। উল্লেখ্য যে, ফটোকপি গ্রহণযোগ্য নয়। তবে কোন ক্ষেত্রবিশেষ যদি অরিজিনাল কপি না পাওয়া যায় তাহলে

ফটোকপি সত্যায়িত করে দিলে হবে।
4 Academic Certificate SSC/Equivalent (Original)
এখানে আপনার এসএসসি/দাখিল/ইকুইভ্যালেন্ট পাশ সনদের মূল কপি স্ক্যান করে দিতে হবে। ফটোকপি গ্রহণযোগ্য হবে না। সত্যায়িত করে দিলেও তা গ্রহণযোগ্য নয়। মনে রাখবেন, এমপিও আবেদনে যে কোন প্রকার সার্টিফিকেট ফটোকপি বা অস্পষ্ট দিলে আবেদন গ্রহণ করবে না।
5.Academic Certificate HSC/Equivalent (Original)
এখানে আপনার এইচএসসি পাশ/ইকুইভ্যালেন্ট বা সমমান পাশের সার্টিফিকেটের মূল কপি স্ক্যান করে দিতে হবে।
6. Academic Certificate BA/Equivalent (Original)
এখানে আপনার বিএ পাশ/ইকুইভ্যালেন্ট বা সমমান ডিগ্রীর সার্টিফিকেটের মূল কপি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
7.Academic Certificate MA/Equivalent (Original)
এখানে আপনার এমএ পাশ/ইকুইভ্যালেন্ট বা সমমান ডিগ্রীর সার্টিফিকেটের মূল কপি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
8.Academic Certificate Others (Original)
আদার্স সার্টিফিকেট বলতে উল্লেখিত একাডেমিক সার্টিফিকেট ছাড়াও যদি অন্য কোন ট্রেইনিং বা ট্রেডের সার্টিফিকেট থাকে তবে
সেগুলো আদার্স অপশনে আপলোড করতে হবে।
9.B.Ed Certificate (Original)
আপনি যদি বিএড ডিগ্রী অর্জন করে থাকেন তবে এখানে বিএড সার্টিফিকেটের মূল কপি স্ক্যান করে দিতে হবে।
10. NTRCA (Original)
আপনি যদি নিবন্ধনধারী শিক্ষক হন তবে এখানে আপনার এনটিআরসিএ কর্তৃক প্রদত্ত নিবন্ধন সনদের মূল কপি স্ক্যান করে দিতে হবে।
11. Mark Sheet of Bachelor Degree Exam
এখানে আপনার ব্যাচেলর ডিগ্রী বা অনার্সের সার্টিফিকেটের মূল কপি স্ক্যান করে দিতে হবে।
12. Appoinment Letter (Original)
আপনার নিয়োগপত্রের অরিজিনাল কপি স্ক্যান করে দিতে হবে। ফটোকপি গ্রহণযোগ্য নয়।
13.Joining Letter (Original
আপনার যোগদানপত্রের অরিজিনাল কপি স্ক্যান করে দিতে হবে। ফটোকপি গ্রহণযোগ্য নয়।
14. Bank Account Slip & Certificate
যে ব্যাংকে আপনার হিসাব খোলা হয়েছে সেই ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র এবং সাথে টাকা জমা দেওয়ার রশিদ। সাধারণত যে ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠানের মাসিক বেতনের টাকা উত্তোলন করা হয় সেই ব্যাংকের নির্ধারিত শাখায় যোগাযোগ করলে এই ব্যাংক সনদটি পাওয়া যাবে। অরিজিনাল ব্যাংক সনদের সাথে অবশ্যই টাকা জমা দেওয়ার স্লিপের মূল কপি স্ক্যান করে দিতে ভূলবেন না। এ ক্ষেত্রে ফটোকপি গ্রহণযোগ্য নয়।
15. No. Of Student of Related Subject/ Religion
প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীর তালিকা। অর্থাৎ কোন শ্রেণীতে এবং কোন বিভাগ/গ্রুপে কত জন ছাত্র-ছাত্রী বর্তমানে অধ্যয়নরত আছে তার একটি তালিকা প্রতিষ্ঠানের প্যাডে লিখে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে হাতের লেখার চেয়ে কম্পিউটারে কম্পোজ করে দেওয়ায় ভালো। তালিকার নীচের অবশ্যই প্রতিষ্ঠান প্রধানের সীলসহ স্বাক্ষর থাকতে হবে।
16.Library Particulars
প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরী সংক্রান্ত তথ্য। লাইব্রেরীতে কোন কোন বিষয়ের কতগুলো পূস্তক মওজুদ আছে এবং কি কি সুবিধা বিদ্যমান তা উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানের প্যাডে প্রতিষ্ঠান প্রধানের সীলসহ স্বাক্ষর করে লাইব্রেরী পার্টিকিউলার্স তৈরি করতে হবে। যদি আপনার প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরী না থাকে তবে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এবং লাইব্রেরী সংক্রান্ত তথ্যাদি জানা না থাকলে বা ঝামেলা হলে- প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্যাডে প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানা উল্লেখ পূর্বক প্রতিষ্ঠানে যে একটি লাইব্রেরী আছে সেটা উল্লেখ করে প্রত্যয়ন পত্র দিলেও চলবে।
17. Laboratory Particulars
এটাও লাইব্রেরী পার্টিকিউলার্স-এর মতোই। আপনার প্রতিষ্ঠানে যদি বিজ্ঞানাগার বা ল্যাবরেটরী থাকে তবে আপনার জন্য ল্যাবরেটরী পার্টিকিউলার্স প্রয়োজ্য হবে, আর না থাকলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
18.Original Requirement Result Sheet (C.S)
এটি হলো সংশ্লিষ্ট পদে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল শীট। অর্থাৎ শিক্ষক নিয়োগকল্পে যে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, সেই পরীক্ষার রেজাল্ট শীটকেই সিএস বলে। সিএস কপিতে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, প্রধান শিক্ষ, অভিভাবক সদস্য এবং ডিজি’র প্রতিনিধির সীল এবং স্বাক্ষর থাকতে হবে।
19. MPO Copy
এটা হলো ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত মাসিক স্যালারি শীট। এমপিও ভূক্ত শিক্ষকগণের নামের তালিকা সংবলিত এই শীটটি প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা যে ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হয় সেই ব্যাংক থেকে দেয়া হয়। এটা সাধারণত প্রতিষ্ঠানেই সংরক্ষিত থাকে। প্রতিষ্ঠান প্রধান বা কেরানিকে বললেই পেয়ে যাবেন।
নতুন এমপিও ভূক্তির আবেদনের বেলায় প্রতিষ্ঠানের সর্বপ্রথম এমপিও কপি এবং সর্বশেষ এমপিও কপির প্রয়োজন হয়। অরিজিনাল কপি না পাওয়া গেলে বা সংগ্রহ করতে কষ্ট হলে ফটোকপি সত্যায়িত করে দিলেও চলবে।
প্রধান শিক্ষক কিংবা সহকারী প্রধান শিক্ষকদের ট্রান্সফারের আবেদনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্কেল প্রাপ্তির এমপিও শীট সংযোজন করতে হয়।
20 Resolution of SMC/GB/MMC (সকল রেজুলেশন একত্রে করে পিডিএফ করতে হবে। )
প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক অনুষ্ঠিত রিজুলেশন/আলোচনা সভার বিবরণী। সাধারণত একটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সেই সভার আলোচ্য বিষয়াদি এবং সিদ্ধান্ত সমূহ রেজুলেশন খাতায় লিপিবদ্ধ করা হয় এবং তা প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত থাকে। এমপিও আবেদনে এই রেজুলেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট। সঠিক রেজুলেশন ছাড়া এমপিও পাওয়া অসম্ভব।
নতুন এমপিও ভূক্তির আবেদনে সাধারণত পাঁচটি রেজুলেশনের প্রয়োজন হয়। সেগুলোর তালিকা বিশ্লেষণসহ নীচে দেওয়া হলো।
20(ক) শূণ্যপদ ঘোষণা এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ সংক্রান্ত রেজুলেশন
আপনি যে পদে নিয়োগ পেয়েছেন। সেই পদটি যদি শূণ্যপদ হয় অর্থাৎ আপনার আগে কেউ উক্ত পদে কর্মরত থেকে থাকেন তবে আপনার জন্য শূণ্যপদের রেজুলেশন প্রয়োজন হবে। কেননা, এটা দিয়ে আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে, আগে যিনি ছিলেন তিনি এখন আর কর্মরত নেই এবং তার পদটি শূণ্য। আর এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্ট কমিটির সিদ্ধান্ত এবং অনুমোদন রয়েছে। সাধারণত কোন পদ শূণ্য হলে সেই পদে শিক্ষক নিয়োগকল্পে পত্রিকায় বা অন্য কোন মাধ্যমে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এই বিষয়টিও রেজুলেশন খাতায় লেখা থাকে। সুতরাং নতুন এমপিওর আবেদনে শূণ্যপদ এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের রেজুলেশন অবশ্যই দিতে হবে।
20(খ) নিয়োগ বোর্ড গঠন সংক্রান্ত রেজুলেশন
কোন পদে শিক্ষক/কর্মচারী নিয়োগের জন্য একটি নির্বাচনী বোর্ড গঠন করা হয়ে থাকে। আর এ বিষয়টি যথারীতি রেজুলেশন খাতায়ও লিপিবদ্ধ করা হয়ে থাকে। নতুন এমপিও ভূক্তির আবেদনে নিয়োগ বোর্ড গঠনের রেজুলেশনও দিতে হবে।
20(গ) নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশ সংক্রান্ত রেজুলেশন
কোন শিক্ষক/কর্মচারী নিয়োগকল্পে যখন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ অনুষ্ঠিত হয় তখন নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড কর্তৃক উপযুক্ত প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। এটাকেই বলে নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশ। এই বিষয়টি নিয়েও সাধারণত আলোচনা হয়ে থাকে এবং তা রেজুলেশন খাতায় লিপিবদ্ধ করা হয়। এমপিও আবেদনে নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশ রেজুলেশন অবশ্য দিতে হবে।
20(ঘ) নিয়োগ অনুমোদন সংক্রান্ত রেজুলেশন
প্রতিষ্ঠানে কোন শিক্ষক/কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যখন সমস্ত কাজ সম্পন্ন হয় এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক/কর্মচারীকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয় তখন তাঁর নিয়োগ ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক অনুমোদন করতে হয়। এটাই নিয়োগ অনুমোদন রেজুলেশন।
20(ঙ) যোগদান অনুমোদন সংক্রান্ত রেজুলেশন
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সমস্ত কাজ শেষে যখন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক/কর্মচারী নিজ পদে যোগদান করে তখন আবারও ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক তাঁর যোগদান অনুমোদন করতে হয়। এটাকেই বলে যোগদান অনুমোদন রেজুলেশন।
উপরোক্ত রেজুলেশনগুলা ছাড়া নতুন এমপিও আবেদন কোনভাবেই এক্সেপ্ট হবে না। তাই আবেদন করার আগে রেজুলেশনগুলো সংগ্রহ করে তবেই আবেদন সম্পন্ন করুন। অন্যথায় আবেদন রিজেক্ট হবে। উল্লেখ্য যে, রেজুলেশন গুলো মূল খাতা থেকে স্ক্যান করে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। কিন্তু কোন কারণে মূল খাতা সংগ্রহ করতে ঝামেলা হলে ফটোকপি সত্যায়িত করে দিলেই চলবে।
21.Teacher-staff Statement
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্যাটার্ন বা তালিকা। এমপিও ভূক্ত কিংবা নন-এমপিও ভূক্ত সকল শিক্ষক-কর্মচারীগণের নাম এই প্যাটার্নে থাকতে হবে। এবং যে এমপিও প্রার্থী তার নামের পার্শ্বে মন্তব্যের ঘরে ‘আবেদিত’ কথাটি লিখে দিলে ভালো হয়।
22. Resignation/Death Certificate/Clearence
পদত্যাগপত্র অথবা মৃত্যু সনদ অথবা ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। এখানে তিনটা সার্টিফিকেটের কথা বলা হয়েছে। কোনটা কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তা ভালোভাবে খেয়াল করুন।
আপনি যে পদে এমপিও ভূক্তির জন্য আবেদন করছেন, সেই পদে যদি পূর্বে কোন শিক্ষক/কর্মচারী কর্মরত থেকে থাকেন তবে তিনি চাকুরীতে নেই কেন? তিনি কি পদত্যাগ করেছেন নাকি মৃত্যুবরণ করেছেন নাকি অন্য কোন কারণে চাকুরীতে নেই সে সম্পর্কে একটি সার্টিফিকেট প্রদান করতে হবে। আপনার ক্ষেত্রে কোনটা প্রযোজ্য হবে?
আপনার পূর্বের শিক্ষক যদি পদত্যাগ করে থাকেন তবে ওনার পদত্যাগপত্রটি স্ক্যান করে দিতে হবে। আর যদি পূর্বের শিক্ষক/কর্মচারী মৃত্যুবরণ করে থাকেন তবে ওনার মৃত্যু সনদ স্ক্যান করে দিতে হবে। এবং যদি পূর্বের শিক্ষক/কর্মচারীর চাকুরীর মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়ে থাকে অর্থাৎ ষাট বছর পূর্তিতে চাকুরী হতে অব্যাহতি গ্রহণ করে থাকেন তবে সেই ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে একটি ক্লিয়ারেন্স দিতে হবে যে পূর্বের শিক্ষকের চাকুরীর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন আর কর্মরত নেই এবং তার পরিবর্তে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং উক্ত শিক্ষকের এমপিও ভূক্তির জন্য আবেদন জানাচ্ছি।
আর যদি পদটি সৃষ্টপদ হয় অর্থাৎ আগে এই বিষয়টি প্রতিষ্ঠানে ছিল না কিংবা নতুন একটি বিষয় প্রতিষ্ঠানে খোলা হয়েছে এবং সেই বিষয়ে আপনাকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। তবে সেই ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বিষয়টি উল্লেখপুর্বক একটি ক্লিয়ারেন্স দিতে হবে।
23. Non drawal Bank Certificate (Original)
আপনি যে পদে নিয়োগ পেয়েছেন সেই পদে পূর্বে যে শিক্ষক কর্মরত ছিল তার ব্যাংক সার্টিফিকেট/প্রত্যয়নপত্র। এটি যে ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতাদি উত্তোলন করা হয় সেই ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করলেই পেয়ে যাবেন।
24.Last Recognition of Institute
প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ স্বীকৃতি অনুমোদনের কপি। অর্থাৎ বোর্ড কর্তৃক প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি অনুমোদনের যে পত্রটি দেয়া হয়েছে তার অরিজিনাল কপি স্ক্যান করে আপলোড দিতে হবে। কোন কারণ বশতঃ অরিজিনাল কপি পাওয়া না গেলে ফটোকপি সত্যায়িত করে দিলেই চলবে।
এখানে উল্লেখ্য যে, আপনার প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির মেয়াদ যদি শেষ হয়ে গিয়ে থাকে তবে স্বীকৃতি নবায়নের জন্য যে আবেদন করা হয়েছে সেই আবেদনের কপি এবং সেই সাথে আবেদনের ফি জমাদানের রশিদের মূলকপি স্ক্যান করে সংযুক্ত করতে হবে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, কারণ প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির মেয়াদ না থাকলে এমপিও আবেদন মঞ্জুর হবে না।
25. Last Approval of SMC/GB/MMC
প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ অনুমোদিত কমিটি অনুমোদনের কপি। অর্থাৎ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি অনুমোদনের যে পত্র দেয়া হয়েছে সেটির অরিজিনাল কপি সংযুক্ত করতে হবে। মূল কপি পাওয়া না গেলে ফটোকপি সত্যায়িত করে দিলেও চলবে। মনে রাখবেন, প্রতিষ্ঠানে যদি কমিটির অনুমোদন না থাকে তবে এমপিও পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
Subject Approval/Section opening Letter (Original)
আপনি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পেয়েছেন সেই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয়/বিভাগ বা শাখা খোলার অনুমোদনের কপি 26.সংযুক্ত করতে হবে। কোন প্রতিষ্ঠানে যখন নতুন কোন বিষয় বা শাখা খোলা হয় তখন বোর্ড থেকে অনুমোদন আনতে হয়। এমপিও আবেদনে সেইসব বিষয় বা শাখা অনুমোদনের কপি সংযুক্ত করতে হবে। অরিজিনাল পাওয়া না গেলে ফটোকপি সত্যায়িত করে দিলেও চলবে।
27.Location Certificate (Where Necessary)
অবস্থানগত সনদপত্র। আপনার প্রতিষ্ঠানটি যে এলাকায় অবস্থিত সাধারণ সেই এলাকার ওয়ার্ড কমিশনার/কাউন্সিলর/মেম্বার কর্তৃক এটি দেয়া হয়ে থাকে। এটিতে প্রতিষ্ঠানের নাম, যে স্থানে অবস্থি সেই স্থানের ঠিকানা উল্লেখ থাকে এবং সব শেষে নীচে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সীলসহ স্বাক্ষর দেয়া থাকে। আপনার প্রতিষ্ঠানে যদি লোকেশন সার্টিফিকেট না থাকে তবে স্থানীয় মেম্বার/কমিশনা/কাউন্সিলর-এর নিকট থেকে এটি সংগ্রহ করুন। এটা এক প্রতিষ্টান থেকে অন্য প্রতিষ্টানে নিয়োগের ক্ষেত্রে
Release letter
রিলিজ লেটার বা ছাড়পত্র। এটি সাধারণত এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলির আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। বিশেষ করে ইনডেক্সধারী শিক্ষক/কর্মচারীরা যখন এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগদান করে এবং নিয়োগ পাওয়া নতুন প্রতিষ্ঠান থেকে এমপিও ভূক্তির আবেদন করে তখন পূর্বের প্রতিষ্ঠান থেকে একটি ছাড়পত্র আনতে হয়। এটি সাধারণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক দিয়ে থাকে।
Professional Certificate
প্রফেশনাল সার্টিফিকেট। এটি সাধারণ ট্রান্সফার আবেদন, টাইম স্কেল/উচ্চতর স্কেল/ বিএড স্কেল ইত্যাদি আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক এটি দেয়া হয়ে থাকে। এতে আপনার নাম, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা, পদবী, ইনডেক্স নম্বর, যোগদানের তারিখ, এমপিও ভূক্তির তারিখ ইত্যাদি উল্লেখ থাকে।
Experience certificate
এক্সপেরিয়েন্স বা অভিজ্ঞতার সনদপত্র। এটিতেও প্রফেশনাল সার্টিফিকেটের মতোই বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ থাকে যা সাধারণত কর্মরত প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক দেয়া হয়ে থাকে।
Non-Break of Service Certificate
কর্মে বিরতি নেই মর্মে প্রত্যয়ন পত্র। অর্থাৎ যোগদানের পর থেকে অবিরত আপনি নিজ পেশায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন সে সম্পর্কিত একটি প্রত্যয়নপত্র। এটিও সাধারণত প্রতিষ্ঠান প্রধান দিয়ে থাকে।
NTRCA কর্তৃক নিয়োগকৃত শিক্ষকদের এমপিও ভূক্তির আবেদনের ক্ষেত্রে নিচের কাগজপত্রগুলো সংযোজন করতে হবে।
01. এপ্লিক্যান্ট কপি।
02. এপয়েন্টমেন্ট স্ট্যাটাস।
03. জয়েনিং স্ট্যাটাস।
04. এপয়েন্টমেন্ট লেটার কনফার্মেশন।
05. ই-রিকুইজিশন।
06. এনটিআরসিএ-এর সুপারিশপত্র।
যারা এমপিও আবেদন সংক্রান্ত কাগজপত্র তৈরি করতে ঝামেলায় আছেন তারা এমপিও ভূক্তির আবেদনের প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্রের নমুনা কপি নীচের লিংক থেকে ডাউনলোড করতে পারেন। আশা করি এই নমুনা কপিগুলো আপনার আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়ক হবে।
আমার লেখাটি যদি কাহারো কোন উপকারে আসে, তাহলে আমার লেখা স্বার্থক হবে। এই পোষ্টটি যদি আপনার বিন্দুমাত্রও উপকারে আসে তবে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না এবং অন্যান্যদের সাথেও লেখাটি শেয়ার করুন যাতে সবাই উপকৃত হতে পারে। আর এমপিও ভূক্তির আবেদন সংশ্লিষ্ট কোন প্রকার সাহায্যের প্রয়োজনে আমাকে নক করতে পারেন, আমি সাধ্যমতো সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো। মোবাইল নং ০১৭২৬০৩৪১৮৬ । ধন্যবাদ

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
প্রধান শিক্ষক
তাহের মাধ্যমিক বিদ্যারয়
ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া।